ধ্বসের হুমকিতে সিলেটের ধলাই সেতু

Passenger Voice    |    ১১:০১ এএম, ২০২৩-০১-০৭


ধ্বসের হুমকিতে সিলেটের ধলাই সেতু

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ‘ধলাই সেতু’ সিলেট বিভাগের দ্বিতীয় দীর্ঘতম সেতু। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য অবলোকন ও উত্মা ছড়া পর্যটন স্পটে যাতায়াতের একমাত্র পথ এ সেতু। সেতুর পিলারঘেঁষে অবাধে বালি উত্তোলনের ফলে ঝুঁকির মুখে পড়ে সেতুটি।

স্থানীয়দের দাবি, শীত মৌসুমেও পিলারঘেঁষে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে অবাধে বালি উত্তোলন। খনিজ সম্পদে ভরপুর জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরের সঙ্গে ভারত সীমান্তঘেঁষা তিনটি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ লাখ মানুষের সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করেছে ধলাই সেতু। সে সেতু এলাকা লক্ষ্য করে অবাধে বালি উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও পুনরায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেতুর পিলারঘেঁষে বালি উত্তোলন শুরু করে তারা। এ পরিস্থিতিতে সেতু রক্ষায় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে সীমান্তবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা আরমান আলী জানান, ধলাই সেতুর পিলারঘেঁষে বারকি নৌকা দিয়ে বালি তুলছে একটি অসাধু চক্র। দীর্ঘদিন ধরে পুরো এলাকা ধ্বংস করে দিয়ে সেতুর নিচ এলাকা লক্ষ্য করেছে ওই চক্র। এখনি সচেতন না হলে সেতু হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৪৩৪ দশমিক ৩৫ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের সেতুটি সিলেট বিভাগের একসময়ে দীর্ঘতম সেতু ছিল। দৈর্ঘ্যের দিক থেকে বিভাগে বর্তমানে এর অবস্থান দ্বিতীয়। ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির পাশের ধলাই নদের উভয় তীরের মানুষের যাতায়াতের জন্য ২০০৩ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ধলাই সেতু নির্মিত হওয়ায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর, উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ সরাসরি সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসে। পাশাপাশি দেশের সর্ববৃহৎ  ভোলাগঞ্জ কোয়ারি থেকে পাথর পরিবহন সহজ হয়।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধলাই সেতুর দুই পাশে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে সব ধরনের বালি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। আমরা নিয়মিত অভিযান করছি। সেতুটি রক্ষায় যা যা করার আমরা তাই করব।’


প্যা/ভ/ম