শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:২৫ পিএম, ২০২২-১২-১১
ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা রেলপথটি ২০০৫ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে রয়েছে প্রায় ২৮ কিলোমিটার রেলপথ। নজরদারির অভাবে চুরি গেছে অধিকাংশ রেল। অবশিষ্ট যেটুকু আছে, তাও চাপা পড়েছে মাটির নিচে। রেলপথটিতে ব্যবহূত মূল্যবান নাটবল্টু, তার, সিগন্যাল ব্যবস্থাসহ স্টেশনের আনুষঙ্গিক অবকাঠামোর বেশির ভাগই আর নেই। শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ সেকশনের প্রায় ১৪ কিলোমিটার রেলপথের অবস্থা আরো খারাপ। ২০০৩ সাল থেকে বন্ধ রেলপথটির কোনো মালামালই এখন আর বহাল তবিয়তে নেই। কিছু রেল তুলে রাখা হয়েছে শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনে। অন্যদিকে রশিদপুর সাইডিং লাইনে রেল থাকলেও ফিশ প্লেট, ফিশ বোল্ট, স্লিপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ মালামালের কোনো অস্তিত্ব নেই।
হবিগঞ্জ জেলায় সব মিলিয়ে এমন পরিত্যক্ত রেলপথ রয়েছে ৪১ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার। আর দেশজুড়ে পরিত্যক্ত রেলপথের পরিমাণ ১৫৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার। গত ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৩তম সভার কার্যপত্রে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিত্যক্ত রেলপথের বেশির ভাগ মালামালই রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির অভাবে চুরি ও নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা জানান, পরিত্যক্ত রেলপথগুলোর মধ্যে কয়েকটি বন্ধ হয়ে যাওয়া শাখা লাইন এবং বিভিন্ন স্টেশনের সাইডিং লাইন। এগুলো দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় মাটিতে ঢেকে গিয়েছে। ফলে অকেজো হয়ে পড়েছে বিদ্যমান স্লিপার।
বাংলাদেশ রেলওয়ের দুই অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিত্যক্ত রেলপথ পূর্বাঞ্চলে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ২০ কিলোমিটার, ময়মনসিংহে ১২ কিলোমিটার, জামালপুরে ৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার ও গাজীপুরে দশমিক ৫ কিলোমিটার রেলপথের অবস্থান এখন মাটির নিচে। এসব পথে কোনো স্লিপার নেই। নেত্রকোনা জেলায় থাকা পরিত্যক্ত রেলপথের পরিমাণ ৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার। এ পথে রেল ও কিছু অকেজো স্লিপার এখনো রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। কিশোরগঞ্জ জেলায় থাকা ১ কিলোমিটার পরিত্যক্ত রেলপথের মধ্যে ৪০০ ফুট অংশে নবায়নকাজ চলছে। এ অংশটি ইঞ্জিন সান্টিংয়ের (ঘোরানো) জন্য ব্যবহার করা হবে। বাকি অংশে কোনো রেল, ফিশ প্লেট, ফিশ বোল্ট ও স্লিপার নেই। অন্যদিকে নরসিংদীতে পরিত্যক্ত রেলপথ আছে ২ দশমিক ২৫ কিলোমিটার। যদিও সে পথের কোনো অবকাঠামোর অস্তিত্ব নেই।
কমিউটার, গুডস সাইডিং ও এলএসডি মালগুদাম সাইডিংয়ের ৩ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার রেলপথ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় বর্তমানে মাত্র ২০ শতাংশ স্লিপারের ওপর রেলপথের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। রেল বাদে এ লাইনে আনুষঙ্গিক কোনো ফিটিংস নেই। অন্যদিকে সাইডিং লাইন ৭, ৮ ও ৯-এর ৮০ শতাংশ কাঠের স্লিপার অকেজো ও পচে নষ্ট হওয়ায় শুধু রেল লাইন পড়ে আছে। মৌলভীবাজার জেলায় থাকা পরিত্যক্ত রেলপথের পরিমাণ ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে সাতগাঁও সাইডিং লাইনের রেলের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও ফিশ প্লেট, ফিশ বোল্ট, স্লিপারের মতো মালামাল খুঁজে পাননি রেলওয়ের কর্মচারীরা। একই অবস্থায় রয়েছে শ্রীমঙ্গল ও ভানুগাছ সাইডিং লাইন।
পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে সবচেয়ে বেশি পরিত্যক্ত রেলপথ হবিগঞ্জ জেলায়। এরপর সর্বোচ্চ ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার পরিত্যক্ত রেলপথ রয়েছে ফেনীতে। ফেনী-বিলোনিয়া সেকশনে থাকা এসব রেলপথের কিছু চলে গিয়েছে মাটির নিচে, কিছু অংশ এখনো মাটির ওপরে আছে। তবে আনুষঙ্গিক বেশির ভাগ মালামালের কোনো খোঁজ নেই। হারানো মালামালের জন্য থানায় এজাহার দায়ের করে রেখেছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম জেলায় পরিত্যক্ত রেলপথ আছে ১০ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে টিএসপি সাইডিং লাইনটি রয়েছে অরক্ষিত অবস্থায়, হারিয়ে গেছে সব স্লিপার। একই অবস্থা স্টিল মিলস সাইডিং লাইনেরও। আর জেটি ইয়ার্ডের ৭০ শতাংশ রেলের কোনো অস্তিত্ব নেই।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে সব মিলিয়ে পরিত্যক্ত রেলপথ আছে ৩০ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে পাবনায় ভাঙ্গুরা সাইডিং লাইনের ৮৬৫ মিটার, নওগাঁ জেলার আত্রাই ঘাট লাইন ১, ২ ও ৩-এর ৬৬৮ মিটার ডাবল হেড রেল রয়েছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পরিত্যক্ত রেলপথ আছে গাইবান্ধা জেলায়, ১৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ত্রিমোহনী-বালাসীঘাটের ৯ কিলোমিটার ও বোনারপাড়া-ভরতখালীর ৮ কিলোমিটার রেললাইন ও ফিটিংস পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। একইভাবে ১২ কিলোমিটার পরিত্যক্ত রেলপথ আছে লালমনিরহাট জেলায়।
সারা দেশে থাকা বিপুল পরিমাণ পরিত্যক্ত রেলপথের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘বাংলাদেশ রেল অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত রেল খাতে কোনো উন্নয়ন তো হয়ইনি, উল্টো জনবল কমিয়ে ফেলা হয়। ফলে অনেকগুলো স্টেশন ও রেলপথ বন্ধ হয়ে যায়। সারা দেশে ১৫৮ কিলোমিটার রেলপথ পরিত্যক্ত অবস্থায় চলে যাওয়ার এটা একটা বড় কারণ। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে রেল খাতে প্রভূত উন্নয়ন করা হচ্ছে। আমরা বন্ধ হয়ে যাওয়া রেলপথ ও স্টেশনগুলো চালু করছি। একই সঙ্গে দেশের সবগুলো জেলাকে রেলের নেটওয়ার্কে আনার জন্য কাজ করছি।’
সূত্র: বণিক বার্তা
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত