শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:০৮ পিএম, ২০২৪-০৬-১৫
ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে আজ শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২টি স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ৬৯ জোড়া ট্রেন চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার। তিনি বলেন, ‘আশা করছি এই ট্রেনগুলোর মাধ্যমে আজ সারা দিনে এক থেকে দেড় লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারবেন।’ শনিবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।
মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘সকাল থেকে এখন (এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত) পর্যন্ত ১৭টি লোকাল, মেইল, কমিউটার ও আন্তনগর ট্রেন ঢাকা ছেড়েছে। আজ সারা দিনে ২টা স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ৬৯ জোড়া ট্রেন চলাচল করবে। আশা করছি, এই ট্রেনগুলোর মাধ্যমে এক থেকে দেড় লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারবেন।’
মাসুদ সারওয়ার আরও বলেন, ‘গত ১২ জুন থেকে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহার যাত্রা শুরু হয়েছে। তিন দিনে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের গন্তব্যে যে সব ট্রেন আমরা পরিচালনা করেছি, সেগুলোর যাত্রীরা তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে এবং ভোগান্তি হীনভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।’
কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার আরও বলেন, ‘আজ সকাল থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন ঢাকা ছেড়ে গেছে। সবগুলো ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশন ত্যাগ করেছে। যাত্রীরা আমাদের ব্যবস্থাপনায় অনেকটা আনন্দিত হয়েছেন। আমরা এবার বিনা টিকিটে ভ্রমণ করার প্রবণতাটা একটু কম দেখেছি। যাত্রীরা সচেতন হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, ডিএমপি, র্যাব এবং বাংলাদেশের অন্যান্য বাহিনীগুলো সম্মিলিতভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ভোগান্তিহীন নিরাপদ ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরেছি। এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয় বা বিলম্ব—সবকিছু এড়িয়ে অত্যন্ত নিরাপদে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।’
বাংলাদেশ রেলওয়ে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী, বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের সকল পর্যায়ের একটি মনিটরিং টিম কাজ করছে উল্লেখ করে মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘আপনারা জানেন, আগামীকাল আমাদের ঈদযাত্রার শেষ দিন। শেষ পর্যন্ত যাতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকে এবং সুন্দরভাবে যাত্রীরা নিজ নিজ মন্তব্যে পৌঁছাতে পারে সে জন্য সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ও সহযোগিতায় আমরা সুন্দর একটি ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরেছি।’
টিকিট কালোবাজারি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশের রেলওয়ের চাহিদার তুলনায় জোগান অপ্রতুল। আমরা আমাদের সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ৩৩ হাজার ৫০০ আন্তনগর ট্রেনের পেরেছি। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ আমাদের ছিল না। কিন্তু এই ৩৩ হাজার ৫০০ টিকিটের বিপরীতে চাহিদা ছিল ব্যাপক। প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়তে চেয়েছিলেন আন্তনগর ট্রেনে।
তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ যাত্রী হয়তো অনলাইনে টিকিট কাটতে পারেননি। যারা পেরেছেন তারা বাড়িতে পৌঁছাতে পেরেছেন। এখন এই টিকিটগুলো পাওয়ার জন্য যে ব্যাপক চাওয়া, এটিকে পুঁজি করে এক শ্রেণির প্রতারক টিকিট প্রিন্ট আউট করে, এডিট করে বিভিন্নভাবে অনেককে প্রতারিত করেছেন। তাদের র্যাব ধরেছে। কালোবাজার থেকে টিকিট কিনে প্রতারিত হয়েছে এমন কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি।’
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘এগুলো সম্ভব হয়েছে আপনাদের কারণে। কারণ টিকিট যার, ভ্রমণ তার—এই সতর্কতামূলক বার্তাগুলো আপনারাই পৌঁছে দিয়েছেন ঘরে ঘরে। আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এভাবেই রেল এগিয়ে যাবে। আশা করি, আগামী দিনগুলোতেও টিকিট ব্ল্যাকের কোনো অভিযোগ শুনতে পাওয়া যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, এই টিকিট ব্ল্যাক বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে একটা ছিল—টিকিট যার, ভ্রমণ তার—নিশ্চিত করা, শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা, তিন ধাপের বিশেষ চেকিং কার্যক্রম, হেল্প ডেস্কের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং গোয়েন্দা নজরদারি।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত