২০ মিনিটে বিমান বন্দর থেকে বহদ্দারহাট আসতে পারবেন যাত্রীরা

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে : চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঘটবে আমুল পরিবর্তন

Passenger Voice    |    ০৫:১২ পিএম, ২০২২-১২-০৫


এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে : চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঘটবে আমুল পরিবর্তন

আবু মুছা জীবন ।। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে। এই এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে যানজট ছাড়াই দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন গড়ে উঠবে তেমনি বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্যের দ্বারও খুলে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা । 

চট্টগ্রাম শহরের  লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত তৈরি করা হচ্ছে চট্টগ্রামের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। কর্ণফুলীর তলদেশে নির্মিত টানেল চালুর সাথে সাথে এক্সপ্রেসওয়ের নিমতলা পর্যন্ত অংশও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তাছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যুক্ত হবে আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারের সাথে।

যানজট সমস্যা দিন দিন প্রখর হওয়ায় বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকা জরুরি কাজে সময়মতো হাজির হতে না পারা যেন নিত্য ঘটনা। জ্যামের কারণে শাহ আমানত বিমানবন্দরে যেতে না পেরে বিমান মিস করার ঘটনাও ঘটেছে বহুবার। অনেক বিনিয়োগকারী এসে জ্যামে আটকে আবার ফিরে যাওয়ার মতো ঘটনাও আছে। এই যানজট অভ্যান্তরীন ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও নীতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। যানজট নিরসন এবং বিমান বন্দর পর্যন্ত দ্রুত যাতায়ত ব্যবস্থার লক্ষ্যে চট্টগ্রামে প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছরের শেষে প্রকল্পটি চালুর পরিকল্পনা আছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে যাত্রীদের যানজটের দূর্ভোগ লাগব হবে। মাত্র ২০ মিনিটে শাহ আমানত বিমান বন্দর থেকে আপনার একজন যাত্রী বহদ্দারহাট আসতে পারবেন।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে জানান, চট্টগ্রামবাসীর জন্য প্রকল্পটি অতি গুরুত্বপূর্ণ।  কেননা বিমানবন্দর থেকে শহরে পৌঁছাতে ইপিজেড, কাস্টমস, দেওয়ানহাট ঘণ্টা জ্যামের কারণে বিলম্ব হয়ে যায়। এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটেই কোনো যানজট ছাড়া শহরের অভ্যন্তরে পৌঁছানো যাবে।

সাড়ে ১৬ কিলোমিটারের এক্সপ্রেসওয়ে ্যাম্প সহ দৈর্ঘ্য হবে ২০ কিলোমিটার। ২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স-্যাঙ্কিনকে। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা প্রকল্পের পিলার পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেল উদ্বোধনের প্রচেষ্ঠা চলছে। টানেলের উদ্বোধনের সাথে এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম অংশও চালু করতে চায় সিডিএ। সে লক্ষ নিয়েই কাজ করছে সিডিএ । 

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুল আলম প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেনএলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে দ্রুত যাতায়ত সম্ভব হবে বর্তমানে যে পথ এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের সে পথ কয়েক মিনিটে যাতায়ত হবে। এটি আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একজন বিনিয়োগকারী চান। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা। যাতায়ত ব্যবস্থা দ্রুত না হলে খরচ বেড়ে যায়।  এক্সপ্রেসওয়ে সে সুবিধা নিশ্চিত করবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে নতুন রুপ পাবে চট্টগ্রাম প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সংযুক্ত হবে দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু টানেলের সঙ্গে। চট্টগ্রামে বাড়বে বিনিয়োগ, বাড়বে অর্থনৈতিক গুরুত্ব। বিকশিত হবে পর্যটন খাত। বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে যোগাযোগ ব্যবস্থায়।  সঙ্গে ভোগান্তি নিরসন হবে কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত মূল সড়কে যাতায়াতকারীদের।

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, টানেল চালু হলে যানবাহনের গতিশীলতা আসবে। টানেল, আউটার রিং রোড এক্সপ্রেসওয়ে একই জায়গায় মিলিত হওয়ার কারণে সেখানে প্রচুর গাড়ীর সমাগম হবে। এজন্য পুরো কাজ শেষ করা সম্ভব না হলেও এক্সপ্রেসওয়ের শুরুর ১০ পৃষ্ঠায় দেখুন যানবাহনের গতির সাথে ১১ কিলোমিটার প্রাথমিকভাবে চালু করার চেষ্ঠা করছি। পতেঙ্গা থেকে নিমতলা পর্যন্ত গাড়ি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার চিন্তা আছে। এই অংশ চালু হলে যানজট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। চার লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ের প্রশস্ততা হবে ৫৪ ফুট। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ৯টি এলাকায় ২৪টি ্যাম্প (গাড়ি ওঠানামার পথ) থাকবে।

নগরীর টাইগারপাসে চারটি, আগ্রাবাদে চারটি, বারিক বিল্ডিং মোড়ে দুটি, নিমতলী মোড়ে দুটি, কাস্টমস মোড়ে দুটি, সিইপিজেডে চারটি, কর্ণফুলী ইপিজেডে দুটি, কাঠগড়ে দুটি, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় দুটি ্যাম্প থাকবে। চার ধাপে প্রকল্পের কাজ হওয়ার কথা। এরমধ্যে লালখান বাজার থেকে বারিক বিল্ডিং, বারিকবিল্ডিং মোড় থেকে সল্টগোলা ক্রসিং, সল্টগোলা থেকে সিমেন্টক্রসিং, সিমেন্টক্রসিং থেকে সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে কাজ হওয়ার কথা।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ১১ কিলোমিটার অংশ খুলে দেয়ার লক্ষে আমরা কাজ করছি। কিছু জটিলতা ছিল, সেগুলো সমাধান হয়েছে। টানেলের উদ্বোধনের সাথে সাথে যেন এক্সপ্রেসওয়ে চালু করা যায় সে লক্ষে আমরা কাজ করছি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে নগরীর বহদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পর্যন্ত পৌঁছতে সময় লাগে দুই থেকে তিনঘণ্টা। অনেক সময়ে যানজটে পড়ে তারও বেশি সময় লেগে যায়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যাত্রীদের এই দুর্ভোগ দূর করবে। মাত্র ২০ মিনিটে এই পথ অতিক্রম করা যাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামের সঙ্গে বহিঃবিশ্বের যোগাযোগ আরো বৃদ্ধি পাবে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মাত্র কয়েক মিনিটে মূল শহরে প্রবেশ করা যাবে। দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী পর্যটকদের অন্যতম একটি আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত হবে চট্টগ্রাম শহর।

পিভি/জেএম/ডেস্ক