ঈদযাত্রা ঠেকাতে না পারলে করোনা প্রতিরোধে ব্যর্থ হবে সরকার: যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ

Passenger Voice    |    ০১:১৯ পিএম, ২০২০-০৫-১৮


ঈদযাত্রা ঠেকাতে না পারলে করোনা প্রতিরোধে ব্যর্থ হবে সরকার: যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ

ঈদুল ফিতরের ঈদযাত্রা ঠেকাতে না পারলে বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়ানো করোনা প্রতিরোধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রনে  সরকার ব্যর্থ হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। আজ ১৮ মে সোমবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবী জানায় সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে রাজধানীসহ সারাদেশে গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলছে। এই ছুটি চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদুল ফিতর। অথচ বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়ানো করোনা প্রতিরোধের জন্য সারাদেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে, বন্ধ রয়েছে গণপরিবহনও। সরকারের পক্ষ থেকে এবারের ঈদুল ফিতরের ঈদযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ঘোষনা করা হয়েছে। একই সাথে ঈদের আগে ৪ দিন, ঈদের দিন ও ঈদের পরের ২ দিন সব ধরণের যান চলাচলে কঠোর থাকার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। অথচ মানুষ ইতিমধ্যে অন্যান্য বছরের মতোই ঈদযাত্রার আমেজ নিয়ে ছুটছে বাড়ির দিকে। তবে গণ পরিবহন বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বাহন হিসেবে ব্যক্তিগত গাড়ী ও পণ্যবাহী যান ও মোটরসাইকেলকে বেছে নিয়েছে। কোন ভাবেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষগুলো গাদাগাদি করে নৌঘাট গুলো দিয়ে ফেরীতে পারাপার করছে। পুলিশবাহিনীর পক্ষ থেকে সর্ব্বোচ চেষ্টা করেও যা নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। এদিকে ভ্রক্ষেপ নেই সাধারণ মানুষের। 

বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দীন চৌধুরী বলেন, বিশ্বজুড়ে মহামারির এই প্রতিকুল পরিবেশের মধ্যে এবার পালিত হবে ঈদুল ফিতর। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের ঈদ আমাদের জন্য ভিন্নরকম। সারাদেশে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। করোনা সংক্রমণ থেকে সাধারণ মানুষ কে বাঁচাতে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসার দাবীদার। তবে ঈদযাত্রা ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সারাদেশে করোনার সংক্রমণ বিপুল ভাবে ছড়িয়ে যাবে। ঝুঁকি নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ী, পণ্যবাহী যান ও মোটরসাইকেল নিয়ে যেভাবে মানুষ ঈদযাত্রা শুরু করেছে এতে সড়ক দূর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনাও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরো বলেন, এবারের ঈদ যাত্রা ঠেকাতে শুধু পুলিশ বাহিনী নয়, পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা ও মাজিস্ট্রেটগণ এবং প্রতিটি জেলা-উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ী ও মোটরসাইকেল যেন এক জেলা থেকে অন্য জেলায়, এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলা চলাচল করতে না পারে সে বিষয়ে সকল সংস্থাকে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। পণ্যবাহী যানে যেন কোন ভাবে যাত্রী বহন করা না হয় এবং নৌঘাট গুলোতে ফেরী চলাচলে যেন কোন যাত্রী বহন করতে না পারে সে বিষয়ে সরকারকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে জানান তিনি।

এদিকে এবারের ঈদ যাত্রায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমন না করার জন্য যাত্রী সাধারণের প্রতি আহব্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।