শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৩৮ পিএম, ২০২৩-১২-১৮
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চলাচল করা আন্তঃদেশীয় ট্রেনগুলোয় গত বছরের শেষদিকেও ভিড় লেগে থাকত। আগে থেকে সংগ্রহ না করলে টিকিট পাওয়া নিয়ে তৈরি হতো অনিশ্চয়তা। তবে চলতি বছরের শেষদিকে এসে বদলে গেছে এ চিত্র। দুদেশের মধ্যে চলাচল করা তিনটি আন্তঃদেশীয় ট্রেনে যাত্রী কমেছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত যাতায়াত করা যাত্রীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রেলপথে ভারতগামী যাত্রী কমেছে প্রায় ৫৩ শতাংশ।
যাত্রী কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে ভারতীয় ভিসা পেতে দীর্ঘসূত্রতা। এর বাইরে চলমান অর্থনৈতিক সংকটকেও রেলপথে ভারতগামী যাত্রী কমে যাওয়ার জন্য দায়ী করছেন তারা।
বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলছে তিনটি। ট্রেনগুলো হলো ঢাকা-কলকাতার মধ্যে চলাচল করা মৈত্রী এক্সপ্রেস, খুলনা-কলকাতার মধ্যে চলাচল করা বন্ধন এক্সপ্রেস ও ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে চলাচল করা মিতালী এক্সপ্রেস।
আরও পড়ুন; নববধূকে নিয়ে মেট্রোতে ফিরলেন বর
গত ১১ মাসের ব্যবধানে ভারতগামী যাত্রীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কমেছে বন্ধন এক্সপ্রেসে। ট্রেনটি সপ্তাহে দুইদিন অর্থাৎ প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার চলাচল করে। এ ট্রেনের আসন সংখ্যা ৪৫৬। বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বন্ধন এক্সপ্রেসে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছে ৩ হাজার ২৫১ যাত্রী। আর চলতি বছরের অক্টোবরে ভারতগামী যাত্রী ছিল ১ হাজার ৩০ জন। যাত্রী কমার হার ৬৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।
বন্ধন এক্সপ্রেসে ভারতগামী যাত্রীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসেই কমেছে যাত্রী। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যাত্রী ছিল ২ হাজার ৭৫৯ জন। একইভাবে ফেব্রুয়ারিতে ২ হাজার ৩০৮, মার্চে ২ হাজার ৬৪৩, এপ্রিলে ২ হাজার, মে মাসে ১ হাজার ৬৭৩, জুনে ১ হাজার ৫২৯, জুলাইয়ে ১ হাজার ৭২৬, আগস্টে ১ হাজার ২১৭ ও সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৫২ জন যাত্রী বন্ধন এক্সপ্রেসে ভারতে যায়।
ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা যাত্রীও কমেছে বন্ধন এক্সপ্রেসে। গত বছরের ডিসেম্বরে ট্রেনটিতে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছিল ৩ হাজার ৬২৩ যাত্রী। আর চলতি বছরের অক্টোবরে আসা যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৭৯৩ জন।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চলাচল করে আন্তঃদেশীয় ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেস। সপ্তাহে পাঁচদিন ট্রেনটি ঢাকা থেকে কলকাতায় যাতায়াত করে। এ ট্রেনেও আসন সংখ্যা ৪৫৬। ১১ মাসের ব্যবধানে (ডিসেম্বর ২২ থেকে অক্টোবর ২৩) ট্রেনটিতে ভারতগামী যাত্রী কমেছে ৩০ দশমিক ৮২ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে মৈত্রী এক্সপ্রেসে ৯ হাজার ১৭০ যাত্রী বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়েছিল। আর এ বছরের অক্টোবরে ট্রেনটিতে ভারতগামী যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৩৪৩।
একই অবস্থা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা যাত্রীর সংখ্যায়ও। গত বছরের ডিসেম্বরে মৈত্রী এক্সপ্রেসে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছিল ৭ হাজার ৪৭ যাত্রী। চলতি বছরের অক্টোবরে যাত্রীর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৯৫ জনে।
আন্তঃদেশীয় ট্রেন মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল করে ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে। সপ্তাহে দুদিন অর্থাৎ প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার ট্রেনটি চলাচল করে। এ ট্রেনের আসন সংখ্যা ৪০৮। বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে মিতালী এক্সপ্রেসে ভারতগামী যাত্রী ছিল ২ হাজার ৬৩৪ জন। আর চলতি বছরের অক্টোবরে এটি কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৩ জনে। যাত্রী কমার হার ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
মিতালী এক্সপ্রেসে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা যাত্রীর চিত্রও একই রকম। গত বছরের ডিসেম্বরে এ ট্রেনে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছিল ১ হাজার ৫০৮ যাত্রী। চলতি বছরের অক্টোবরে মৈত্রী এক্সপ্রেসে বাংলাদেশে আসা যাত্রী কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮৯ জনে।
রেলপথে ভারতগামী যাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের একজন কর্মকর্তা। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ভারতীয় ভিসা পেতে আড়াই-তিন মাস বা তারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে এ দীর্ঘসূত্রতা ভারতগামী যাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ার একটা বড় কারণ। এর বাইরে অর্থনৈতিক সংকট, ডলারের বাড়তি দামসহ বিভিন্ন বিষয়ও এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে।’
রেলপথে ভারতগামী যাত্রীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ার বিষয়ে গতকাল যোগাযোগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান।
তিনি বলেন, ‘আপনারা যেসব তথ্য পেয়েছেন, সেগুলো আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব। তার আগে বিষয়টি নিয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’ সূত্র: বণিক বার্তা
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত