শিরোনাম
সিএনজি প্রতিস্থাপনে
Passenger Voice | ০১:৪০ পিএম, ২০২৪-০৬-৩০
রাজধানী ঢাকায় ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ১৩ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে নিবন্ধন দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এসব গাড়ির আয়ুষ্কাল ধরা হয় ১৫ বছর। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ধাপে ধাপে ২০১৮ সাল থেকে এসব গাড়ি ভাঙা শুরু করে বিআরটিএ। ইতোমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সব সিএনজি অটোরিকশা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
ভেঙে ফেলা সিএনজি অটোরিকশার মালিকদের নতুন করে আবার রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় বিআরটিএ থেকে। নতুন করে প্রায় ১২,৫০০টি সিএনজি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এসব সিএনজি অটোরিকশার প্রতিস্থাপন ও মেয়াদ বাড়ানোর নামে ১১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদ ও বিআরটিএর কর্মকর্তারা ঘুষ বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি করেছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করেন ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং-ঢাকা-৩৬৮০) এর সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন। গত ৩ ডিসেম্বর(রবিবার) এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের ঘটনায় ঢাকা মহানগরী সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলু বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিম (আমলী পল্টন) আদালতে হানিফ খোকনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১৩৯/২০২৪ (দণ্ডবিধি- ৫০০/৫০১/৫০২)
সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, আমি ঢাকা মহানগরী ব্যবসায়ী সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদ ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের ১১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ করায় আমার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে বরকত উল্লাহ বুলু মামলা করেছেন। এছাড়াও বিআরটিএর চিহ্নিত দালাল দেবাশিষ বিশ্বাস ও এনামুল হক ডালিম আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি প্রদান করছে। আমি ৩০ জুন সকালে উক্ত বিষয়টি উল্লেখ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবরে আবারও পত্র দিয়েছি।
হানিফ খোকনের অভিযোগে যা ছিলঃ সিএনজি অটোরিকশা প্রতিস্থাপনে সিএনজি অটোরিকশা ঐক্য পরিষদ ও বিআরটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তা গাড়িপ্রতি ৩০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়া সিএনজি অটোরিকশার ভাঙা অংশ মালিকদের না দিয়ে ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বরকত উল্লাহ বুলু ও সচিব এটিএম নাজমুল হাসান তা বিক্রি করে দিয়েছেন। “সিএনজি অটোরিকশাগুলোর নতুন রেজিস্ট্রেশনে অসাধু চক্রটি প্রত্যেক মালিক থেকে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। চক্রটি তাদের এমন কাজ পরিচালনায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘনিষ্ঠ সহচরদের দালাল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। দালালরা ঘুষের টাকা তুলে মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের শীর্ষ নেতাদের হাতে তুলে দেন। পরে তা বিআরটিএর অসাধু কর্মকর্তাদের মধ্যেও ভাগবাটোয়ারা হতো।”
মোহাম্মদ হানিফ খোকন জানান, ১২,৫০০ সিএনজি অটোরিকশা ভাঙা বাবদ গড়ে ৫০ হাজার টাকা করে ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা; রেজিস্ট্রেশন বাবদ ২৫ হাজার টাকা করে ৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং গাড়ির ভাঙা অংশ বিক্রি বাবদ ১০ হাজার টাকা করে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা হাতিয়েছে চক্রটি। এছাড়া সিএনজি অটোরিকশার মেয়াদ ৫ বছর বাড়ানোর জন্য ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “দুদকে অভিযোগ জানিয়েছি। আশা করছি দুদক এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখলে সব প্রমাণ পাবে। তারা কীভাবে কোটি টাকার মালিক হয়ে গেলো।”
অভিযোগের বিষয়ে মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, “এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। বিআরটিএ নিজস্ব বুলডোজার দিয়ে গাড়িগুলো ভেঙে দেয়। এগুলোর আশপাশ দিয়েও আমরা যাই না। আর রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গেও আমরা জড়িত না৷ এসব অভিযোগের কোনোও ভিত্তি নেই।”
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত