শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৫৪ এএম, ২০২৪-০৩-০৬
ঈদযাত্রাকে ঘিরে প্রতি বছরই যানজটের মুখে পড়তে হয় ঘরমুখো মানুষকে। আসন্ন ঈদুল ফিতরেও যানজট হতে পারে—দেশজুড়ে এমন শতাধিক স্পট চিহ্নিত করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। তবে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যানজট নিরসনে বাড়তি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এ কাজে পুলিশের পাশাপাশি সহায়তা নেয়া হবে স্থানীয় প্রশাসনেরও। জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন গতকাল পঞ্চম অধিবেশন শেষে এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সড়ক, সেতু ও রেল সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রস্তাব করেন জেলা প্রশাসকরা। মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকেও জেলা প্রশাসকদের দেয়া হয় বিভিন্ন দিকনির্দেশনা।
অধিবেশন শেষে আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘সামনে ঈদ আছে। আমরা গত দুটি ঈদ সবার সহযোগিতায় যানজটমুক্ত রাখতে পেরেছিলাম। এবারো আমরা অনুরোধ করেছি, কিছু স্পট ঠিক করেছি এরই মধ্যে, সেগুলো হয়তো জানিয়ে দেব যেন এবারো ঈদটা সবাই যানজটমুক্ত রাখে। যে পয়েন্টগুলোয় যানজট হতে পারে, সেখানে তারা যেন সহায়তা করেন।’
কতগুলো স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘সারা দেশে যানজটের শতাধিক স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা সব জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশসহ সব অংশীজনের সমন্বয়ে একটা সভা করব। মন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতি বছর এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সবাইকে যানজটপ্রবণ পয়েন্ট বা স্পটগুলো জানিয়ে দেব। সংশ্লিষ্টদের এসব পয়েন্টে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হবে।’
এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের অন্য ম্যাজিস্ট্রেটদের যেন রাস্তায় রাখা হয়, সে অনুরোধ আমরা জেলা প্রশাসকদের করেছি। তারা বিষয়টায় সম্মত হয়েছেন।’
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের পঞ্চম অধিবেশনে জেলা প্রশাসকরা সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সম্পর্কিত ২২টি প্রস্তাব করেন। এ প্রসঙ্গে মহাসড়ক বিভাগের সচিব বলেন, ‘অধিকাংশ হচ্ছে রাস্তা সম্প্রসারণ, নতুন রাস্তা নির্মাণ, সেতু নির্মাণ সম্পর্কিত। জেলা প্রশাসকদের যেসব প্রস্তাব আমরা পেয়েছি, প্রায় সবক’টির সঙ্গেই আমরা একমত পোষণ করেছি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ছয় লেন করার প্রস্তাব। এটা আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, সমীক্ষা হচ্ছে। সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব এসেছে। এটাও আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। মূলত ডিসিদের কাছ থেকে যেসব প্রস্তাব পেয়েছি, সব হয়তো আমাদের ডিপিপি প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে অথবা সমীক্ষা পর্যায়ে আছে কিংবা নির্মাণকাজ চলছে।’
সচিব আরো বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব ছিল সড়ক নিরাপদ করতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা বাড়ানো। প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনার হার বাড়ছে। প্রতিটি জেলায় সড়ক নিরাপত্তা কমিটি রয়েছে। এ কমিটিতে জেলার সব অংশীজনকে রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও একটি কমিটি আছে। আমি অনুরোধ করেছি, মন্ত্রিপরিষদ সচিবও বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন যেন কমিটিগুলো প্রতি মাসে দুটি সভা আয়োজন করে। কী কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, কেন ঘটে, কোথায় ঘটে তা বিশ্লেষণ করে আমাদের জানালে আমরা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে পারব।’
সম্মেলনে সেতু বিভাগ সম্পর্কিত ছয়টি প্রস্তাব করেন জেলা প্রশাসকরা। এ সম্পর্কে সেতু বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন বলেন, ‘দেড় হাজার মিটারের ওপরে যেসব সেতু, সেগুলো সেতু বিভাগ করে। জেলা প্রশাসকরা ছয়টি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার মধ্যে দুটি সেতু দেড় হাজার মিটারের নিচে হওয়ায় এগুলো মহাসড়ক বিভাগে চলে যাবে। অন্যদিকে আমরা একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছি, যেখানে দেশের কোন কোন জায়গায় সেতু, ওভারপাস, টানেল করা দরকার হতে পারে তা থাকবে। এ মহাপরিকল্পনার মধ্যেই জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাবিত সেতুগুলো রয়েছে। কক্সবাজার-মহেশখালী সংযোগ, বরগুনার বেতাগী নদীর ওপর সংযোগ, জামালপুরে বালাসী-বাহাদুরাবাদ ঘাটের ওখানে একটা প্রস্তাব এসেছে। আর রাজবাড়ীর ডিসির প্রস্তাব ছিল পাটুরিয়া থেকে গোয়ালন্দে একটা সেতু করার।’
অন্যদিকে রেলের বেদখলে থাকা জমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চান রেলপথমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম। তিনি বলেন, ‘জমি উদ্ধার ছাড়াও অবৈধ রেল ক্রসিং আছে। যেহেতু আমাদের জনবল কম, সেক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা চেয়েছি। আমাদের বিভিন্ন প্রকল্প অধিগ্রহণের বিষয়েও তাদের সহযোগিতা চেয়েছি।’
রেলমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ডিসি সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন সুপারিশ করেছেন। সেগুলো আমরা নিয়েছি এবং এগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে সাধ্যমতো চেষ্টা করব।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত