দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় আজ ঢাকার অবস্থান ষষ্ঠ

Passenger Voice    |    ০৩:৪১ পিএম, ২০২৩-০৩-২৭


দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় আজ ঢাকার অবস্থান ষষ্ঠ

বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ১৫৬, যা বাতাসের মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে নির্দেশ করছে।

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা একিউআইয়ের তথ্য বলছে, সোমবার (২৭ মার্চ) ঢাকার বাতাসের মান রোববারের চেয়ে খারাপ হয়েছে। সূচকে আজ ঢাকার স্কোর ১৫৬, যার কারণে অবস্থান ষষ্ঠ। এর আগে রোববার স্কোর ছিল ১৩১, তার আগের দিন স্কোর ছিল ১৪৩।

এদিকে ২১৯ স্কোর নিয়ে আজ (সোমবার) খারাপ বাতাসের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই। এর আগের দুদিনও শীর্ষে ছিল শহরটি। আজ (সোমবার) বেলা সাড়ে ১১টায় আইকিউ এয়ারের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে এসব তথ্য।

তালিকায় দেখা গেছে, চিয়াং মাইয়ের পরের স্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে ভারতের দিল্লি, সৌদি আরবের রিয়াদ, চীনের উহান এবং পাকিস্তানের লাহোর, এর পর রয়েছে ঢাকা।

ঢাকার চেয়ে ভালো বায়ু বা বাতাস রয়েছে ইরাকের বাগদাদ, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন এবং চীনের শেনইয়াং শহরে।

একিউআইয়ের এ তালিকায় মোট ৬টি শ্রেণিতে রাখা হয়েছে বিশ্বের ১০২টি শহরকে। ওই তালিকায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থান হলো ‘বিপজ্জনক’। কোনো শহরের স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে তাকে ‘বিপজ্জনক’ স্থানে রাখা হয়। আজ ওই অবস্থানেই নেই কোনো শহর।

এর পরের স্থানগুলো যথাক্রমে খুবই অস্বাস্থ্যকর (২০১-৩০০), অস্বাস্থ্যকর (১৫১-২০০), বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য অস্বাস্থ্যকর (১০০-১৫০), সহনীয় (৫১-১০০) এবং ভালো বায়ু (০-৫০)।

তালিকা অনুযায়ী, ভালো বায়ুর তালিকায় শূন্য স্কোর নিয়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সল্ট লেক সিটি।

উল্লেখ, ২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদফতর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকার বায়ুদূষণের ৩টি প্রধান উৎস হলো: ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা এবং নিয়ম না মেনে প্রতিনিয়ত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা। 

কয়েক মাস ধরেই ঢাকা বাতাসের মানের দিক থেকে দূষিত শহরের তালিকায় রয়েছে। ক্যাপসের পরিচালক ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার সম্প্রতি সময় সংবাদকে বলেন, বায়ুদূষণের মাত্রা ২০০ ছাড়ালে বলা হয় মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর। ৩০০ হলে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শীত শুরু হলে এবং শেষের দিকে মানে শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের আবহাওয়া বছর বছর বাড়ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে একসময় জরুরি অবস্থাও জারি করা হতে পারে বলে মনে করেন এ গবেষক।

রাজধানীর বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ নির্মাণকাজ, ইটভাটা ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি। যেখানে-সেখানে বর্জ্য পোড়ানোর কারণেও ঘটছে দূষণ।

দুই যুগ ধরে এ বিষয়ে গবেষণা করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তথ্য বলছে, যেসব ধূলিকণা দেখতে পাওয়া যায় তার মধ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় রয়েছে পিএম ২.৫ নামে একটি কম্পাউন্ড, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে পুরো সিস্টেমকে অকেজো করে ফেলতে পারে।

ঢাবির রসায়ন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ‘পিএম ২.৫ নামের কম্পাউন্ডটি নাকের মধ্য দিয়ে ব্রেনে গিয়ে জমা হয়। এরপর স্বাভাবিক সেল এবং কার্যক্রমগুলো নষ্ট করে দেয়। এর মাধ্যমে ক্যানসারের মতো রোগ দ্রুত শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।’

কয়েক বছর ধরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে নগরবাসী মাত্র ২০ দিনের মতো স্বাভাবিক বায়ুগ্রহণ করছে বলেও জানা গেছে এ গবেষণায়।


প্যা/ভ/ম