পদ্মা সেতুর কারণে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মোংলা-বেনাপোল বন্দর

Passenger Voice    |    ০১:৪৭ পিএম, ২০২৩-০৬-২৫


পদ্মা সেতুর কারণে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মোংলা-বেনাপোল বন্দর

মাত্র এক বছরেই আগের অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মোংলা সমুদ্রবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দর। পদ্মা সেতুর কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় বেড়েছে এই বন্দর ব্যবহার করে পণ্য আমদানি-রফতানি। ফলে গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেই লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া।

পদ্মা সেতু চালুর পর যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে নতুন দ্বার খুলে যায়, সেই সুবিধা কাজে লাগতে ভুল করেননি দেশের ব্যবসায়ীরা। মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ঢাকার দূরত্ব ও সময় কমে আসায় আমদানি-রফতানিকারকদের আগ্রহ এ সমুদ্রবন্দরে ঘিরে বাড়তে থাকে। দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা মোংলা বন্দরটি এক বছরেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।

তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে যত গাড়ি আমদানি হয়েছে তার ৫৪ ভাগের বেশি এসেছে মোংলায়। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক রফতানিতেও সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে বন্দরটি। প্রথম বছরেই এ বন্দর দিয়ে ৫ দফায় ৫২৮ টন গার্মেন্টস পণ্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেছে।
 
এদিকে ট্রানজিট চুক্তির আওতায় ভারতও মোংলা বন্দর ব্যবহার করায় বাংলাদেশ রাজস্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ বাড়ায়, এক বছরে এই বন্দরে আগের বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি কনটেইনার জাহাজ ভিড়েছে। এ ছাড়া রূপপুর তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু রেলসেতু, ঢাকার মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের মালামালও আসছে এ বন্দরে। এমন বাস্তবতায় মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি বন্দরে নাব্য বৃদ্ধি, জেটির সংখ্যা বাড়ানোর দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।
 
খুলনা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক জোবায়ের আহমেদ জবা বলেন, যাতায়াতের যে সমস্যা ছিল, সেটি ইতোমধ্যে পুরোপুরি মিটে গেছে। ফলে মোংলা বন্দর আগে থেকে আরও অনেক সচল হয়েছে।

পদ্মা সেতুর কারণে বন্দরের আমদানি-রফতানি বাড়ার কথা উল্লেখ করে মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটির মহাসচিব অ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দরকে ঘিরে আমাদের পদ্মা সেতু যখনই বাস্তবায়ন হয়েছে তখন কিন্তু ক্যাপিটাল ড্রেজিং বাস্তবায়নে যায়।
 
বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও গত এক বছরে আমদানি-রফতানিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করেছে বন্দরটি। এ বিষয়ে মোংলা কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার একেএম খায়রুল বাশার বলেন, সারাদেশ থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে এসেছেন এবং পদ্মা সেতুর মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ লুফে নিয়েছেন। আমরা আশা করছি, সামনে আমদানি-রফতানি আরও বাড়বে এবং মোংলা বন্দরের কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আরও সমৃদ্ধ হবে। 
 
শুধু মোংলা নয়, পদ্মার সুফল পাচ্ছে বেনাপোল বন্দরও। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে কাস্টমস ও বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মাত্র ৫ ঘণ্টায় আমদানি পণ্য রাজধানী ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, পদ্মা সেতু চালুর পর গত ১১ মাসে এ পথে আমদানি-রফতানি বেড়েছে। আমদানিতে বেনাপোল রাজস্ব আদায় করছে ৫ হাজার ৩৬০ কোটি ৭৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি।

আর বাণিজ্য বাড়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বিষয়ক সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ বিপুল বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি রফতানি রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। আমদানিকারকরা বেনাপোলমুখী হচ্ছেন। ফলে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে।
 
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আবদুল জলিল বলেন, বিগত এক বছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানির গতি অনেকটা বেড়েছে, যা পদ্মা সেতু হওয়ার ফলে সম্ভব হয়েছে।
 
প্রসঙ্গত, সক্ষমতা বাড়াতে মোংলা বন্দরে ড্রেজিংসহ ৮টি প্রকল্প আর বেনাপোল বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নসহ ৩৪০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে।

প্যা/ভ/ম