ভারতকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

Passenger Voice    |    ০৪:০৭ পিএম, ২০২৩-০৩-২০


ভারতকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে পারস্পরিক স্বার্থে ভারতের কাছে চট্টগ্রাম ও সিলেট বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ভারত চাইলে আমাদের চট্টগ্রাম ও সিলেট বন্দর ব্যবহার করতে পারে।’

গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গভর্নিং কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের সদস্য রাম মাধব সাক্ষাৎ করতে এলে এ প্রস্তাব দেন তিনি। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব কেএম শাখাওয়াত মুন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। শাখাওয়াত মুন জানান, সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক স্বার্থে ভারত চট্টগ্রাম ও সিলেট বন্দর ব্যবহার করতে পারে। কানেক্টিভিটি বাড়লে এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়বে।’

পরে রাম মাধবের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য নেতৃত্বে বাংলাদেশের অসামান্য আর্থসামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন রাম মাধব।

দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাম মাধব বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চমত্কার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। আশা করছি, ভবিষ্যতেও এ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন দি ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু এন্ড ফ্রম ইন্ডিয়া’ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সেই অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে ভারত তার পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোয় পণ্য পরিবহন করার সুযোগ পাবে। এজন্য তারা বন্দর ও পরিবহন ব্যবহারের খরচ বহন করবে। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্য ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাত ধরনের মাশুল আদায় করবে।

কাস্টমসের তথ্যমতে, ভারতীয় পণ্য ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ কাস্টমস সাত ধরনের মাশুল আদায় করবে। এ সাতটি হলো প্রতি চালানের প্রসেসিং ফি ৩০ টাকা, প্রতি টনের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট ফি ৩০, নিরাপত্তা মাশুল ১০০, এসকর্ট মাশুল ৫০ ও অন্যান্য প্রশাসনিক মাশুল ১০০ টাকা। এছাড়া প্রতি কনটেইনার স্ক্যানিং ফি ২৫৪ টাকা এবং বিধি অনুযায়ী ইলেকট্রিক সিলের মাশুল প্রযোজ্য হবে। এ নির্ধারিত সাতটি মাশুল বাবদ বাংলাদেশ কনটেইনারপ্রতি ৫৫ ডলার পর্যন্ত পাবে। এর সঙ্গে আলাদাভাবে যুক্ত হবে চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল ।

উল্লেখ্য, সাধারণত সেভেন সিস্টারস নামে পরিচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় কলকাতা থেকে সড়কপথে ট্রাকে পণ্য পৌঁছাতে সময় লাগে এক সপ্তাহ বা তারও বেশি। নতুন এ রুটে দুদিনের মধ্যে কলকাতা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর সড়কপথে দ্রুত পৌঁছাবে আগরতলা সীমান্ত দিয়ে ত্রিপুরা।

প্যা/ভ/ম