রেলের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে সক্ষমতা দৈনিক ১১২ ট্রেন চলাচলের, চলছে ১২০টি

Passenger Voice    |    ০৫:০৪ পিএম, ২০২৪-০১-৩১


রেলের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে সক্ষমতা দৈনিক ১১২ ট্রেন চলাচলের, চলছে ১২০টি

বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে ব্যস্ত সেকশনগুলোর একটি ঢাকা-টঙ্গী। নারায়ণগঞ্জ বাদে সারা দেশ থেকে যতগুলো ট্রেন ঢাকা হয়ে চলাচল করে, তার সবই এ সেকশন ব্যবহার করে। এতে লাইন আছে দুটি। ফলে একসঙ্গে দুটি ট্রেন চলতে পারে। সেকশনটির বিদ্যমান সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিদিন ১১২টি ট্রেন চলাচলের কথা। যদিও চলছে ১২০টি। তাই ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে চলতে গিয়ে প্রায় প্রতিটি ট্রেনেরই অতিরিক্ত সময় লাগছে। বিঘ্নিত হচ্ছে রেলের সময়সূচি। ভোগান্তিতে পড়ছে যাত্রীরা।

গুরুত্বপূর্ণ এ রেল সেকশনের সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান দুটি রেলপথের সমান্তরালে আরো দুটি রেলপথ নির্মাণের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে যে জায়গায় নতুন রেলপথ দুটি গড়ে তোলা হবে, সেখানে বর্তমানে চলছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ। এ কারণে ২০১২ সালে শুরু হওয়া তৃতীয় ও চতুর্থ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুনের আগে রেলপথটির সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। 

রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, তৃতীয় ও চতুর্থ রেলপথের নির্মাণকাজ শেষ হলে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে দিনে সর্বোচ্চ ২৫০টি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। বর্তমানে এ সেকশনে চলাচলরত ট্রেনগুলোর জন্য অনুমোদিত সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। নতুন করে দুটি লাইন তৈরি হলে গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত উন্নীত হবে।

ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ রেলপথের চলমান নির্মাণকাজে আটটি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বেশির ভাগ চ্যালেঞ্জই প্রকল্প এলাকায় চলমান ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ সম্পর্কিত। এর মধ্যে খিলগাঁও-মালিবাগ এলাকার ১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার অংশের গতিপথ এখনো চূড়ান্তই করা সম্ভব হয়নি। মালিবাগ থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত ২ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার অংশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান থাকায় সেখানেও প্রকল্পের কাজে হাত দিতে পারছে না রেলওয়ে।

তেজগাঁও থেকে মহাখালী পর্যন্ত অংশটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ গত বছরের ডিসেম্বরে রেলওয়েকে হস্তান্তর করেছে। তবে এখনো সে অংশ থেকে তাদের বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী সরানো হয়নি। ফলে এখানেও কাজ শুরু করতে পারছে না রেলওয়ে। এর বাইরে পানি, গ্যাস, সুয়ারেজসহ বিভিন্ন পরিষেবা লাইনও স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

বনানী থেকে মহাখালী পর্যন্ত ২ দশমিক শূন্য ৯ এবং মহাখালী থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত ৩ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার অংশও গত বছরের ডিসেম্বরে রেলওয়েকে হস্তান্তর করেছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। তবে অংশ দুটিতেই রয়েছে নানা জটিলতা, যার কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে নতুন রেলপথ নির্মাণকাজ। অর্থাৎ তৃতীয় ও চতুর্থ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১২ সালে শুরু হলেও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য তা বারবারই পিছিয়েছে। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য বলছে, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত দুই পাশে মোট ৩২ দশমিক ৫ কিলোমিটার রেলপথসংলগ্ন এলাকা ব্যবহার করা হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজে। এসব জায়গা সংযোগ রাস্তা হিসেবে মালপত্র, নির্মাণ উপকরণ ও নির্মাণযন্ত্র চলাচলের জন্য ব্যবহার করছে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ। ফলে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের একটা বড় অংশে কাজই শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়াল গেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া। কাজে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‌এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজের কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। বেশকিছু অংশ আমাদের বুঝিয়ে দেয়া হলেও এখনো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে। আবার কিছু অংশ আমরা এখনো বুঝে পাইনি। একটি অংশে গতিপথ নিয়ে কিছুটা জটিলতা আছে। তবে এসব সমস্যা মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা কাজ করছি। আশা করছি বর্ধিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়ে যাবে।’ সূত্র: বণিক বার্তা

প্যা/ভ/ম