শিরোনাম
মীরসরাই অংশ যেনো মরণফাঁদ
Passenger Voice | ১১:২৫ এএম, ২০২৩-১২-০৯
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই উপজেলা এলাকায় দুর্ঘটনা প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। গত ৩ মাসের এক জরিপে শুধুমাত্র মীরসরাই এলাকাতেই প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ২৫ নারী পুরুষ ও তরুণ। এসব দুর্ঘটনার জন্য সড়ক ব্যবস্থপনার পাশাপাশি অদক্ষ চালক এবং খামখেয়ালী নিয়ে সড়কে চলাচলকারী সকলেই কম বেশী দায়ী। এর মধ্যে আরেকটি অন্যতম বিষয় হচ্ছে মহাসড়কের অনেক অংশেই নেই সতর্কতা সিগন্যাল। এমনিতেই কিছু চালক রাতে ও দিনে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালায় আর বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে সতর্কতা সিগন্যাল বিহীন কিছু ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের জন্য বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল ও দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি দুর্ঘটনা প্রবণস্থানের মধ্যে রয়েছে মীরসরাই সদরের দক্ষিণ পাশের ইউটার্ন। এখানটায় দক্ষিণ পাশের অংশে মিডইয়ানে কয়েক ফুটের মতো ডিভাইডার থাকলে ও উত্তর পাশে মাত্র কয়েক ইঞ্চি ডিভাইডার সারি। এখানে একটু বড়সড় সাইজের কোনো ডিভাইডার নেই। নিচ থেকে কয়েক ফুটের এই ডিভাইডারের সম্মুখ অংশ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গাড়ির ধাক্কায় অনেক আগেই ভাঙা– চোরা হয়ে আছে। কিন্তু এরপরও সেখানে লোহার স্ট্যান্ড দিয়ে ৫–৭ ফুট উপর পর্যন্ত স্ট্যান্ড দিয়ে সতর্কতা চিহ্ন দেয়া হলে হয়তো ঘুম থাকলেও চালকদের চোখে আলোর ঝিলিক লেগে কিছুটা সতর্ক থাকতে সহায়ক হতো। অথচ এসব স্থানে বছরের পর বছর কদিন পর দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর প্রতিটি ইউটার্নেই পাওয়া যাবে দুর্ঘটনাগুলোর চিহ্ন। মিঠাছরা ইউটার্নে কিছুটা প্রশস্ত স্থান আছে তবু সেখানেও ছিল না এমন চিহ্ন। সম্প্রতি এখানে দুপাশেই সতর্কতা চিহ্ন দেয়া হয়েছে। তবে ঠাকুরদীঘির দক্ষিণ পাশ পূর্ব দুর্গাপুর ইউটার্নের দুপাশেই নেই কোনো সতর্কতা চিহ্ন। ঠিক এভাবে ধূমঘাট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত অনেক স্থানের ইউটার্নের মধ্যখানে নেই সতর্কতা চিহ্ন। এই রুটের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে এগুলো অন্যতম যেখানে কিছুদিন পর পর দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
আবার এই রুটে রাতের বেলায় সংগটিত প্রায় দুর্ঘটনার পর জানা যায় দূরপাল্লার ট্রাকগুলোর চালকরা প্রায়ই চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে। কখনো এসব ইউটার্নে মেরে দিচ্ছে, কখনো ডিভাইডারের উপর তুলে দিচ্ছে, কখনো অন্য গাড়িকে চাপা বা ধাক্কা দিচ্ছে। এসব বিষয়ে সড়ক ও জনপথের চট্টগ্রাম উত্তর এলাকার দায়িত্বরত প্রকৌশলী রোকন উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সড়কের অনেক স্থানেই সতর্কতা চিহ্ন রয়েছে। কোথাও কোথাও চালকরা নিয়ম না মেনে গাড়ি চালিয়ে ভেঙে ফেলেছে। এসব স্থানের অধিকাংশই সতর্কতা চিহ্ন আবার লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। কোথাও না থাকলে সেগুলো অনুসন্ধান করে লাগানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে চালকদের ঘুম নিয়ে চালানোর বিষয়ে তিনি বলেন এটি বিআরটিএ এর দেখার বিষয়। তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত গতির কারণে ও বাড়ছে দুর্ঘটনা তাই এই বিষয়টি ও হাইওয়ে পুলিশের দেখা উচিত। এই বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ সোহেল সরকার বলেন, আমরা গতির বিষয়ে মহাসড়কে কাজ করছি। তবে রাতে ট্রাকের চালকগুলোর ঘুম নিয়ে চালানোর বিষয়টি আমার তো জানার উপায় নেই। তবু ও আমরা চেষ্টা করবো এসব বিষয় তদারকি করতে। এই বিষয়ে বিআরটিএ’র সহকারি পরিচালক আব্দুল আউয়ালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহাসড়কে রাতের বেলায় ঘুম নিয়ে গাড়ি চালানোর বিষয়টি তদারকি করতে হলে বাস মালিক এবং চালকদের সাথে বসেই প্রয়োজনীয় সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
সাম্প্রতিককালে দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে গত ৪ নভেম্বর কমলদহ এলাকায় ইউটার্নে একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই উপজেলার নিজামপুর ইছামতি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাইক্রোবাস কালভার্টের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মো. জাহিদ ইকবাল (৪৬) নামে পুলিশের এক পরিদর্শক নিহত হয়েছেন। তাও ইউটার্ন থেকেই নিয়ন্ত্রণ হারায় ধাক্কা দেয়া ট্রাকটি। মস্তাননগর ইউটার্নের পাশে ও মহাসড়ক পারাপারের সময় ও সম্প্রতি পৃথক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে কয়েকজন নারী পুরুষ। এভাবে গত কয়েক মাসে মহাসড়কের মীরসরাই এলাকাতেই মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ২৫ জন। সূত্র: কালবেলা
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত