শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:৪৬ পিএম, ২০২৩-০৯-১১
সীতাকুণ্ডের গফুর মিয়ার স্ত্রী নাজমা আক্তার। দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত।ডাক্তারের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাচ্ছিলেন তিনি। ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেসে আখাউড়া, এরপর সেখান থেকে আগরতলা হয়ে তিনি চেন্নাই যাবেন। অসুস্থ হওয়ায় ট্রেনের জানালার পাশে বসেছিলেন। বাড়ি থেকে ফোন আসায় মোবাইল বের করে হাতে নিতেই ছোঁ মেরে সেটি নিয়ে উধাও হয়ে যায় দুর্বৃত্ত।
ততক্ষণে ট্রেনও দ্রুত গতিতে চলা শুরু করে। পরক্ষণে অনেক যাত্রী নাজমা আক্তারের পাশে এসে এভাবেই তাদের মোবাইল হারানোর কথা জানাচ্ছিলেন। শুধু নাজমা আক্তারই নন, এভাবে প্রতিনিয়ত মোবাইল ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন অনেক যাত্রী।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শুক্রবার পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় যাচ্ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের সিকিউরিটি অফিসার রহমতুল্লাহ। তিনিও ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেসের যাত্রী। ট্রেনটি কুমিল্লা স্টেশনে পৌঁছানোর আগে একটু গতি কমাতেই জানালার পাশ থেকে তার মোবাইলটিও কেড়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তিনি দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানালে উল্টো তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়। পুলিশ জানতে চায়, কেন তিনি জানালার পাশে বসে মোবাইল বের করেছেন।
মোবাইলের পাশাপাশি মহিলাদের হাত ব্যাগ-পার্সও ছিনতাই হচ্ছে বিভিন্ন ট্রেন ও স্টেশনে। অনেক স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীর মোবাইল ও ব্যাগ টেনে নিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে ছিঁচকে চোর ও ছিনতাইকারীরা।
যাত্রীরা বলছেন, এ চিত্র প্রতিদিনের। প্রায় প্রতিদিনই ট্রেনে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। দেখার যেন কেউ নেই। পুলিশ কিছুদিন পর পর রেল স্টেশনে এসে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এটুকুই তাদের দায়? কৌশলী কোন ভূমিকা নেই?
সরেজমিন দেখা যায়, পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেয়ে ব্যস্ত টিকিটবিহীন যাত্রীদের থেকে টাকা নিয়ে সিটের ব্যবস্থা করে দিতে। এক বগি থেকে অন্য বগিতে টিটি টিকিট চেকিংয়ে কিছু সময় পার করলেও বাকি সময় যাত্রীদের আসন জোগাড় করতে ব্যস্ত দেখা গেছে। বিভিন্ন স্টেশনে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। ট্রেন আসার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পুলিশ উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও কুমিল্লা ও ফেনী স্টেশনে কারও দেখা মিলেনি। কিছু স্টেশনে পুলিশের দেখা মিললেও খোশগল্পে মেতে থাকতে দেখা গেছে।
জসিম উদ্দিন নামের আরেক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগেও আমি ময়মনসিংহে যাওয়ার সময় মোবাইল এভাবেই খোয়া গেছে। এভাবে আর কতদিন? থানায় সাধারণ ডারেরি করেছি। এখনো মোবাইলের হদিস পাইনি। মোবাইলে আমার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস ছিল।
এরমধ্যে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আন্তঃনগর ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোর দায়িত্ব থেকে নিজেদের নিরাপত্তা বাহিনী আরএনবিকে সরিয়ে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। দূরপাল্লার ট্রেনগুলো থেকে আরএনবি সদস্যদের প্রত্যাহার করে নেওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে। ট্রেনগুলোতে অবৈধ ও চোরাচালানের মালামাল পরিবহন বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আরএনবি’র সদস্যরা বলছেন, একেকটি আন্তঃনগর বা এক্সপ্রেস ট্রেনে ১ হাজার পর্যন্ত যাত্রী যাতায়াত করেন। ১২-১৬টি বগি থাকে। এসব ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে হয় অল্প সংখ্যক জিআরপি ও আরএনবি সদস্যকে। জনবলের অভাবে দিন দিন ট্রেনে ছিনতাই, চুরি, মাদক চোরাচালানের ঘটনা বাড়ছে। এই অবস্থায় ট্রেনের নিরাপত্তার দায়িত্ব থেকে আরএনবি সদস্যদের প্রত্যাহার করে নেওয়ায় অপরাধ আরো বাড়বে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ট্রেনে দিন দিন চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। যাত্রীর নিরাপত্তায় যেখানে বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন দরকার, সেখানে উল্টো প্রত্যাহার দুঃখজনক।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, ট্রেন ভ্রমণে অজ্ঞান ও মলম পার্টি থেকে সতর্ক হওয়া, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ ও ছাদে ভ্রমণ, মাদকদ্রব্য বহন, টিকিট কালোবাজারি বন্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরপরেও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায়। এসব বিষয়ে আমরা আরও সতর্ক হবো।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন স্টেশনে যারা এসব কাজে জড়িত, তাদের তালিকা করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত