শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:৪৮ পিএম, ২০২৩-০৫-২৭
রাজধানীতে মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে থাকা চোরচক্রের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা পেলে তাদের শোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে। ঘটনা তদন্তে যাদেরই নাম উঠে আসবে তারা কারাগারে থাকুক আর বাইরে থাকুক তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ঢাকা শহরের আশপাশে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল চোরচক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানী থেকে চুরি করা মোটরসাইকেল চোরচক্রের সদস্যরা ছিল দোহার, নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ এবং চাঁদপুর এলাকাভিত্তিক। সম্প্রতি দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চোরচক্র ও চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচায় একটি বড় গ্রুপ তৈরি করেছে হবিগঞ্জের লাখাই রোডে একাধিক মোটর গ্যারেজ। রাজধানীতে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল কোন কোন এলাকায় চলে যায়; তার বিষয়ে বিশেষ নজরদারি রাখছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গোয়েন্দারা বলছেন, মোটরসাইকেল চোরচক্রের যেসব সদস্য বর্তমানে কারাগারে রয়েছে তারা কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, কারাগারের ভেতর থেকে মোটরসাইকেল চুরির সাথে জড়িত রয়েছে কিনা এসব বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এসব চক্রের সদস্যরা রেকি করে টার্গেট করে মোটরসাইকেল। একেক সদস্য একেক ধরনের কাজ করে। কয়েক ধাপে এক একটি মোটরসাইকেল চুরি করে চক্রের সদস্যরা। চালক মোটরসাইকেল রেখে অন্যত্র গেলে কাজ শুরু করে দেয় চক্রটি। প্রথম ধাপে একটি গ্রুপ চালকের অবস্থান শনাক্ত করে। আরেক ধাপে কাছাকাছি থাকা অন্য সদস্যরা তাদের কাছে থাকা মোটরসাইকেলের ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে মোটরসাইকেল ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যায়। আরেকটি চক্র মোটরসাইকেল কম দামে সাথে সাথেই কিনে নেয়। কিনে নেওয়ার পর চক্রের অন্য সদস্যদের সহায়তায় মফস্বল এলাকার বিভিন্ন মোটর গ্যারেজে বিক্রি করে দেয়। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন মটর গ্যারেজ মালিকের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চুরি হওয়া মোটরসাইকেলগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হয় মফস্বল এলাকায়। সেখানে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রি করে সাধারণ মানুষদের প্রতারিত করছে চক্রগুলো। দামি-দামি মোটরসাইকেল ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কম দামে কেনা এসব মোটরসাইকেল মফস্বল এলাকার লোকজন কিনে ভাড়ায় চালাচ্ছে। মফস্বল এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালালে কেউ জিজ্ঞাসাবাদ করে না, কাগজপত্র দেখতে চায় না। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে চক্রটি এ কাজটি করছে। সবগুলো এলাকাতেই যদি বাইকের কাগজপত্র চেক করা হয় তাহলে চোরাই মোটরসাইকেল সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
গেলো পাঁচ মাসে রাজধানী থেকে চুরি হওয়া ৫০টির বেশি মোটরসাইকেল উদ্ধার গোয়েন্দা পুলিশ উল্লেখ করে ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মোটরসাইকেল সড়কের পাশে বা অন্য কোথাও না রেখে অবশ্যই কোনও পার্কিং প্লেসে রাখা প্রয়োজন। এজন্য নিজেদের সচেতনতা প্রয়োজন।
কোনও মোটরসাইকেল চুরি হলে থানায় মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেন তিনি। মামলা না নিলে গোয়েন্দা বিভাগে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। চোরাই মোটরসাইকেল কিনে নিজেও যেন আইনের মুখোমুখি না হন সেই কারণে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং বিআরটিএতে খোঁজখবর নিয়ে মোটরসাইকেল কেনার অনুরোধ জানান গোয়েন্দা বিভাগের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত