শিরোনাম
Passenger Voice | ০৩:০১ পিএম, ২০২৪-০৬-১১
প্রতিবছর ঈদযাত্রায় ৯০ শতাংশ যাত্রীকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া গুনতে হয় বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সমিতি আরও বলেছে, প্রতিবার ঈদযাত্রায় সড়কে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া হয় চিহ্নিত চাঁদাবাজদের।
সোমবার (১০ জুন) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘প্রতিবছর ঈদে গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক বৃদ্ধিতে নাগরিক সমাজের উদ্বেগ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এসব কথা বলেন।
ঈদুল আজহার আগে বিভিন্ন বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়েও বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, ‘সরকার প্রতিবছর ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মুনাফার অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের প্রস্তুতি সভা করেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে দায়িত্ব দিলেও তারা সবাই মিলেমিশে ভাড়া নৈরাজ্য চালায়।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে গঠিত মনিটরিং কমিটিতে দায়িত্বে থাকেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি শুধু পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।’
মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাস্তবতা হলো ৯০ শতাংশের বেশি যাত্রীকে প্রতি ঈদে বাড়ি যেতে দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি ভাড়া দিতে হয়। এমন কি বিআরটিএ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ না করে বরং যাত্রীরা স্বল্প দূরত্বে গেলেও রুট পারমিটের শেষ গন্তব্য পর্যন্ত ভাড়া দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে থাকে। এ ছাড়া যারা সড়কে চাঁদাবাজিতে জড়িত, তাদের ওপর ঈদযাত্রায় সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে চাঁদাবাজরাই চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত আটকে দেয়।’
ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘লক্কড়-ঝক্কর বাস চালাতে যারা পৃষ্ঠপোষকতা করেন, ঈদযাত্রায় তাদের ওপর লক্কড়-ঝক্কর বাস চলাচল বন্ধের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতি ঈদে ফিটনেসবিহীন বাসের ছাদে, খোলা ট্রাকে, পণ্যবাহী পরিবহনে যাত্রী বহন কঠোরভাবে নিষিদ্ধের ঘোষণা বিভিন্ন পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।
তবে পরিবহনসংকট, বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে এসব পরিবহনের নিম্ন আয়ের মানুষদের যাতায়াত ঠেকানো যায় না।’
মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও জানান, এবার ঈদুল আজহায় ঢাকা থেকে ১ কোটি, গাজীপুর থেকে ৩৫ লাখ, নারায়ণগঞ্জ থেকে ১২ লাখসহ প্রায় দেড় কোটি মানুষ সারা দেশে যাতায়াত করবে। তিনি বলেন, এত বিপুল সংখ্যক যাত্রীর জন্য গণপরিবহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না করা গেলে পথে পথে মানুষের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনাও অনেকাংশে বাড়বে।
সভায় বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হাসান, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ আব্দুল হক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি তাওহিদুল হক লিটন, যুগ্ম মহাসচিব এম মনিরুল হক, প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. মহসিন প্রমুখ।
সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে আহ্সানিয়া মিশনের সুপারিশ
এদিকে গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরাপদ যাত্রা এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। সুপারিশমালার মধ্যে রয়েছে- মোটরযানের গতিসীমা নির্দেশিকা মেনে চলা; সড়ক ও পরিবহনের ধরন অনুযায়ী গতি নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত গাইডলাইন অতিসত্বর প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা। এ ছাড়া মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী উভয়েরই মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করা; যানবাহনে চালকসহ সব যাত্রীর সিটবেল্ট ব্যবহারসংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন করা; মোটরযানের উপযুক্ত শিশু সুরক্ষিত আসন ব্যবস্থা প্রচলনসংক্রান্ত বিধি-বিধান জারি করা; সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত