যাত্রীদের কাছে আতংকের নাম আরএনবি আমিনুল

রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর হাতেই নিরাপত্তাহীন যাত্রীরা

Passenger Voice    |    ০১:৪১ পিএম, ২০২২-১২-১৪


রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর হাতেই নিরাপত্তাহীন যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের হাতেই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে রেলওয়ের যাত্রীরা। প্রতিদিনের রেল যাতায়াতে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নিয়োগ দেয়া এসব আরএনবি সদস্যরাই এখন রীতিমত যাত্রীদের জন্য আতংক ও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাধিক ট্রেন যাত্রী বলেন, আরএনবিসহ রেলের কিছু স্টাফ নানাভাবে হয়রানি করেন। প্রতিদিনের যাত্রী হলেও চেকিংয়ের নামে আরএনবি, টিটি, টিসি এমনকি রেল পুলিশও জড়িত। তবে এসব কারণে নানা আতঙ্কে ট্রেন ভ্রমণ করতে হয়।

রেল যাত্রীদের মাঝে আতংকের কয়েক নাম আরএনবির সদস্য আমিনুল হক, সানি, মামুনুল, ইশ্রাফিলসহ । ঘুমন্ত রেল যাত্রীদেও ছবি তুলে তা হোয়াটসআ্যপসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাঠিয়ে যাত্রীকে হুমকি দিয়ে টাকা আদায়সহ নানা অভিযোগ এদেও বিরুদ্ধে। এ ছাড়া রেলের টিকেট কালো বাজারি থেকে শুরু করে হেন কোন অপকর্ম নাই যা এ সিন্ডিকেট করেনা। সরকারী বড় আমলা থেকে সাধারন যাত্রী সবাই লাঞ্চিত হয় এসব আরএনবি সদস্য দ্বারা।

গত ৩০ নভেম্বর আরএনবির সদস্যে আমিনুলের হাতে হয়রানির শিকার হন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহের মিয়া । এ ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম বরাবওে লিখিত অভিযোগ করেও কোন সুরাহা পাননি তিনি। লিখিত অভিযোগে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় প্রায় সময় ট্রেনে করেই অফিসে যাতায়াত করি।

গত ৩০ নভেম্বর ব্রাক্ষণবাড়িয়া হতে তূর্ণানিশিতা ট্রেনে ঢাকায় যাওয়ার পথে ঘুমন্ত অবস্থায় আমিনুল হক নামের এক আরএনবির সদস্য তাঁর ছবি তুলেন। কৌশলে তাঁর নম্বর নিয়ে ফোনে ওয়াটসঅ্যাপে ছবিগুলো দিয়ে ধাক্কা মারাসহ নানা হুমকি ও ১০ হাজার টাকা চাদাঁ দাবি করেন। এর আগে ২০২০ সালে রেলের এই সদস্য আমিনুলের বিরুদ্ধে ফেসবুকে সাগর খান নামে একটি ভুয়া আইডি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল । এই অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর হাবিলদার থেকে নায়েক পদে পদাবনতি করে দুই বছরের শাস্তি হয়েছিল তার।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহের মিয়া বলেন, আমি রেলওয়ে নিয়মিত যাত্রী। আরএনবির সদস্য আমিনুল হকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ট্রেনে এমন ঘটনা ঘটলে সাধারণ যাত্রীরা আতঙ্কে থাকবেন। আমিও একজন নিয়মিত যাত্রী হিসেবে ভব্যিষতে ট্রেনে যাতায়াত সাধারণ যাত্রী হিসাবে হুঁমকি বলে মনে করি। তবে অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নিলে প্রতিদিনই সাধারণ যাত্রীরা হয়রানির শিকার হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে (আরএনবি) বাসা বেঁধেছে নানা অনিয়ম। বাহিনীর কিছু সদস্যের কারণে বির্তকিত হয়ে পড়ছে ওই বাহিনী। তাদের হাতে নানা ধরনের হয়রানি, হুমকি, চাঁদাবাজি, টিকিট কালোবাজারি আর যাত্রী হয়রানি চলছে প্রতিনিয়ত। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন বরাবরে অভিযোগ দিলেও কর্ণপাত করেন না দায়িত্বশীলরা। তবে অভিযোগ আছে, অনিয়মের নেপথ্যে শীর্ষ কর্তারাই জড়িত। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন হয়রানির শিকার এক ট্রেন যাত্রী। আরএনবির সদস্যদের কাছ থেকে সাধারণ কোনো অভিযোগ বা দুই বছর পার হলেই মানবিক বদলির নামে কৌশলে টাকাও নিয়ে থাকেন শীর্ষ কর্তারা।

সুত্র জানায়,দীর্ঘদিন ধরে রেলের নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সংখ্যক সদস্যের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ট্রেনের যাত্রী হয়রানি, হুমকি, চাদাঁবাজি, বদলি বাণিজ্য চলে আসছে। এসবের সঙ্গে শীর্ষকর্তা থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের হাবিলদার, পোস্টিং হাবিলদার, কনস্টেবলসহ অনেকে জড়িত। তাদের মাধ্যমে শীর্ষ কর্তারা অনিয়মের বা চাদাঁবাজি চক্রে যুক্ত হন।  তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আরএনবির সদস্য আমিনুল হক বলেন, আমি এসব কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।

পুর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আরএনবি সদস্য কর্তৃক যাত্রী হয়রানির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগের কপি হাতে পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এমন ঘটনা কোনোভাবে কাম্য নয় বলে জানান তিনি।


পিভি/জেএম/ডেস্ক