শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৪১ এএম, ২০২৩-০৩-১৬
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের প্রধান সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ প্রায় চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। বিল না পাওয়ার অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে চলে গেছে। ফলে ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে আমদানীকৃত পণ্যবাহী ট্রাক। সড়ক খুঁড়ে রাখায় মাঝেমধ্যেই ট্রাক উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে বন্দরের স্বাভাবিক আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। সড়কে প্রচণ্ড ধুলার কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ব্যস্ততম স্থলবন্দর সড়কের নির্মাণকাজ মাসের পর মাস ফেলে রেখে ভোগান্তি সৃষ্টির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রাসহ এ পথ ব্যবহারকারীরা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে বলে দাবি সড়ক ও জনপথ বিভাগের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হিলি স্থলবন্দরের প্রধান সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয় গত অক্টোবরে। জিরো পয়েন্ট থেকে পানামা ৩নং গেট পর্যন্ত ২ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ কাজ পায় ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (এনডিই) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অক্টোবরের শেষ দিকে সড়কের কার্পেটিং তুলে ফেলাসহ ভেঙে ফেলা হয় সড়কের দুই পাশের স্থাপনা। এরপর সড়কের একপাশে ঢালাইকাজ শুরু হয়। এভাবে দু-এক সপ্তাহ কাজ করার পরই বিল না পাওয়ার অজুহাতে সরঞ্জামাদি নিয়ে চলে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। তার পর থেকেই মুখ থুবড়ে পড়ে আছে সড়কের উন্নয়নকাজ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। সড়কের প্রচণ্ড ধুলায় নাস্তানাবুদ হচ্ছেন পথচারীসহ স্থানীয়রা। একইভাবে ভাঙাচোরা সড়কের কারণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকচালকদের। ব্যাহত হচ্ছে স্থলবন্দরের স্বাভাবিক আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। এতে বেকায়দায় পড়েছেন সড়কের পাশের দোকানিরা। ধুলায় নষ্ট হচ্ছে মালামাল, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যে এ সড়কের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও চার ভাগের এক ভাগও হয়নি। তাই কবে কাজ শেষ কবে আর দুর্ভোগ লাঘব হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদ খান বলেন, ‘কাজ করার জন্য পাকা রাস্তা খুঁড়ে মাটি ফেলে রেখে ঠিকাদার পালিয়েছেন। এতে আমাদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ধুলাবালির মধ্যে হেঁটে পার হওয়ারও অবস্থা নেই।’
ভ্যানচালক আব্দুল খালেক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা থাকার পর রাস্তার কাজ শুরু হলে আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু কাজ শুরুর কয়েকদিনের মাথায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে ভাঙাচোরা সড়ক দিয়েই ভ্যান নিয়ে চালাতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভ্যানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভেঙে পড়ছে। ধুলায় শ্বাসকষ্টে ভুগতে হচ্ছে।’
স্থানীয় দোকানি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আগে যে রাস্তা ছিল, সামান্য ভাঙাচোরা থাকলেও সেটিই ভালো ছিল আমাদের জন্য। এখন রাস্তার কাজ করার জন্য খুঁড়ে রাখা হয়েছে। সামান্য একটু জায়গা ঢালাই দিয়েছে। তার পর থেকেই কাজ আটকে রয়েছে। যার কারণে আমাদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে সড়কের পাশের দোকান হওয়ায় ধুলায় মালামাল সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা তপন কুমার বলেন, ‘এ রাস্তা পার হয়েই একটি স্কুল ও একটি কলেজ রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী এ সড়ক দিয়েই চলাচল করে। এছাড়া উপজেলার একমাত্র হাসপাতালটিতে যাতায়াত করতে হয় এ পথ দিয়েই। ফলে ধুলায় সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
আমদানিকারক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দরের একমাত্র সড়কটির এ দুরবস্থার কারণে ভারত থেকে আমদানীকৃত পণ্য নিয়ে আসা ও বন্দরে পণ্য নিতে আসা বাংলা ট্রাকগুলোর প্রতিনিয়ত হয় পাতি ভেঙে যাচ্ছে না হয় চাকা ফেটে যাচ্ছে। যার কারণে অনেক ট্রাকচালক হিলি স্থলবন্দরে আসতেই চাচ্ছেন না।’
অন্য ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দরের রাস্তা যেটি পিচঢালা ছিল সেই রাস্তার পিচ থেকে শুরু করে ইট সম্পূর্ণ তুলে ফেলছে। এখন তো পুরো মাটির রাস্তার ওপর দিয়ে ট্রাক চলাচল করছে। বর্তমানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যার কারণে ঠিকমতো ট্রাক ঢুকতে পারছে না বন্দরে। সঠিক সময়ে পণ্য প্রবেশ করতে না পারায় ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ছেন।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি গোপাল সরকার বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করার পর পরই জানতে পারছি এ কাজের বরাদ্দ নেই। বিল না পাওয়ায় আমাদের পক্ষে সড়কের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া সড়কের জন্য পুরো জায়গা এখনো অধিগ্রহণ হয়নি, এটাও একটি সমস্যা। তবে বরাদ্দের বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা চলছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগ দিনাজপুরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কিছু সমস্যার কারণে হিলি স্থলবন্দরের সড়কের ফোর লেনের কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুনরায় কাজ শুরু হতে পারে। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ না হলে সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে না। সড়কের নির্মাণকাজ বিলম্ব হওয়ার কারণে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
হাকিমপুর (হিলি) পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন বলেন, ‘রাস্তার এই অবস্থার কারণে ব্যবসায়ীসহ পুরো হিলিবাসী অনেক কষ্টে রয়েছে। কাজ না হওয়ার কারণে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।’
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত