আজও ‘বাংলা ব্লকেড’, হতে পারে তীব্র যানজট

Passenger Voice    |    ১০:৩৩ এএম, ২০২৪-০৭-১০


আজও ‘বাংলা ব্লকেড’, হতে পারে তীব্র যানজট

কোটাবিরোধী আন্দোলনে ঘোষিত এক দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বুধবার (১০ জুলাই) সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অন্যদিকে, রাজধানীর শাহবাগে ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কটূক্তির প্রতিবাদে’ বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, প্রজন্ম ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সব সংগঠন। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলো তীব্র যানজটের কবলে পড়তে পারে।

যানজটের ফলে অফিস-আদালত ও কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ সড়ক ব্যবহারকারী সবাইকে দুর্ভোগে পড়তে হতে পারে। বিশেষত বিমানবন্দরে যারা যাবেন তাদের বাড়তি সময় নিয়ে বের হতে হবে। অন্যথায় ফ্লাইট মিস হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, সর্বাত্মক ‘বাংলা ব্লকেড’ অনুযায়ী বুধবার সারাদিন দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান অবরোধ করা হবে। পাশাপাশি হাইওয়ে এবং রেলপথও এ ব্লকেডের আওতায় থাকবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘২০১৮ সালের পরিপত্র যদি ফিরে আসে, তাহলে কোটা নিয়ে আবার ঝামেলা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমরা সরকার ও নির্বাহী বিভাগের কাছে সম্পূর্ণ সমাধান চাই। আমরা চাই সংসদে আইন পাস করে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে সব ধরনের বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে শুধু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় রেখে কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা হোক। সে দাবিতেই বুধবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা তথা সূর্যাস্ত পর্যন্ত সড়ক ও রেলপথ অবরোধ চলবে।’

কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বছর ছয়েক আগে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন গড়ে তোলেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। এর প্রেক্ষাপটে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর কোটা পদ্ধতি বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার। পরে ২০২১ সালে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর রুল জারি করেন। রুলে পরিপত্রের পাশাপাশি এর আগে দেয়া হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের আদেশ প্রতিপালন না করা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য অধিকারের প্রতি অবজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে গত ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট। 

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে, যা আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হয়ে ৪ জুলাই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। রিট আবেদনকারী পক্ষের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন আপিল বিভাগ নট টুডে বলে আদেশ দেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলা হয়। এ অবস্থায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গতকাল দুই শিক্ষার্থী আবেদন করেন। 

একই সঙ্গে কোটা পদ্ধতি বাতিলসহ চার দফা দাবিতে ১ জুলাই থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। সর্বশেষ কোটা বাতিলের এক দফা ঘোষণা করে গত রোববার থেকে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।