আগামীকাল থেকে বিএনপির ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ

Passenger Voice    |    ১০:৩৯ এএম, ২০২৩-১১-২৫


আগামীকাল থেকে বিএনপির ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের প্রতিবাদে এবং এক দফা দাবিতে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে বিএনপির সপ্তম দফায় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ। এটি শেষ হবে আগামী মঙ্গলবার ভোর ৬টায়। সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধ করে দেশব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। বিএনপির পাশাপাশি সমমনা দলগুলোও একই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। 

এদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপির ৩ হাজার ৮৭৫ জনের বেশি নেতাকর্মীকে ‘অবৈধভাবে’ গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময়ে অন্তত তিনজন কর্মী মারা গেছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। সারা দেশে র‌্যাবের ৪২৮টি কেন্দ্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এ মুখপাত্র। গতকাল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

তফসিল ঘোষণার পরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন বেড়েছে উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘১৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে সারা দেশে ১২৫টি মামলা দেয়া হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৫ জনের বেশি নেতাকর্মীকে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৯০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলায় মারা গেছেন তিনজন। আহত হয়েছেন ৫৩৭ জন।’

তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১০টি মামলায় অন্তত ২৯০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ২৫০ জন নেতাকর্মীকে। হামলায় নিহত হয়েছেন একজন এবং আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২৫ নেতাকর্মী। এর বাইরে সরকার পতনের যুগপৎ আন্দোলন শুরুর পর গত ২৮ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭৮৭টি মামলায় দলের ১৮ হাজার ৮৭১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৮০৩ জনকে। এ সময় আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৬৮৪ জন নেতাকর্মী। মারা গেছেন এক সাংবাদিকসহ ১৬ জন।’

সংবাদ সম্মেলনে সারা দেশে র‌্যাবের ৪২৮টি কেন্দ্র কেন? এ প্রশ্ন তুলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে ৪২৮টি র‌্যাবের জন্য কেন্দ্র বানানো হচ্ছে সারা দেশে। এদের কাজ কী? সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি গণতান্ত্রিক দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এভাবে নিয়োগ করা হয়, তাদের দিয়ে সারা দেশে একেকটি কেন্দ্র বানানো হয়। সেখান থেকে তারা কী করবে? সামনে একতরফা নির্বাচনের যে মাস্টারপ্ল্যান সরকার করেছে সেই মাস্টারপ্ল্যানকে বাস্তবায়ন করার জন্য তারা নেতাকর্মীদের বেপরোয়াভাবে গ্রেফতার করছে। এ গ্রেফতারি অভিযান অব্যাহত রাখতেই ৪২৮টি কেন্দ্র করা হয়েছে সারা দেশে।’

বিএনপির সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একজন অভিজ্ঞ সিনিয়র চিকিৎসক তিনি। আজকে সকালে পেশাজীবীদের একটি অনুষ্ঠান শেষে তাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বিস্ময়কর। রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে র‌্যাবের গ্রেফতারের আলোকচিত্রটি দেখুন। একজন সিনিয়র চিকিৎসক গ্রেফতারের পর দুই র‌্যাব সদস্য দুই পাশে। তিনি একজন সুচিকিৎসক, আপনি তাকে গ্রেফতারের পর সম্মানের সঙ্গে র‌্যাব কার্যালয়ে বসিয়ে রাখতে পারতেন। তার ছবি তুলছেন মনে হয় যে দুর্ধর্ষ কোনো সন্ত্রাসী বা কোনো দাগী চোর-ডাকাত। আমরা কোন দেশে বাস করছি। এ গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

বগুড়ায় বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ তুলে বিএনপির এ সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বগুড়া শেরপুরের বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আব্দুল মতিন মিথ্যা মামলায় আসামি হয়ে পুলিশের আতঙ্কে গ্রেফতার এড়াতে ২২ নভেম্বর রাতে আত্মীয়ের বাড়ির উদ্দেশে রাত ৮টার দিকে রওনা দেন। পথে মান্দাইল গ্রাম থেকে তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পাশের একটি ধানখেতে তার মরদেহ ফেলে যায়। এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এর সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশ তল্লাশির নামে ভাংচুর ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে।’

নাশকতার মামলায় গ্রেফতার বিএনপির নেতাকর্মীদের জঙ্গিদের সঙ্গে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘কাশিমপুর ৪ হাই সিকিউরিটি জেলখানায় শতাব্দী বিল্ডিং, যেখানে জঙ্গি সংগঠনের আসামিদের রাখা হয়। বর্তমানে বিএনপর নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সেখানে রাখা হচ্ছে। তাদের ২৪ ঘণ্টা লক রাখা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে কোনো আত্মীয়স্বজন দেখা করতে পারছে না, খাবার ও টাকা পয়সা দিতে পারছে না। কোর্টে বিএনপি নেতাকর্মীদের নেয়া হলে পেছনে দুই হাত রেখে হ্যান্ডকাফ পরানো হচ্ছে।’  

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের দিন বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে হরতাল ও অবরোধের মতো কর্মসূচি দিয়ে আসছে বিএনপি। তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী এবং সমমনা দলগুলোও একই কর্মসূচি দিচ্ছে আলাদাভাবে। এর মধ্যে ছয় দফায় ১৫ দিন অবরোধ এবং দুই দফায় তিন দিন হরতাল করেছে দলগুলো। 

প্যা/ভ/ম