দেনা পরিশোধে পদ্মা ব্যাংক সময় পাচ্ছে ১০ বছর

Passenger Voice    |    ১০:৪৮ এএম, ২০২৩-০২-২৩


দেনা পরিশোধে পদ্মা ব্যাংক সময় পাচ্ছে ১০ বছর

স্থায়ী আমানত হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের ৫০৮ কোটি টাকা রাখা হয়েছিল ফারমার্স ব্যাংক ঢাকার বিভিন্ন শাখায়। সবচেয়ে বেশি সুদ দেয়ার কথা বলে এ টাকা নিয়েছিল ব্যাংকটি। কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এর মধ্যে ঋণ কেলেঙ্কারি, নানা অব্যবস্থাপনায় ধুঁকতে থাকা ফারমার্স ব্যাংকের মালিকানা বদল হয়। নাম পাল্টে হয় পদ্মা ব্যাংক। এখনো সেই টাকা তুলতে পারেনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আটকে থাকা আমানত ও সুদ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৬ কোটি টাকায়। পদ্মা ব্যাংক এখন সেই টাকা ১০ বছরে পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আমানতও আটকে আছে ব্যাংকটিতে, যার পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ফারমার্স ব্যাংক তথা বর্তমান পদ্মা ব্যাংকে জমাকৃত টাকা ফেরত আনার বিষয়ে সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে আলোচনা হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মূলধন ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত লভ্যাংশের টাকা যথাসময়ে আদায়ে সুপারিশ তুলে ধরা হয়। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে একটি পরিকল্পনা দাখিল করেছে ব্যাংকটি। এ নিয়ে গত ১৮ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠকও হয়েছে। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংকটি বেশকিছু টাকাও পরিশোধ করেছে। 

এ বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বলেন, ‘বেসরকারি এ ব্যাংকের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে তারা ধাপে ধাপে টাকা পরিশোধের সুযোগ চেয়েছে। মন্ত্রণালয় তাদের অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব বিবেচনা করে ইতিবাচক হিসেবেই নিয়েছে। ব্যাংকটিকে পর্যায়ক্রমেই সে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেয়া হবে। এ বিষয়ে আরো একাধিক বৈঠক হবে। তবে এরই মধ্যে ব্যাংকটি বেশ কিছু টাকাও পরিশোধ করেছে।’  

জানা যায়, এক বছর মেয়াদি স্থায়ী আমানতে সর্বোচ্চ সুদ দেয়ার প্রস্তাব পেয়ে তৎকালীন দ্য ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান, মতিঝিল ও গুলশান সাউথ অ্যাভিনিউ শাখায় জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের ৫০৮ কোটি ১৩ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা জমা রাখা হয়। এর মধ্যে ৪৫৫ কোটি ৩২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এ টাকা নগদায়নের জন্য কয়েকবার চাহিদাপত্র ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের কথা আলোচনা হয় বিভিন্ন সময়ের অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে। টাকা দিতে না পারার কারণ হিসেবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তখন জানিয়েছিল, ব্যাংকের তারল্য সংকটের কারণে এফডিআরগুলো নগদায়ন করা যাচ্ছে না।

পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রিয়াজ খান এ বিষয়ে বলেন, ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের প্রায় ৭৩৬ কোটি টাকার মতো আমাদের ব্যাংকে আছে। এ অর্থ কীভাবে পরিশোধ করা যায় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরপর তিনটি মিটিং হয়েছে। এসব মিটিংয়ে মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সচিব উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার পর অর্থ ফেরতের বিষয়ে আমরা একটা প্রস্তাব জমা দিই। তাদের ১৫ বছরের মধ্যে সে অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা দেয়া হয় আমাদের পক্ষ থেকে। তবে মন্ত্রণালয় এ সময় কমিয়ে ১০ বছরে আনতে বলেছে। আমরা সে চেষ্টাও করছি।’ 

দ্য ফারমার্স ব্যাংক ২০১৪ সালে যাত্রা করে। তবে ঋণ বিতরণে নানা অনিয়মে ধুঁকতে থাকায় ২০১৯ সালে মালিকানা পরিবর্তন হয়। ওই বছরের শুরুতে ফারমার্স ব্যাংকের নাম বদল করে পদ্মা রাখার অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকটিতে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলো মূলধন জোগান দেয়। মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য বেশকিছু নীতিছাড়ও দেয়া হয়। নগদ অংশ সংরক্ষণ বা সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রিকোয়ারমেন্ট) ও বিধিবদ্ধ জমা বা এসএলআরের (স্ট্যাটিউটরি লিকুইডিটি রেশিও) অর্থ জমা রাখার বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মওকুফ করা হয় দণ্ড, সুদ ও জরিমানা। শুরুতে ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তার মেয়াদেই নতুন ব্যাংকটি নানা ধরনের ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে ধ্বংসের মুখে পড়ে।

তারেক রিয়াজ খান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের নেতৃত্বে আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমরা ব্যাংক খাতে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নজরদারির মধ্যে থাকব। ফলে যেসব সংকট রয়েছে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।’ ব্যাংকের তারল্য ঠিক রেখে ব্যবসার মাধ্যমে ২০২৫ সালের মধ্যে ব্রেক ইভেন অতিক্রম করে লাভজনক পরিচালনায় যেতে পারবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্যা/ভ/ম