শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:২৮ পিএম, ২০২৩-১০-১৯
ময়মনসিংহ থেকে উত্তরে যাতায়াতে ভরসা ছিল একটি সেতু। বিভাগ ও সিটি করপোরেশন হওয়ার পর নগরীতে মানুষের যাতায়াত বেড়েছে। কিন্তু পাটগুদাম সেতু দিয়ে চলাচল করতে যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হতো। ব্রহ্মপুত্র নদের দুই পাড়ের মানুষের সহজ যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য আরও দুটি সেতু নির্মিত হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি সেতু দুটির নির্মাণকাজ এবং বিভাগের ৪০টি সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
একই দিন দেশের ১৫০টি সেতু, ১৪টি ওভারপাস, স্বয়ংক্রিয় মোটরযান ফিটনেস পরীক্ষার কেন্দ্র, ডিটিসিএ ভবন, বিআরটিসির ময়মনসিংহ বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী ও রহমতপুর সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন তিনি। নগরীর সার্কিট হাউস ময়দানে ময়মনসিংহ প্রান্তে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সম্মেলন করা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত তুলে ধরেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শওকত আলী।
সেতুগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহে ২৩টি, নেত্রকোনায় ১২টি ও জামালপুরে পাঁচটি। সেতুগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৭০৩ দশমিক ৪৬ মিটার। মোট ব্যয় হয় ২৯৪ কোটি ৯৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা। কয়েকটি সেতুর সঙ্গে সীমান্ত সড়ক ও স্থলবন্দর থাকায় দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। এর মধ্যে রয়েছে নেত্রকোনার ঠাকুরাকোনা থেকে কলমাকান্দা উপজেলা পর্যন্ত সাতটি সেতু। আবার জামালপুরের ধানুয়া হয়ে রৌমারী পর্যন্ত রয়েছে পাঁচটি সেতু।
ময়মনসিংহ শহরের কেওয়াটখালীতে রেল সেতুর পাশে সড়ক সেতু নির্মাণ করা হবে। ১ হাজার ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুতে স্প্যান ২২টি ও পিলার (খুঁটি) ২১টি। সেতুর মূল অংশ হবে স্টিল আর্চ। ৬৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের তিনটি সড়ক ওভারপাস, ২৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি রেল ওভারপাস, দুই পাশে ধীরগতির যান চলাচলের লেনসহ ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে। টোলপ্লাজা ছাড়াও বিশ্রামাগার, পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে প্রকল্পের আওতায়। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের জন্য ভবিষ্যতে যাতে খোঁড়াখুঁড়ি করতে না হয়, সে জন্য সড়কের পাশে থাকবে ইউটিলিটি ডাক্ট। জমি অধিগ্রহণসহ ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে স্টিল আর্চ সেতুটি নির্মাণে। ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে সেতু নির্মাণে গত ২৫ সেপ্টেম্বর চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশেন লিমিটেড এবং বাংলাদেশের স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে সওজ।
শেরপুর-নারায়ণখোলা-পরাণগঞ্জ-ময়মনসিংহ শহর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহের খাগডহরে ১ হাজার ৪৭১ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করা হবে। ১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকার প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে। ফুটপাতসহ ১৩ দশমিক ৪ মিটার প্রশস্ত এই সেতুতে স্প্যান থাকবে ২৬টি। সেতু দুটির নিচে নৌ চলাচলে ১২ দশমিক ২ মিটার ‘ভার্টিকেল ক্লিয়ারেন্স’ রাখা হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু দুটি নির্মিত হলে ময়মনসিংহ সদর, হালুয়াঘাট, নেত্রকোনার বিজয়পুর, শেরপুরের নাকুগাঁও, জামালপুরের ধানুয়া-কামালপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থল বন্দরগুলোর সঙ্গে রাজধানীর নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের সঙ্গে মূল সড়ক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠিত হবে।
ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি শংকর সাহার ভাষ্য, সেতুগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ প্রসারিত হবে। নগরবাসীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে।
ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শওকত আলী জানান, সেতুগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত হবে। মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন হবে।
ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এহতেশামুল আলম বলেন, ৪০টি সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহবাসীর অনেক প্রত্যাশা পূরণ হবে।
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত