সড়কের কাজে ফাঁকিঝুঁকি

Passenger Voice    |    ০২:১৭ পিএম, ২০২৪-০৭-১১


সড়কের কাজে ফাঁকিঝুঁকি

মামলার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল বেলাব উপজেলার চরবেলাব-দুলালকান্দি সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ। ঈদুল আজহার কিছু দিন আগে পুনরায় শুরু হয় সড়কটির কাজ। তবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কিছু কিছু স্থানে বক্স কাটিং, বালু ভরাট ও সাব-বেইজ না করে শুধু মাটির ওপর ডাব্লিউ এমএম কার্পেটিং করা, তিন ফুট শোল্ডারে মাটি না দিয়েই কার্পেটিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সড়কটির তদারকির দায়িত্বে থাকা বেলাব উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএইচবি ট্রেডাস। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো মিথ্যা। তবে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কথা স্বীকার করে তারা বলেন, ওই ইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় চরবেলাব-দুলালকান্দি সড়ক প্রশস্তকরণ চলছে। ৩ হাজার ৮৫ মিটার সড়কটি প্রশস্তকরণের জন্য সরকার বরাদ্দ দেয় ৪ কোটি ৬৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৬ টাকা। সড়ক প্রশস্তকরণের দায়িত্ব পায় মেসার্স এমএইচবি ট্রেডাস নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের ২২ মের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু ২০২২ সালের জুন মাসে বাবার কবরের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ তুলে নরসিংদী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করে বসেন চরবেলাব গ্রামের মোহাম্মদ আলী মাস্টারের ছেলে মোহাম্মদ মহসিন। মামলায় আসামি করা হয় বেলাব উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের তৎকালীন কার্য সহকারী আবু সিদ্দিক, উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা শামসুল হক ভূঁইয়া ও এমএইচবি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নাজমুল হক ভূঁইয়া মোহনকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৩ হাজার ৮৫ মিটার সড়কের মধ্যে শুধু ৩০০ মিটার জায়গার জন্য মামলা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মামলার অজুহাত দেখিয়ে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি অবস্থায় রেখেই কাজ বন্ধ করে চলে যায়। ফলে ভোগান্তিতে পড়ে চরবেলাব-দুলালকান্দি সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বেলাব, নারায়ণপুর, সল্লাবাদ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় কয়েক লাখ মানুষ। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে যান চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে চলে প্রায় দুই বছর। সড়ক প্রশস্তকরণের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রাক্কলিত ব্যয় ঠিক রেখে দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ায়। দ্বিতীয় মেয়াদে চলতি বছরের ৩১ জুলাইর মধ্যে কাজ শেষ করার কথা।

সরেজমিন চরবেলাব ও দুলালকান্দি এলাকার সাধারণ মানুষদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এ সড়কের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একেবারে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছেন। এসব নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করে ঠিকাদার চলে যাবেন, কিন্তু ভোগান্তিতে পড়বেন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ।

চরবেলাব গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম খাঁন বলেন, এই সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ দুই বছর বন্ধ ছিল। এখন কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছে ঠিকাদার। সড়কের শুধু এক পাশেই মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। আরেক পাশের মাটি আলগাই। বক্স কাটিং (রাস্তার পাশে ২০ ইঞ্চি গর্ত করে বালু-খোয়া ফেলা) দেয়নি। তারা নিজস্ব খরচে অন্য জায়গা থেকে রাস্তায় মাটি ভরাটের কথা থাকলেও তা না করে সড়কের পাশের জমি থেকে মাটি কেটে ব্যবহার করছে। যার কারণে যে পাশ দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে সে পাশে ভাঙনের দেখা দিবে।

হাছেন আলী ও চাঁন মিয়া নামে দু’জন জানান, সড়কের কয়েকটি জায়গায় বক্স কাটিং না করে, বালু ভরাট না করে শুধু মাটির ওপর দিয়ে কার্পেটিং করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইটের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।

ছোটন মিয়া চরবেলাব গ্রামের এক দোকানদার বলেন, বক্স কাটিং না করে, এজিং (সাপোর্টিং) না করে ইট বসানো নিয়ে গত রোববার সকালে ঠিকাদারের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয়দের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ঠিকাদারের কাছে অভিযোগ করার পর ইট তুলে নেয় তারা।

ঠিকাদার নাজমুল হক ভূঁইয়া মোহন বলেন, ‘বক্স কাটিং, বালু ভরাট, সাব-বেইজ (বালু-খোয়ার মিশ্রণ করে পানি দিয়ে রোলিং করা) না করে ডব্লিউ এমএম কার্পেটিং করার কোনো সুযোগ নেই। এগুলো যারাই বলেছে মিথ্যা বলেছে। কাজ করলে কত মানুষ কত কিছুই বলে। এ কথায় কান দিয়ে লাভ নেই। বর্তমান সরকারের আমলে কাজে চুরি করার কোনো সুযোগ নেই। তবে নিম্নমানের ইট আনা হয়েছিল, পরে যখন আমি জানতে পারি সেগুলো সরিয়ে নিয়েছি।’

এলজিইডির বেলাব উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। যদি বক্স কাটিং না করে বালু ফিলিং না করে কার্পেটিং করে থাকে তাহলে পুনরায় কাজ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’