শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৫১ এএম, ২০২৪-০৪-০৪
আল্টিমেটাম দিয়েও সরানো যাচ্ছে না মেট্রোরেলের লাইনের ওপর দিয়ে টানা তার। রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এখনও প্রায় ৪৮টি ভবনের এপাশ থেকে ওপাশে টানা আছে বিভিন্ন সেবা সংস্থার ক্যাবল। সরেজমিন গিয়ে জানতে চাইলে নানা অজুহাত দেখিয়েছেন ভবন মালিকরা।
এপথে এমআরটিতে নির্বিঘ্নে চলাচলে এসব তার অপসারণের দাবি চলাচলকারী যাত্রীদেরও। উপায় না দেখে এবার সিটি করপোরেশনের সহায়তা চাইল ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
গত রোববার (৩১ মার্চ) মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক লাইনে অ্যালোমেনিয়ামের ফয়েল আটকে বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে মেট্রো চলাচল। গতির পথ হঠাৎ থমকে যাওয়ার কারণে বিপাকে পড়তে হয় সাধারণ যাত্রীদের। এবারই প্রথম নয়, কখনও ঘুড়ি, কখনও পলিথিন আবার কখনও লাইনের ওপর থেকে টানা ক্যাবল অপারেটর কিংবা ইন্টারনেটের তার পড়ে ব্যাহত হচ্ছে মেট্রো চলাচল।
এরইমধ্যে লাইনের ওপর থেকে তার সরাতে নির্দেশনা দিয়েও খুব একটা ফল মিলছে না ডিএমটিসিএলের। উত্তরা থেকে মতিঝিল প্রায় ৪৮টি ভবনের এপাশ ওপাশ জড়িয়ে আছে এসব তার। এতো কিছুর পরেও কেন তার সরানো যাচ্ছে না, অনুসন্ধানে পল্লবী এলাকার কয়েকটি ভবনে যায় সময় সংবাদ। বাইরে থেকে ছবি নিলেও মেলেনি ওই ভবনের ছাদে যাওয়ার অনুমতি। দেখানো হয় নানা অজুহাত।
যাত্রীরা বলেন, আমাদের নিজেদের স্বার্থে রাস্তার এক পাশ থেকে আরেক পাশে টানানো তার সরিয়ে নিতে হবে। আমাদের নগরবাসীর খেয়াল রাখতে হবে, আমাদের কোনো কারণে মেট্রোরেল চলাচলে যেন বাধাপ্রাপ্ত না হয়। আমরাই তো যাতায়াত করছি।
যানজটে থমকে থাকা নগরে এ পথে যে স্বস্তি এনেছে মেট্রোরেল, সেখানে বারবার যাদের জন্য এমন বাধা, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথাও জানান নগরবাসী।
অসহায় ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, ভবন মালিকদের অসহযোগিতায় দফায় দফায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে অপারেশন কাজ। তাই নগর কর্তৃপক্ষের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
এমআরটি লাইন সিক্স এর জিএম অপরারেশন মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন বলেন, কোনো একটা ঘটনা ঘটলে, আমরা যতটা ভোগান্তিতে না পড়ি তার চেয়ে বেশি ভোগান্তি পড়ে যাত্রীরা। অতত্রব এটা (তার সরানো) নিয়ে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে। আমাদের পক্ষে যেমন এ তারগুলো সরানোর কথা বলা হচ্ছে, তেমনি যাত্রীদেরও বলতে হবে। যে যার জায়গাতে আছে, সেখান থেকে তাকে উদ্যোগ নিতে হবে।
বর্তমানে উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় এবং মতিঝিল-এই ১৬টি স্টেশনে মেট্রোরেল চলাচল করছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ।
মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের চলাচল শুরু হয় ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর। এর একদিন আগে ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেল উদ্বোধন করেন। আর গত ৫ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশে যাত্রী চলাচল শুরু হয়। এরও একদিন আগে ৪ নভেম্বর প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
উত্তরা থেকে মতিঝিল ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ২১.২৬ কিলোমিটারের পুরো রুটটি ৪০ মিনিটেরও কম সময়ে ভ্রমণ করে মেট্রোরেল প্রতি ঘণ্টায় ৬০,০০০ যাত্রী বহন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২৪ জুন এমআরটি লাইন-৬ নামে পরিচিত মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। শুরুতে এই প্রকল্পের ব্যয় ছিল প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। মূলত মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১.৬ কিলোমিটার বাড়তি অংশ নির্মাণ, প্রতিটি স্টেশনের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন নতুন অনুষঙ্গ যুক্ত হওয়ায় খরচ বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা।
মেট্রোরেল প্রকল্প নেয়া হয় ২০১২ সালে। জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি হয় পরের বছর। মূল কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। শুরুতে মতিঝিল পর্যন্ত এই মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত