শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:৪০ পিএম, ২০২২-১২-০৯
রাজধানীর ফকিরাপুল-নয়াপল্টন সড়ক আবারও বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুধু যানবাহন নয়, পথচারী সাধারণ মানুষকেও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না এ সড়কে। রাস্তার দুই পাশে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে সরজমিনে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক পুলিশ ফকিরাপুল মোড় এবং বিজয়নগর মোড়ে অবস্থান নিয়েছে। এলাকাটিতে যাদের বাসা-বাড়ি ও কর্মস্থল রয়েছে, তাদের চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পথচারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যাগ ও শরীর তল্লাশি করে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। যাদের পরিচয় পুলিশ নিশ্চিত হতে পারছে না, তাদের ব্যারিকেড থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ভিআইপি সড়ক নামে পরিচিত বিএনপি কার্যালয়ের সামনের সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত অলিগলিতেও পুলিশের ব্যারিকেড দেখা গেছে। বাসিন্দাদের পরিচয় দিয়ে এসব ব্যারিকেড ডিঙিয়ে বের হতে দেখা গেছে। এছাড়া নয়াপল্টন এলাকার সকল দোকান-পাট বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয় তালাবদ্ধ করে রেখেছে পুলিশ। এরকম অবস্থার মধ্যেও বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভ করছেন। রাস্তার নাইটিঙ্গেল মোড়ে শতাধিক নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। মাঝেমধ্যে পুলিশ তাদের ধাওয়া করলেও তারা আবারও জড়ো হচ্ছেন এবং বিক্ষোভ করছেন।
এর আগে, গত বুধবার সকাল থেকেই বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন দলটির নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়। এক পর্যায়ে রাস্তার একপাশ বন্ধ হয়ে গেলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে যায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। বিকেল পৌনে ৩টায় পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় নয়াপল্টন।
সংঘর্ষের সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। জবাবে পুলিশও পাল্টা টিয়ার শেল ও শটগানের গুলি ছুঁড়ে। এতে নিহত হন মকবুল নামের একজন, আহত হন বিএনপির অর্ধশত নেতাকর্মী।
প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে বিকাল সাড়ে ৪টায় বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এ সময় কার্যালয়ের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ১৫টি ককটেল। জব্দ করা হয় ১৬০ বস্তা চাল ও নগদ দুই লাখ টাকা। পরে অভিযান শেষে ককটেলগুলো বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এছাড়া সংঘর্ষের পর থেকে অভিযান পর্যন্ত বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আবদুল কাদের ভূঁইয়াসহ প্রায় ৪৭৩ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। তাদের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দেড় থেকে দুই হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে।
মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, উত্তর কমিটির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভোর সাড়ে ৩টার দিকে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম দাবি করেন, রাত ১০টা থেকে উত্তরায় তাদের বাসার আশপাশে অবস্থান নেয় গোয়েন্দা পুলিশ। রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বিএনপি মহাসচিবকে।
অন্যদিকে রাত তিনটার দিকে শাহজাহানপুরের বাসা থেকে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে গেছে সাদা পোশাকের পুলিশ। এমন অভিযোগ তার স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের। তিনি জানান, বিএনপির শনিবারের সমাবেশের ভেন্যু পরিদর্শন শেষে বাসায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মির্জা আব্বাস। নেতারা চলে যাওয়ার পর একটি গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যায় পুলিশ।
এর আগে, মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে ঢাকায় গণসমাবেশের জন্য কমলাপুর স্টেডিয়াম ও বাংলা কলেজ মাঠ পরিদর্শন করে বিএনপির প্রতিনিধি দল। পরে মির্জা আব্বাস জানান, স্থায়ী কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
প্যা.ভ/ত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত