শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৫৪ পিএম, ২০২৩-১২-১৭
গাজীপুরের শ্রীপুরের ভাওয়ালগড়ের বনখড়িয়া এলাকায় বুধবার ভোরে রেলপথে নাশকতার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের ধরতে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে দেশের কয়েকটি স্থানে অভিযানে নামে গাজীপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা দল। গত ১৫ নভেম্বর গাজীপুর মহানগরীর ভুরুলিয়া এলাকায় রেললাইনের ওপর আবর্জনা ও বাঁশ ফেলে আগুন দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। ভুরুলিয়ার ঘটনার তদন্তে নেমে বনখড়িয়ার রেলপথ ঘিরে নাশকতাকারীদের নাম-পরিচয় মিলেছে। গতকাল রাতে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র দৈনিক সমকালকে এসব তথ্য জানায়।
ঘটনার পর পুলিশ বলেছিল, রেলপথ কাটার কাজে অক্সিঅ্যাসিটিলিন ও মিথেন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল। এ ধরনের কাজে দক্ষ একজনকে গাজীপুরের বাইরে থেকে ভাড়া করা হয়েছিল। যে ব্যক্তি সরাসরি রেলপথ বিচ্ছিন্ন করার সঙ্গে যুক্ত, তার নামও পেয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া নাশকতাকারীদের টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করা হয়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকার একটি অংশ দুর্বৃত্তদের পরিশোধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় যাদের শনাক্ত করেছেন গোয়েন্দারা, তাদের দেশত্যাগ ঠেকাতে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগে চিঠি পাঠাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, বনখড়িয়ায় রেলপথে নাশকতায় জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। যেসব জায়গায় তারা লুকাতে পারে– এমন কয়েকটি স্থানে অভিযানও চলছে। আগের একটি ঘটনার সূত্র ধরে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বাইরে থেকে যাকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল, তারও নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। বড় নাশকতা ঘটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্য ছিল তাদের, যাতে রেলে যাতায়াত করতে অনেকে ভীতসন্ত্রস্ত থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যেই জড়িতদের ব্যাপারে আরও অনেক কিছু পরিষ্কার হবে।
রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, রেলের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী আছে। জনবল সংকটের যেখানে ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করতে ২ হাজার ৭০০ আনসার সদস্য চেয়েছি। এখনও পাওয়া যায়নি। উন্নত বিশ্বে সেন্সরের মাধ্যমে রেললাইন ঠিকঠাক রয়েছে কিনা, নিরূপণ করা হয়, তবে সেটা ব্যয়বহুল।
গত বুধবার ভোরে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে গাজীপুরের শ্রীপুরে অক্সিঅ্যাসিটিলিন দিয়ে রেললাইনের শক্ত লোহার পাত গলিয়ে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ সাতটি কোচ (বগি) লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। এতে এক যাত্রী নিহত ও ১১ জন আহত হন। এ ঘটনায় অচেনা ব্যক্তিদের আসামি করে ঢাকা রেলওয়ে থানায় মামলা হয়। পরে গত বুধবার রাতে নীলফামারীর ডোমারে রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে নাশকতার চেষ্টা চালানো হয়। রেলপথ ঘিরে এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা, জেলা পুলিশ ও টাস্কফোর্স কাজ করছে।
ঢাকা জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বনখড়িয়া এলাকায় রেলপথে নাশকতাকারীদের শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরই মধ্যে গাজীপুর মহানগর পুলিশের কাছে এ ঘটনার একটি বড় সূত্র চলে আসে। এর পর তারা বিষয়টি নিয়ে বহুমাত্রিক তদন্ত চালায়।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, ১৫ নভেম্বর গাজীপুরের ভুরুলিয়ায় রেললাইনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। কিছু আবর্জনা ও বাঁশ ফেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল তারা। ওই ঘটনার সূত্র ধরে বনখড়িয়ার নাশকতায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, দুটি ঘটনার যোগসূত্র ছিল। পরিকল্পনাকারীরা ঘটনার এক দিন আগে কোন এলাকার রেলপথ কাটা হবে, তা চূড়ান্ত করে। নাশকতা ঘটাতে যারা টাকার বিনিময়ে লোক ভাড়া করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, বনখড়িয়ায় নাশকতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কারও কারও রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। গ্রেপ্তারের আগে কারও নাম-পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে রাজি হননি ওই কর্মকর্তা। তবে জড়িতরা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে– এটা নিশ্চিত করেছেন তিনি।
ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি ফেরদাউস আহমেদ বিশ্বাস বলেন, ‘গাজীপুরের নাশকতায় যারা জড়িত, তাদের ব্যাপারে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভালো খবর দিতে পারব। এখন ইঞ্জিন ও মোটর ট্রলি দিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি এলাকায় রেলপথ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। ট্রেনের আগে লাইন ঠিক আছে কিনা তা দেখা হয় এ প্রক্রিয়ায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রেললাইনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও নাশকতা হতে পারে এমন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপত্তা কৌশল ঠিক করা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত ট্র্যাক প্যাট্রলিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওয়েম্যানদের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত