হরতাল-অবরোধে চট্টগ্রামে ১৯ গাড়ি পোড়ানোয় ৫৪ মামলা

Passenger Voice    |    ১০:৩৬ এএম, ২০২৩-১১-২১


হরতাল-অবরোধে চট্টগ্রামে ১৯ গাড়ি পোড়ানোয় ৫৪ মামলা

চট্টগ্রামে হরতাল-অবরোধে গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে। সহিংসতার ঘটনাকে ঘিরে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ২৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হরতাল-অবরোধে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে নগরী ও জেলায় ১৯টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। যদিও ফায়ার সার্ভিসের হিসেবে আগুন লাগা গাড়ির সংখ্যা ১৩টি। এ সময় গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ নানা সহিংস ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নগরী ও জেলায় মামলা হয়েছে ৫৪টি। এসব মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৯২৪ জনকে।

জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ করতে না পারার প্রতিবাদে ২৯ অক্টোবর সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় বিএনপি। এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জামায়াত ইসলামীসহ অন্যান্য সমমনা দল। এরপর ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত চলে প্রথম দফায় অবরোধ কর্মসূচি, দ্বিতীয় দফায় ৫ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে ৭ নভেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত অবরোধ, তৃতীয় দফায় ৮ ও ৯ নভেম্বর, চতুর্থ দফায় ১২ ও ১৩ নভেম্বর এবং পঞ্চম দফায় ১৫ ও ১৬ নভেম্বর অবরোধ ঘোষণা করা হয়। পরে রবিবার (১৯ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) ভোর ৬টা পর্যন্ত দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয় দলটি।

৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম দফায় অবরোধ কর্মসূচিতে চট্টগ্রামে ৯টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এরমধ্যে অবরোধের আগের দিন ৩০ অক্টোবর রাত ৯টা ৫০ মিনিটে নগরীর খুলশী থানার জিইসি মোড়ের কে স্কয়ারের সামনে বরযাত্রীবাহী একটি মিনিবাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ৩১ অক্টোবর ভোর ৪টায় বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ট্যানারি বটতল এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওইদিন সকাল ৬টায় ইপিজেড থানাধীন সলগোলা ক্রসিং এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ১ নভেম্বর ভোরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের চৌধুরী গোট্টা এলাকায় পাথরবোঝাই দুটি ট্রাক এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। ওইদিন সকালে কর্ণফুলী থানাধীন পোশাক শ্রমিকদের বহন করা একটি বাস আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। দুপুরের দিকে সীতাকুন্ডের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি রড বোঝাই লরিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

দ্বিতীয় দফায় ৫ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে ৭ নভেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত অবরোধে তিনটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এরমধ্যে ৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন মোড়ের রেলবিট এলাকায় একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ৬ নভেম্বর ভোরে নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন আতুরার ডিপো এলাকায় চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজি অটোরিকশায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একইদিন ভোরে জেলার আনোয়ারা উপজেলার চাতুরী চৌমুহনী এলাকায় পাকিংয়ে থাকা একটি বাস আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

১৯ নভেম্বর ভোর ৬টা থেকে ২০ নভেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত ডাকা হরতালে ৭টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এরমধ্যে ১৯ নভেম্বর ভোরে মীরসরাইয়ে দুটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর আগের দিন ১৮ নভেম্বর রাতে নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় একটি রেলব্রিজে আগুন দেওয়া হয়। ওই দিন নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন বহদ্দারহাট এলাকায় একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। একই দিন কর্ণফুলী থানাধীন নতুন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।


প্যা/ভ/ম