বাসে অগ্নিসংযোগ বন্ধে ‘বিশেষ পরিকল্পনা’ পুলিশের

Passenger Voice    |    ০৩:৪৪ পিএম, ২০২৩-১১-১৫


বাসে অগ্নিসংযোগ বন্ধে ‘বিশেষ পরিকল্পনা’ পুলিশের

হরতাল-অবরোধে নাশকতাকারীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে যাত্রীবাহী বাস। প্রতিটি কর্মসূচিতেই একাধিক বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা দিনের প্রতিটি ভাগেই বাসে আগুন দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরপরই নাশকতাকারাীদের তৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে। এমনকি পুলিশের টহল ও স্থাপনার কাছাকাছি স্থানেও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসব নাশকতায় প্রাণহানিও হয়েছে। আবার প্রতিটি আগুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। অধিকাংশ ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজও হাতে পেয়েছে পুলিশ। এরপরও এসব ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা খুবই কম। কয়েকজনকে আবার আটক করেছে উপস্থিত জনতা।

এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জনমনে স্বস্তি ফেরাতে কেন অগ্নিসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না তা নিয়েও উদ্বেগ জনমনে।

এমন পরিস্থিতিতে অগ্নিসংযোগ প্রতিরোধে পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বেশকিছু কৌশলী পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ঘোষণা করেছেন নাশকতা, অগ্নিসংযোগকারীদের প্রমাণসহ ধরিয়ে দিলে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

গত ১২ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতির মধ্যে আওয়ামী লীগের সমাবেশের কাছে দিনে-দুপুরে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়। প্রজাপতি পরিবহনের বাসটি ৪০ জন যাত্রী নিয়ে আব্দুল্লাহপুর থেকে মিরপুর-১ এর দিকে যাচ্ছিল। আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাসটি মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পৌঁছালে যাত্রীবেশে বাসে ওঠা কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি এতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক উইলিয়াম প্রলয় সমাদ্দার জানান, তিনি সমাবেশে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। এমন সময় দেখেন বাসে আগুন জ্বলছে। আগুন নেভাতে গিয়ে তার হাতেও আঘাত লাগে।

৯ নভেম্বর রাইদা পরিবহনের একটি বাসে রাজধানীর কুড়িলের দিকে যাচ্ছিলেন রামপুরার বাসিন্দা ইব্রাহিম খলিল। বাসটি শাহজাদপুর আসার পর হঠাৎ করেই পেছনের কয়েক যাত্রী ‘আগুন’ ‘আগুন’ বলে চিৎকার করে নেমে যান। আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে বাসের অন্য যাত্রীরাও যে যেভাবে পারেন নামতে থাকেন। ৫-৭ মিনিটের মধ্যে পুরো বাসটি দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে বলে জানান খলিল। দুপুরের এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় একটি মামলা হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও আসে পুলিশের হাতে। পুলিশের ভাষ্য, তারা অগ্নিসংযোগের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পেয়েছে। তবে নাশকতাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পারেনি এখনো।


প্যা/ভ/ম