দায়িত্ব পালনে রেলের গাফিলতি

কদমতলী রেল ক্রসিং পারাপারে মৃত্যুভয় নেই কারো

Passenger Voice    |    ০৫:৫৮ পিএম, ২০২৪-০১-১১


কদমতলী রেল ক্রসিং পারাপারে মৃত্যুভয় নেই কারো

মোঃ জয়নাল আবেদীন:

চট্টগ্রাম নগরের কদমতলী রেলক্রসিং এলাকায় চার লেনের সড়কে ট্রেন আসার সংকেত বেজে উঠলে রেলক্রসিংয়ে দুই পাশে প্রতিবন্ধক নামিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও গেটম্যানদের কাজের গাফিলতি ও কর্মকর্তা দের তদারকির অভাবে এই রেলক্রসিং পারাপারে কেউ যেন মৃত্যুভয় পায়না। গাড়ি চালকরা সংকেত উপেক্ষা করে প্রতিবন্ধককে পাশ কাটিয়ে উল্টো লাইন দিয়ে গাড়ি চালাতে থাকেন। পথচারীরাও ঝুঁকি নিয়ে পার হন রেললাইন। সড়কের একপাশে গেটম্যান প্রতিবন্ধক নামালেও অন্যপাশের প্রতিবন্ধক নামাচ্ছে না তারা। কদমতলী রেলক্রসিং পারাপারে মৃত্যুর ভয় ভিডিও।

ট্রেন একেবারে কাছাকাছি এলে গেটম্যান পতাকা নাড়িয়ে উল্টো পাশ দিয়ে আসা গাড়িগুলোকে কোনো রকমে দাঁড় করালেও ট্রেনের অনেকটা কাছাকাছি চলে যায় গাড়িগুলো। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে সঠিক তদারকি না থাকায় এই রেল ক্রসিং এ যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 

রেলওয়ে সূত্র বলছে, গেটম্যানের প্রতিবন্ধক ফেলার গাফিলাতি, দায়িত্ব অবহেলা ও সঠিক তদারকি, অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি না হওয়ায় গত দুই বছরে চট্টগ্রামে রেলক্রসিংয়ে তিনটি বড় দুর্ঘটনায় ১৯ জন ব্যক্তি প্রাণ হারান। ২০২২ সালের ২৯ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকায় গেটম্যানের দায়িত্ব অবহেলার কারনে ঘটেছিল এক ভয়বহ দুর্ঘটনা এই ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা ১৩ জন পর্যটক ঘটনাস্থলে মারা যায়। রেলওয়ে কিছুটা নড়েছড়ে বসলেও তদারকি বাড়েনি তাদের।  

এর আগে ২০২১ সালের ৪ ডিসেম্বর নগরীর খুলশী ঝাউতলা রেলক্রসিংয়ে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে বাস, অটোরিকশা ও টেম্পোর সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় এক পাশে প্রতিবন্ধক ফেললেও অন্য পাশের প্রতিবন্ধক ফেলা হয়নি। তবে সেদিন প্রতিবন্ধক দেওয়া না থাকলেও ট্রেন আসতে দেখে সেখানে থাকা গাড়িগুলো রেললাইনের একটু দূরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু দ্রুতগামী একটি বাস পেছন থেকে এসে অটোরিকশা ও টেম্পোকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনটি যানই ডেমু ট্রেনের ওপর আছড়ে পড়ে।

২০২৩ সালের ৬ মার্চ ইপিজেড থানার বিমানবন্দর সড়কে ট্রেনের চলন্ত ইঞ্জিনে যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কায় তিনজনের মৃত্যু হয়। ইঞ্জিন আসার সংকেত উপেক্ষা করে বাস চালিয়ে যাওয়ার কারণে ঘটে এ দুর্ঘটনা। তবুও যেন মৃত্যুভয় নেই কদমতলী রেলক্রসিং ব্যবহারকারী যানবাহন চালকদের।

যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসাইন বলেন, রেলের অবহেলার কারনে রেলক্রসিং গুলোতে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় দেখা যায় গেটম্যান উপস্থিত না থেকে বিভিন্ন লোক দিয়ে তারা কাজটি করিয়ে নিচ্ছে। অদক্ষ ব্যক্তি দ্বারা রেলক্রসিং পরিচালনা করার কারনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে একই সাথে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় রেলের কর্মচারিদের দায়িত্ব অবহেলাও কমছেনা। 

রেলক্রসিং এ উল্টোপথের গাড়ি চলাচলের বিষয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম শহিদুল ইসলাম প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, রেলওয়ে পুলিশ রেলক্রসিং এর ট্রাফিক পারাপারের  নিরাপত্তার দায়িত্বটি পালন করে না। এইটা সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কাজ। গেটম্যান প্রতিবন্ধক ফেলার পরে যদি কোন গাড়ি উল্টোপথে রেলক্রসিং পারাপারের চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবে। 

গেটম্যানের দায়িত্ব অবহেলা ও কতৃপক্ষের তদারকির গাফিলতির বিষয়ে চট্টগ্রাম রেলের মহাব্যবস্থাপক মোঃ নাজমুল ইসলাম প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তায় পরিবহন কর্মকর্তা, ইয়ার্ড মাষ্টার, স্টেশন মাস্টার ও ডিভিশনাল অফিসার আছেন।এসব কর্মকর্তা/কর্মচারীরা রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি সরাসরি দেখবাল করেন। 

তিনি আরো যোগ করেন, এ পথে আমিও চলাচল করি। কিন্তু আমার যাওয়া-আসার পথে যতটুকু মনে পড়ে ব্যারিয়ার রয়েছে, যদি ব্যারিয়ার না থাকে তবে ব্যারিয়ার লাগানোর ব্যবস্থা করা হবে।