ঈদযাত্রায় ‘টেনশন’ চান্দিনা-বাগুর বাসস্টেশন

Passenger Voice    |    ০২:১৯ পিএম, ২০২৩-০৬-২৩


ঈদযাত্রায় ‘টেনশন’ চান্দিনা-বাগুর বাসস্টেশন

ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা থেকে ঢাকা পর্যন্ত যেসব এলাকায় যানজট নিত্যসঙ্গী, তার মধ্যে অন্যতম চান্দিনা-বাগুর বাসস্টেশন।

প্রতিদিনই ওই স্টেশন এলাকায় যানজট কখনো কখনো দীর্ঘ হয়ে উভয় পাশে দুই-তিন কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত হয়। ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ওই স্টেশন এলাকাটি হতে পারে দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। 

মহাসড়কের চান্দিনা-বাগুর স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্টেশন এলাকায় থাকা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে অধিকাংশ পথচারীরা দলবদ্ধভাবে মহাসড়ক পারাপার, মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকান-পাট গড়ে ওঠা, নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং না করা, মহাসড়কের মাঝেই বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো, স্টেশন এলাকায় অবৈধ মারুতি স্টেশন গড়ে ওঠাসহ নানা কারণে যানজট কমাতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বাসযাত্রী এএম মতিউর রহমান জানান, আমি ব্যবসায়ীক কাজে সপ্তাহে দুই-তিন দিন ঢাকা যাই। কুমিল্লা থেকে ঢাকা পর্যন্ত যানজটের তিনটি নির্ধারিত স্থান। এর মধ্যে নিমসারের কাঁচাবাজার, চান্দিনা-বাগুর বাস স্টেশন এবং মদনপুর চৌমুহনী। প্রায় ৯৫ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে অন্য কোথাও যানজট না থাকলেও এই তিনটি স্থানে যানজট অবধারিত।

এ ছাড়াও মহাসড়কের চান্দিনার মাধাইয়া ও দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ বাস স্টেশন এলাকাগুলোতে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। ওই যানজট নিরসনে কার্যত কোনো ভূমিকা নেই প্রশাসনের। 

বাসচালক বিল্লাল হোসেন জানান, যেখানে আমাদের গাড়ি থামানোর কথা সেখানে রিকশা ও মারুতি স্টেশন। মহাসড়কের পাশে অবৈধ দোকানপাট বসার পর তার সামনে মারুতি গাড়ির এলোপাতাড়ি সারি।

আমরা বাধ্য হয়েই মহাসড়কের মাঝে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠাই। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনি দেখেন তো, মারুতিগুলো কয়েকটি সারি হয়ে মহাসড়কের অর্ধেক দখল করে আছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে যানজট কিছুতেই কমবে না। 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, মহাসড়কের পাশে থাকা দোকানগুলো থেকে প্রতিদিন চাঁদা আদায় ও অবৈধ মারুতি থেকে প্রতিদিন চাঁদাবাজি বন্ধ করা না হলে স্টেশনের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা মোটেও সম্ভব হবে না। এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশ মাঝে মধ্যে টহল না দিয়ে স্থায়ীভাবে এই স্টেশনে একটি টিম কাজ করলেই যানজট নিরসন সম্ভব।

এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ওবায়েদুল হক জানান, ঈদকে সামনে রেখে আমরা অতিরিক্ত পুলিশ ও পাবলিক ডিফেন্স পার্টি নিয়োজিত করেছি। শনিবার থেকে আমাদের কার্যক্রম শুরু হবে। আশা করি ঈদে চান্দিনা ও ইলিয়টগঞ্জ বাজার এলাকার কোথাও যানজট থাকবে না।