শিরোনাম
কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ১৯.০৫ কোটি ডলার
Passenger Voice | ১১:৫৬ এএম, ২০২৩-০৫-২৪
হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত নির্মাণ হবে ঢাকার তৃতীয় মেট্রোরেল লাইন (এমআরটি লাইন-৫, নর্দান রুট)। পাতালপথ ও উড়ালপথের সমন্বয়ে নির্মিতব্য এ মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ মেট্রোরেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হবে প্রায় ২ হাজার ৬২ কোটি টাকা। টাকার বিপরীতে ডলারের সর্বশেষ বিনিময় হার অনুযায়ী (১ ডলারে ১০৮ টাকা ২৫ পয়সা) অনুযায়ী হেমায়েতপুর-ভাটারা মেট্রোরেল নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৫ লাখ ডলার। গতকালই মেট্রোরেলের একটি প্যাকেজে ঠিকাদার নিযুক্ত করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা আগামী জুলাইয়ে এ মেট্রোর নির্মাণকাজ শুরুর আশা করছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণের ব্যয় নিয়ে একটি বিশ্লেষণ করেছে নির্মাণ, পরিবহন ও অবকাঠামো খাত নিয়ে কাজ করা সংবাদমাধ্যম ‘ফিউচার সাউথইস্ট এশিয়া’। এতে বলা হয়েছে, লাহোর অরেঞ্জ লাইনের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ৬ কোটি ৬১ লাখ ডলার। একইভাবে জাকার্তা নর্থ-সাউথের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় সাড়ে ৭ কোটি ডলার, হো চি মিন সিটি লাইন-১-এর ৯ কোটি ৫৪ লাখ ডলার, হ্যানয় লাইন-২-এর ৬ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, দিল্লি লাইন-১-এর কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ৫ কোটি ৬ লাখ ডলার। উল্লিখিত সব মেট্রোই সংশ্লিষ্ট শহরগুলোর প্রথম। ‘ফিউচার সাউথইস্ট এশিয়া’র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এশিয়ার ব্যয়বহুল মেট্রোরেলে পরিণত হয়েছে ঢাকার এমআরটি লাইন-৬। ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেট্রোরেলের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ১ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। মার্কিন মুদ্রার হিসাবে ১৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলার (গতকালের ডলার রেট অনুযায়ী)। উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলাচলের জন্য নির্মীয়মাণ দেশের প্রথম এ মেট্রোরেলের পুরোটাই হচ্ছে উড়ালপথে।
এর চেয়েও বেশি ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে ঢাকার দ্বিতীয় মেট্রোরেলটি। বিমানবন্দর-কমলাপুর-পূর্বাচল রুটের জন্য এ মেট্রোরেলের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ১৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলার (গতকালের ডলার রেট অনুযায়ী)।
নির্মাণকাজ শুরুর অপেক্ষায় থাকা ঢাকার তৃতীয় মেট্রোরেলের ব্যয় প্রথম দুটিকে অতিক্রম করে গেছে। এতে প্রতি কিলোমিটার নির্মাণে গড়ে খরচ হবে ১৯ কোটি ৫ লাখ ডলার।
প্রতিবেশী ভারতে যেখানে মেট্রোরেলের কিলোমিটারপ্রতি গড় নির্মাণ ব্যয় ৪ থেকে ৬ কোটি টাকা, সেখানে বাংলাদেশে প্রতি কিলোমিটার মেট্রো নির্মাণে ১৯ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হওয়াকে অস্বাভাবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক এজন্য দায়ী করছেন মেট্রোরেলের মতো প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোনো প্রতিযোগিতা না থাকাকে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জি টু জি পদ্ধতিতে ঋণ নিয়ে। এ পদ্ধতিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে ঋণদাতা সংস্থার একটা পরোক্ষ প্রভাব থাকে। দরপত্র প্রক্রিয়া এমনভাবে করা হয়, যাতে কেবল নিদিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই সেটাতে অংশ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়া বলা হলেও দিন শেষে এ প্রক্রিয়াটি আর আন্তর্জাতিক থাকে না, একচেটিয়া হয়ে যায়।’
বাংলাদেশে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে এমনটিই হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
যদিও এ নির্মাণ ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়েই রয়েছে বলে মনে করছে ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ডিএমটিসিএল। জানতে চাইলে সংস্থাটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশে মেট্রোরেলের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এবং উন্নত মানের অবকাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে। মেট্রোরেলের নির্মাণ উপকরণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় অংশই আমদানিনির্ভর। এর পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ, ভ্যাট ও ট্যাক্সের মতো বিষয় রয়েছে। পরামর্শক খাতের ব্যয় রয়েছে। সবদিক বিবেচনা করলে দেখা যাবে বাংলাদেশে মেট্রোরেলের নির্মাণ ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়েই রয়েছে।’
প্রতি কিলোমিটার অংশ নির্মাণের জন্য গড়ে ১৯ কোটি ডলার ব্যয় হওয়া ঢাকার তৃতীয় মেট্রোরেলের একটি প্যাকেজের জন্য গতকালই ঠিকাদার নিযুক্ত করেছে ডিএমটিসিএল। ‘সিপি-১’ প্যাকেজে নিয়োগ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাপানের টিওএ করপোরেশন ও বাংলাদেশের স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্সের জয়েন্ট ভেঞ্চার মূলত হেমায়েতপুরে এ মেট্রোরেলের ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়নের কাজ করবে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ১ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার চুক্তি সম্পাদন করেছে ডিএমটিসিএল। চুক্তিমূল্যের এ হিসাব অনুযায়ী, প্রতি একর ভূমি উন্নয়নে খরচ হচ্ছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। যদিও ডিএমটিসিএলের হিসাবে ঢাকার প্রথম মেট্রোরেলের উত্তরা ডিপোর ভূমি উন্নয়নে একরপ্রতি খরচ হয়েছে ৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আর দ্বিতীয় মেট্রোরেলের পিতলগঞ্জ ডিপোর ভূমি উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে ৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
ডিএমটিসিএলের তথ্য বলছে, হেমায়েতপুর-ভাটারা মেট্রোরেলের ভূমি উন্নয়নের জন্য যে ১ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, তার মধ্যে ১ হাজার ২৮ কোটি টাকা ঋণ হিসাবে দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। বাকি ১৬০ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের কোষাগার থেকে জোগান দেয়া হচ্ছে।
গতকালের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এমআরটি লাইন-৫, নর্দান রুটের প্রকল্প পরিচালক আফতাব হোসেন খান বলেন, মেট্রোরেলের এ লাইনের মাধ্যমে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে আংশিক পাতাল এবং আংশিক উড়াল পথে ভাটারা পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করা হবে। ২০ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৩২ মিনিট। আগামী জুলাই থেকে প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হবে। চালু হওয়ার পর মেট্রোরেলের এ পথে প্রতিদিন ১২ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী। অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরি ও জাইকার প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুচি তমোহিদে।
সূত্র: বণিক বার্তা
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত