নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণ নিয়ে তালবাহানা, বাড়ছে ক্ষোভ

Passenger Voice    |    ১০:৪৮ এএম, ২০২৪-০২-২৫


নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণ নিয়ে তালবাহানা, বাড়ছে ক্ষোভ

কর্ণফুলী নদীর ওপর জরাজীর্ণ কালুরঘাট সেতুর জায়গায় নতুন সেতু নির্মাণের দাবিতে ক্ষোভ বাড়ছে। পুরোনো সেতুটির বয়স ৯৫ বছর পার হয়েছে। রেলওয়ের প্রকৌশলীরা বলছেন, সেতুটির ‘লাইফ টাইম’ শেষ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে ট্রেন চলাচলের জন্য জরুরি মেরামত শেষ করে চলছে ট্রেন। তবে চলছে না অন্য যানবাহন।

গত ডিসেম্বর থেকে সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরুর কথা থাকলেও কার্পেটিংয়ের কাজ বাকি থাকায় এখনও যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়নি। ফলে সেতুর পূর্ব প্রান্তের বোয়ালখালী উপজেলার চার লাখের বেশি মানুষের পারাপার গত ৪ মাস ধরে ফেরি-নির্ভর হয়ে পড়েছে। আবার ফেরিতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে কালুরঘাট সেতুর গার্ডারে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বেশ কবার।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বোয়ালখালীতে এক অনুষ্ঠানে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণকাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন। ওই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুচ ছালামও নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেবেন। তবে এখনও নতুন সেতু নির্মাণের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ বাড়ছে। 

বড় ধরনের সংস্কার কাজের জন্য গত বছর ১ আগস্ট থেকে ৩ মাসের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় কালুরঘাট সেতু। কিন্তু মেরামত শেষ হতে সময় লাগে ৪ মাস। গেল ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ট্রেন চলাচল শুরুর পর সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। ট্রেন চলাচল শুরুর পর পার হয়েছে প্রায় আড়াই মাস। কবে থেকে সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু করবে সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। 

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৯৩১ সালে ‘ব্রুনিক অ্যান্ড কোম্পানি ব্রিজ বিল্ডার্স’ নামের একটি সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী নদীতে সেতুটি নির্মাণ করে। এটি লম্বায় ৭০০ গজ। প্রায় শত বছর পুরোনো সেতুটি দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির সংস্কারকাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে। ট্রেন চলাচলের জন্যই মূলত ব্যয়বহুল এই সংস্কার করা হয়। সংস্কারের প্রথম ধাপের কাজ শেষে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেতুটি দিয়ে অন্য যানবাহনও চলাচল করার কথা। কিন্তু এখনও মেরামত-কাজ শেষ না হওয়ায় যান চলাচল করতে পারছে না। আগামী মার্চের মাঝামাঝি থেকে সেতুটি দিয়ে যান চলাচলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ। 

সেতুটির আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কার্পেটিং-কাজ চলছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। দ্রুততার সঙ্গে কার্পেটিংয়ের কাজ করা হলে মার্চের শুরুতেই যান চলাচল শুরু করা সম্ভব ছিল। বোয়ালখালী উপজেলায় সরকারের কোনো মন্ত্রী সফরে গেলে লোকজনের পক্ষ থেকে নতুন সেতু কবে হবে জানতে চাওয়া হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বোয়ালখালী গিয়েছিলেন। কর্ণফুলী সেতু নিয়ে লোকজনের অসন্তোষ টের পেয়ে মন্ত্রী সেতু নির্মাণে সরকারের তৎপরতার চিত্র তুলে ধরেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাট সেতুর কাজ দ্রুত শুরু হবে। 

কর্ণফুলী সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল কবে শুরু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিঞা বলেন, যানবাহন চলাচল আগামী মার্চে শুরু হবে আশা করছি। চলাচল শুরু দেরির একমাত্র কারণ বিশেষ ধরনের কার্পেটিং। এই কার্পেটিং সেতুর জন্য টেকসই হবে। যানবাহন চলাচলে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হবে না।

চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক বোয়ালখালীর বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেন, জনগণের দাবি নতুন সেতু দ্রুত নির্মাণ হোক। বর্তমানে মেরামত-কাজ চললেও তা চলছে ধীর গতিতে। এতে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্তদের উচিত লোকজনের দাবি অনুযায়ী দ্রুত মেরামত-কাজ শেষ করা। 

সেতুর পূর্ব প্রান্তের বাসিন্দা সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ট্রেন চলাচল শুরুর পরপরই যানবাহন চলাচল শুরুর কথা ছিল। অথচ ট্রেন চলছে ২ মাস পার হয়ে গেছে। সেতুতে অন্য যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। ফেরিতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। লোকজন চায় ফেরি নির্ভরতা এড়িয়ে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হোক। সূত্র: সময়ের আলো