শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:১৩ এএম, ২০২৪-০৭-১৫
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে উপজেলার বলরামপুর গ্রামে শুধু প্রকৌশলীর গাফিলতিতে বন্ধ প্রায় দেড় কোটি টাকার সেতুর দুপাশের সংযোগ সড়কের কাজ। সেতুর দুপাশের সংযোগ সড়কের জন্য যে ভূমি অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন তা না করেই জোরপূর্বকভাবে সড়কের জন্য জমি নিতে চেষ্টা করলে প্রকৌশলীর নামে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী জমির মালিক। যার ফলে মূল ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হলেও ব্রিজের দুপাশে নতুন সড়কের অভাবে জনসাধারণ এবং যান চলাচলের জন্য চালু করা যাচ্ছে না ।
শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় দেড় কোটি টাকায় তৈরি করা নতুন ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মূল সড়ক সেতু বাদ দিয়ে পাশে নতুন করে বড় আকারে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। আর পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নতুন ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হলেও দুপাশে সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে মামলার কারণে।
এমন অবস্থায় পুরাতন ব্রিজের ওপরে যে ঢালাই, সেটা উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর নিচের পালেস্তরা খসে খসে পড়ছে অথচ প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিত্যক্ত বিজের ওপর দিয়ে প্রতিদিন শতশত ব্যাটারিচালিত ভ্যান, রিকশা, ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস চলাচল করছে।
অবস্থা এতটাই খারাপ যে যেকোনো ধরনের হালকা ও ভারী মোটরযান গেলেই ভূমিকম্পের মতো কাঁপুনি উঠে যায়। এই ব্রিজ নিয়ে এলাকাবাসী সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে থাকে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ব্রিজের নির্মাণ কাজটি জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আওতায়। উপজেলা হেডকোয়ার্টার (জামতৈল জিসি) ডি আর (আলোকদিয়ার নিকট)- বলরামপুর জিসি সড়কের ৭৭০০ চেইনেজ সড়কে নির্মিত বলরামপুর গ্রামের এ সেতু।
মামলাকারী জমির মালিক আব্দুল হাই বলেন, আমার ওখানে ১৫ শতক নিজস্ব কেনা সম্পত্তি অধিগ্রহণ হয়নি। যেখানে আগে ব্রিজ ছিল সেখানে না করে মালিকানা সম্পত্তির ওপরে ব্রিজ নির্মাণ করে গেছে। পরে আমি অভিযোগ দিয়েছি, তা তারা মানেনি। তখন আমি বাধ্য হয়েছি মামলা করতে। মামলা এখনো চলছে।
তিনি বলেন, এখান দিয়ে যে মালিকানা সম্পত্তি আছে সেটা না দেখেই জমির ওপর দিয়েই পরিকল্পনা করে গেছে। আমি নিষেধ করলে তারা মানেনি। মামলা করলে আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তখন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। জোর করে তারা জমি নিতে চাচ্ছে। দোষ হচ্ছে প্রকৌশলীর। তিনি আমার কথা শোনেননি। আমার জায়গা সরকার যদি নিতে চায় দিতে বাধ্য থাকব। তবে রাস্তার সুবিধার্থে আমাকে মূল্য দিয়ে তারা জায়গা নেবে।
সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সন্ধি ট্রেডার্সের ফয়সাল আহমেদ বলেন, যে মামলা করেছিল তার জায়গা বুঝতে ইউএনও এবং এসিল্যান্ড গিয়ে জায়গা মাপ করে দেখে পাশের জমির মধ্যে চাপছে কিন্তু সে সময় মালিক ছিল না। পাশে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ থাকলেও কিছু করার নাই। জায়গার মালিক আদালতে মামলা করায় কাজ বন্ধ রয়েছে। মামলা উঠে গেলে পাশের ব্রিজ যেহেতু ঝুঁকিপূর্ণ আমি ওই কাজটি করে দিতাম। বরাদ্দ যেদিন আসে আসল।
উপজেলা প্রধান প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওই কাজটার কথা মনে ছিল না। আশা করছি আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন সুলতানা বলেন, কিছু জায়গার অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় একটা মামলা চলমান। সে কারণেই হয়তো এ সংযোগ রাস্তাটুকু হচ্ছে না। সমন্বয় মিটিং এ কাগজ পত্রগুলো দেখে দ্রুত যাতে কাজটি করা যায় সেই ব্যবস্থা নেব।
তিনি বলেন, পাশের ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের সাইনবোর্ড দেব। যেন বড় গাড়িগুলো চলতে না পারে সেটা আমরা দেখব। বড় ধরনের ট্রাক যদি চলে এখানে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত