বায়ু দূষণের দায় সারতে সড়কে ছেটানো হচ্ছে পানি

Passenger Voice    |    ০৪:৪৪ পিএম, ২০২৩-০১-২৭


বায়ু দূষণের দায় সারতে সড়কে ছেটানো হচ্ছে পানি

সুযোগ-সুবিধায় পিছিয়ে থাকলেও বায়ু দূষণে বিশ্বের সব শহরকে পেছনে ফেলে এখন প্রথম স্থানে রাজধানী ঢাকা। বায়ুর মান মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হলেও এখনও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। কেবল রাস্তায় পানি ছিটিয়ে দায় সারছে নগর কর্তৃপক্ষ। আইন অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরে গণসতর্কতা জারির কথা থাকলেও তা চোখে পড়ে না।

ধুলা নিয়ন্ত্রণে সকাল হলেই রাজধানীর প্রধান সড়কে পানি ছিটায় সিটি করপোরেশনের গাড়ি। হাইকোর্টের নির্দেশে গেল তিন বছর ধরে চলছে এই কার্যক্রম। কিন্তু পরিস্তিতি বদলায়নি।

প্রধান সড়ক একবার ভিজলেও গলিপথগুলো শুকনাই থাকে। আবার পানি ছিটানোর ঘণ্টা না পেরুতেই আগের রূপে ফিরে রাস্তাগুলো।

বাতাসের ‘বিষ’ নিয়ে পরিবেশবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লেও নির্বিকার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, বাতাসের মান বর্তমানের মতো খারাপ থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে গণসতর্কতা জারি করার কথা পরিবেশ অধিদপ্তরের। কিন্তু এমন উদ্যোগ এখনও দেখা যায়নি।

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বায়ু দূষণের উদ্বেগের মাত্রা বেশি হলে প্রয়োজনে সাময়িকভাবে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এই ভয়াবহতাকে স্বীকার করে নিয়ে সামনের দিনগুলোতে কীভাবে মোকাবিলা করব, এটা গুরুত্বপূর্ণ।

গেল বছর দূষণের হটস্পট চিহ্নিত ও দূষণ কমাতে পরিকল্পনা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। নির্দেশনা পেয়ে সিটি করপোরেশনের পানি ছিটানো ছাড়া আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। নির্বিকার অন্য সংস্থাগুলোও।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে তদারকি করছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনেকাংশে কমে এসেছে। কিন্তু আমাদের যে প্রত্যাশা, সেখানে পৌঁছাতে পারিনি। অনুরোধ করব, রাজউকও যেন এ ব্যাপারে আরও সক্রিয় হয়।

ধুলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নির্মাণকাজে কঠোর নজরদারির পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সরকারের উচিত ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়নযজ্ঞের লাগাম টেনে দেওয়া। পাশাপাশি ইটভাটা থেকে শুরু করে মানহীন গাড়িগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

পরিবেশ বাঁচায়ও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনেক নিম্নমানের কয়লা আমদানি করা হচ্ছে, সেটা যেন বন্ধ করা হয়।

আধুনিক ও বাসযোগ্য রাজধানীর প্রতিশ্রুতি দিলেও গত ক’বছরে বায়ু দূষণ রোধেই ব্যর্থ তারা। তাই বাতাসের বিষ তাড়াতে নগরপিতাদের সোচ্চার হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।