৫শ সিসির মোটরসাইকেল অনুমোদনে চাপ

Passenger Voice    |    ১১:৩০ এএম, ২০২৩-০৩-১০


৫শ সিসির মোটরসাইকেল অনুমোদনে চাপ

বর্তমানে দেশে ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বে সব ধরনের মোটরসাইকেল আমদানি নিষিদ্ধ। তবে রপ্তানির উদ্দেশে ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল উৎপাদন করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানি করতে পারে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এখন এসব অতিরিক্ত সিসির মোটরসাইকেল দেশে চলাচলের অনুমতি দিতে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন উৎপাদকরা। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দেশের সড়ক এই অতিরিক্ত সিসির বাহন চলাচলের উপযোগী নয়। এতে দুর্ঘটনা ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় করতে চায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। আগামী ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে থাকতে পারে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে মন্ত্রণালয়ের সচিব এবিএম আমিনউল্লাহ নুরীর।

এদিকে মোটরসাইকেল বিক্রিতে লাইসেন্স থাকার শর্ত শিথিলেও সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রথমে জানায় মোটরসাইকেল কিনতে হলে ড্রাইভিং লাইসেন্সের লার্নার কার্ড থাকতে হবে। পরে বলা হয় ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কেউ বাইক কিনতে পারবে না। তবে নানা অজুহাতে শর্তটি শিথিলে তদবির চালান ব্যবসায়ীরা। শেষ পর্যন্ত দুই দফা সময় বাড়ানো হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ বাড়ানো সময়সীমা শেষ হয়েছে। ফলে এখন কোনো প্রতিষ্ঠান কেবল লাইসেন্সধারী চালকের কাছে বাইক বিক্রি করতে পারবে। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত মানতে আপত্তি জানিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে তদবির করছেন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিনউল্লাহ নুরী বলেন, ‘এখনো সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয়নি। তাই বাইক বিক্রিতে অবশ্যই লাইসেন্স লাগবে।’ আর ৫০০ সিসির ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের অনুমোদন প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ‘এটিরও সিদ্ধান্ত হয়নি। কিছুদিন পর মিটিং আছে। সেখানে এ ইস্যুতে আলোচনা হবে।’

জানা গেছে, আমদানি নীতি আদেশে মোটরসাইকেলের সিসি সীমা বাড়ানোর পক্ষে-বিপক্ষে উৎপাদক ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মতভেদ ছিল। উভয় শ্রেণির স্বার্থ বিবেচনা করে ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বে সব ধরনের মোটরসাইকেল আমদানি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি দেশে ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল উৎপাদনের জন্য যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানির বিধান রাখে সরকার।

‘ইফাদ অটোস’ দেশেই ৫০০ সিসির মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমোদনের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের দেখাদেখি আরও কিছু ব্যক্তিপ্রতিষ্ঠান এ অনুমোদনের জন্য চাপ দিচ্ছে। তাদের যুক্তি, যেহেতু আমদানির অনুমতি আছে তা হলে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হোক।

তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, অধিক গতির বাইক এ দেশে চলাচলের উপযোগী নয়। তাদের মতে, অধিক সিসির বাইকে সড়কে দুর্ঘটনা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয়ভাবে ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল উৎপাদনের জন্য যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানির যে বিধান আমদানি নীতি আদেশে রাখা হয়েছে, তা শুধু রপ্তানির জন্য। অর্থাৎ যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানির মাধ্যমে ১৬৫ সিসির অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল উৎপাদন করে শুধু বিদেশে রপ্তানি করা যাবে, দেশের সড়কে চালানো যাবে না।

বিআরটিএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ৫ লাখ ৬ হাজার ৯১২টি মোটরসাইকেল নিবন্ধন হয়েছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে- বছরে প্রায় সাত লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদিত হয়। আগে আমদানি হতো মোটরসাইকেল। ২০১৮ সালে ‘মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা’ করে শিল্প মন্ত্রণালয়। এক যুগ আগে আমদানি করা যে মোটরসাইকেল দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন অর্ধেক দামে পাওয়া যাচ্ছে।

বিআরটিএর তথ্যমতে, ২০১০ সালে সারাদেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৫৫ হাজার ৫১৪টি। গত ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে ৪০ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৯। ১২ বছরে ছয় গুণ হয়েছে মোটরসাইকেল। ২০১০ সালে রাজধানী ঢাকায় নিবন্ধিত মোটরসাইলের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৮৭৯টি। ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বেড়ে হয়েছে ১০ লাখ ২৩ হাজার। ঢাকায় মোট যানবাহনের সংখ্যা ১৯ লাখ ৬৬ হাজার। সারাদেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৮। অর্থাৎ যানবাহনের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল।

সূত্রমতে, বাংলাদেশে অধিক সিসির মোটরসাইকেলের বাজার প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে। ইফাদ অটোস, রানার অটোমোবাইলস, র‌্যানকন মোটরবাইকস লিমিটেডসহ বিভিন্ন কোম্পানি দেশে ৫০০ সিসি বা তার বেশি মোটরসাইকেল উৎপাদনে বিনিয়োগ করছে। এসব কোম্পানি আমদানি নীতি আদেশে দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহারের জন্য সিসি সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করে আসছিল। সম্প্রতি ‘মোটরসাইকেল চলাচল নীতিমালা-২০২৩’-এর খসড়া তৈরি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এ নিয়ে অংশীজনের মতামত নেওয়ার কথা রয়েছে। খসড়া নীতিমালায় মোটরসাইকেলের গতিসীমা কমানোর প্রস্তাব করা হয়। সেখানে বলা হয় মহাসড়কে ১২৬ সিসির কম ক্ষমতার মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে না।

সুত্র: আমাদের সময়