শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:০৬ পিএম, ২০২৪-০১-৩০
দ্রুতগতির মোটরসাইকেল এখন অনেকটা প্রাণঘাতী বাহনে পরিণত হয়েছে। সড়কে বেশি প্রাণ ঝরছে মোটরবাইকচালক কিংবা আরোহীদের। পাঁচ বছরে ১০ সহস্রাধিক মানুষ মারা গেছেন মোটরবাইক দুর্ঘটনায়। যার একটা বড় অংশ কিশোর ও তরুণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেপরোয়া গতি, মানহীন হেলমেটের ব্যবহার, ঘনঘন লেন পরিবর্তন এবং অদক্ষ চালকের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝরছে প্রাণ। এ কারণে অকালে পঙ্গুত্ববরণ করছেন অনেক তরুণ।
রোববার দুপুরে বাংলামোটরে সরেজমিন দেখা যায়, একপাশের সিগন্যাল ছাড়তেই ছুটতে শুরু করে উলটোদিকের দ্রুতগতির মোটরবাইক। এতে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। এ চিত্র রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়কের। এছাড়া ওভারটেকিং এবং দুজনের বেশি যাত্রী নিয়েও চলতে দেখা যায় কোনো কোনো মোটরসাইকেল আরোহীকে।
মগবাজারে কথা হয় মোটরবাইকচালক কামাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, যারা বেপরোয়া মোটরবাইক চালান, তারা আগে যাওয়ার জন্য ঘনঘন লেন পরিবর্তন করতে থাকেন। লেন যখন হঠাৎ পরিবর্তন করা হয়, তখন পাশে থেকে দুর্ঘটনা ঘটে বেশি। তিনি বলেন, যদি সবাই সঠিক প্রশিক্ষণের পর লাইসেন্স নিয়ে মোটরবাইক চালায় এবং রাস্তার নিয়মকানুন জানে, তবে দুর্ঘটনার হার কমবে।
জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ১ হাজারের বেশি রোগী এ হাসপাতালে আসছে। এর অন্তত ৩০ শতাংশই মোটরবাইক দুর্ঘটনার শিকার। আর তাদের একটা বড় অংশ কিশোর কিংবা তরুণ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ বলছে, রাজধানীতে মোটরবাইক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বেপরোয়া গতিতে চালানো, রাতে রেসিং করা, সিগন্যাল না মানার প্রবণতা এবং ফিটনেস না থাকা। অনেকের আবার বয়স কম, তারপরও লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছে। এছাড়া একটি আদর্শ শহরে ২৫ শতাংশ সড়ক থাকা প্রয়োজন। রাজধানীতে কাগজে-কলমে আছে ৯ শতাংশের কম। নানান কারণে এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কমানো যাচ্ছে না দুর্ঘটনা।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পাঁচ বছরে ১০ হাজার ১৫৩টি মোটরবাইক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে ২০২৩ সালে সারা দেশে ২ হাজার ৫৩২টি মোটরবাইক দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৪৮৭ এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৩ জন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯৭৩টি মোটরবাইক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৯১ জন মারা গেছেন। এছাড়া ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ২১৪ জন, ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন এবং ২০১৯ সালে ১ হাজার ১৮৯টি মোটরবাইক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৯৪৫ জন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মোটরবাইকচালকরা সঠিক হেলমেট ব্যবহার না করায় মৃত্যুঝুঁকি ৪০ শতাংশ হ্রাস করা যাচ্ছে না।
বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, যারা মোটরবাইক চালান, তাদের ১০ শতাংশ ফুলফেস হেলমেট ব্যবহার করেন আর ৩৫ শতাংশ হাফফেস হেলমেট ব্যবহার করেন। কিছু হেলমেট আছে, যা প্লাস্টিকের বাটি ছাড়া আর কিছুই না। এমন হেলমেট দুর্ঘটনায় আহত কিংবা নিহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি বলেন, বেপরোয়া গতির কারণে মোটরবাইক দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। কিছু বাইকার আছেন, যারা প্রতি ১০ মিনিটে অন্তত ৬০ বার লেন পরিবর্তন করেন। যে কোনো ফাঁকফোকর পেলে তা দিয়েই এগিয়ে চলছেন। এসব কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী মোটরবাইক দুর্ঘটনায় কিশোর-তরুণদের বেশি মৃত্যুর পেছনে অভিভাবকদের অসচেতনতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, অভিভাবকরা সন্তানদের প্রশ্রয় দিয়ে তাদের হাতে মরণযন্ত্র তুলে দিচ্ছেন। এটি পারিবারিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের বিষয়। সামাজিক ও মূল্যবোধের যেমন ঘাটতি রয়েছে, পাশাপাশি সরকারের আইন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার ঘাটতি রয়েছে। তারা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন না।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, দেশে মোটরবাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বাড়ছে। বিশেষ করে মোটরবাইক দুর্ঘটনায় কিশোর-তরুণরা বেশি মারা যাচ্ছে। দুর্ঘটনা বাড়ার কারণ হিসাবে বেশকিছু বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেপরোয়াভাবে কিশোর-যুবকদের মোটরবাইক চালানো, বাইকচালকদের অদক্ষতা ও অস্থিরতা, বেপরোয়া মোটরবাইক চালানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির ক্ষেত্রে শিথিলতা এবং সড়ক-মহাসড়কে বিভাজক না থাকা অন্যতম।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ট্রাফিক মো. মুনিবুর রহমান বলেন, ট্রাফিক পুলিশ প্রতিদিন বেপরোয়া মোটরবাইকারদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে। তাছাড়া আইনেই বলা হয়েছে, মোটরবাইক চালাতে থাকতে হবে ড্রাইভিং লাইসেন্স। লাইসেন্স না পাওয়া গেলে মামলা দেওয়া হয়। এছাড়া কেউ যদি লাইসেন্স নিয়ে অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করে, সেটাও মার্ক করে ট্রাফিক পুলিশ।
সূএ: যুগান্তর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত