শিরোনাম
Passenger Voice | ০৫:০২ পিএম, ২০২৩-০৫-২৭
পথচারীদের ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা পারাপার ঠেকাতে নির্মাণ করা হয়েছে ফুটওভার ব্রিজ। কিন্তু ব্রিজের দুই পাশের সিঁড়িসহ আশপাশের ফুটপাত বিভিন্ন দোকান এবং হকারের দখলে চলে যাওয়াতে ইচ্ছা থাকলেও পথচারীরা তা ব্যবহার করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রাস্তা দিয়েই পার হচ্ছেন তারা। ব্যস্ত রাস্তায় মানুষ পার হতে গিয়ে মুহূর্তেই তৈরি হচ্ছে যানজট। পান্থপথে সোনারগাঁও লিংক রোডে বসুন্ধরা শপিংমলের সামনে দিনের ব্যস্ত সময়গুলোতে সবসময়ই থাকে এমন চিত্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এ ফুটওভার ব্রিজটির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলেই শহরের ব্যস্ততম এই রাস্তার যানজট সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্পের অর্থায়নে নির্মিত হয় পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির সামনের ফুটওভার ব্রিজটি। এটি নির্মাণ করতে সে সময়ে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটওভার ব্রিজর রাস্তার দক্ষিণ অংশে ওঠার সিঁড়ির চারপাশের ফুটপাতে ছয়টি চায়ের দোকান রয়েছে। এসব দোকানের কারণে পথচারীদের সিঁড়িতে ওঠা বা এদিক দিয়ে নামার সুযোগ নেই। এ কারণে পথচারীরা বসুন্ধরা সিটির সামনের অংশে সড়ক বিভাজকের মধ্যে দেওয়া রেলিং ভেঙে সেখান দিয়েই যাতায়াত করছেন। এদিকে ব্যস্ত সড়কে মানুষ নেমে পড়ায় মুহূর্তেই তৈরি হচ্ছে যানজট। কয়েক মিনিটের মধ্যেই এ জট পান্থপথ থেকে কাওরানবাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে।
কয়েকজন পথচারী জানালেন, ওভারব্রিজের দুই পাশ দখলে থাকায় তারা বাধ্য হয়েই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হন। তবে নারী, শিশু এবং বয়স্কদের এমন অবস্থায় রাস্তা পার হওয়ার কারণে প্রতিদিনই ঘটছে ছোটবড় নানা দুর্ঘটনা। আবার এ রাস্তায় দীর্ঘসময় যানজটে আটকে থাকার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গাড়ি চালকরাও।
ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে নিয়মিত এ রাস্তা পার হওয়া বায়েজিদ আহমেদ বলেন, ‘এ রাস্তায় গাড়ি চালাতে গেলেই সামনে মানুষ এসে পড়েন। অনেক মানুষ রাস্তা পার হ্ওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় এখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় রাস্তা খালি থাকলেও পথচারীরাই হাত তুলে গাড়ি থামিয়ে রাস্তা পার হয়।’
ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফুটওভার ব্রিজটি হওয়ার পর এটি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাস্তার ক্রসিংগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তখন ‘ঝুঁকিমুক্ত রাস্তা পারাপার হউন, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করুন’ লেখা কয়েকটি ফেস্টুনও টানিয়েছিল ট্রাফিক।
ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাস্তায় শৃঙ্খলা আনতে আমরা ডিভাইডারে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছি। কিন্তু বসুন্ধরা সিটির লোকজন তাদের শপিংমলে ক্রেতা দর্শনার্থী কমে যাওয়ার কথা বলে রাতের আধারে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে দেয়। যতবারই বেড়া দেই ততবারই তারা সরিয়ে দেয়। আবার উচ্চপর্যায়ে তাদের যোগাযোগ থাকায় আমরা কোনও ব্যবস্থাও নিতে পারছি না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এ ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলেই শহরের ব্যস্ততম এ রাস্তার যানজট সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, শুধু পান্থপথের পফুটওভার ব্রিজটিই নয়, শহরের প্রায় সব সেতুই পদচারীদের ব্যবহার উপযোগী নয়। যে কারণে মানুষ ইচ্ছা থাকলেও সেগুলো ব্যবহার করতে পারছেন না।
পান্থপথের ফুটওভার ব্রিজ সম্পর্কে তিনি বলেন, পান্থপথ-সোনারগাঁও লিংক রোডটি এ এলাকার প্রধান সংযোগ সড়ক। এখানে মানুষ রাস্তায় নেমে পড়াতে রাস্তার স্বাভাবিক গতি ব্যহত হয়। এই ফুটওভার ব্রিজটি মানুষের ব্যবহার উপযোগী করে দিতে পারলে এ রাস্তার যানজট সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্তা ব্যক্তিরা বলছেন, সচেতনতার অভাবে কিছু মানুষ সময় বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে পার হয়। তবে মানুষকে সচেতন করতে তারা কাজ করছেন।
ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, পান্থপথ এলাকার যানজট নিরসনের লক্ষ্যেই এখানে ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবুও কিছু মানুষ অসচেতনতার কারণে সেতু ব্যবহার না করে রাস্তা দিয়ে পার হয়। আমরা তাদের সচেতন করতে বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করছি।
ওভারব্রিজের নিচে দখল হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি দখল থাকে তার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত