বিএনপির গণসমাবেশ কাল

কুমিল্লায় 'পরিবহন ধর্মঘট' থেকে সরে যাওয়ার নেপথ্যে

Passenger Voice    |    ০৭:৩২ পিএম, ২০২২-১১-২৫


কুমিল্লায় 'পরিবহন ধর্মঘট' থেকে সরে যাওয়ার নেপথ্যে

কুমিল্লার ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির মহাসমাবেশ। এ সমাবেশ ঘিরে কুমিল্লা হয়ে উঠেছে উৎসবের নগরী। বিএনপি নেতারা বলছেন, মহাসমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটানো হবে। বিএনপির অন্য মহাসমাবেশের চেয়ে কুমিল্লা খানিকটা ব্যতিক্রম। আগের সমাবেশগুলোতে দু'দিন আগে থেকে সংশ্নিষ্ট এলাকায় 'পরিবহন ধর্মঘট' ডাকা হলেও কুমিল্লার বেলায় তা হয়নি। এ নিয়ে পরিবহন নেতারা বলছেন ভিন্ন ভিন্ন কথা।

বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, শনিবারের সমাবেশের আগে 'পরিবহন ধর্মঘট' দেওয়া হতে পারে- দলটির নেতাকর্মীর এমন শঙ্কা ছিল। সমাবেশ সফল করতে আশপাশের জেলার নেতাকর্মীকে আগেভাগেই কুমিল্লায় পৌঁছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে বুধবার বিকেলে পরিবহন নেতারা ধর্মঘট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর বিএনপিতে স্বস্তি ফেরে।

এদিকে সমাবেশ মাঠে অবস্থান নিয়ে বহিস্কৃত নেতা সাবেক সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন গ্রুপের মধ্যে সংঘাতের শঙ্কা করছেন তৃণমূলের কর্মীরা। যদিও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এমন আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা কুমিল্লায় অবস্থান করে সার্বিক বিষয় তদারক করছেন।

যে কারণে নেই পরিবহন ধর্মঘট : কুমিল্লায় ধর্মঘট থেকে কেন সরে গেলেন পরিবহন নেতারা- এ নিয়ে একাধিক নেতার সঙ্গে সমকালের কথা হয়। কুমিল্লা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি অধ্যক্ষ কবির আহমেদ সমকালকে বলেন, 'দেশের অন্য বিভাগীয় শহরে যেখানে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছিল, সেখানকার পরিবহন নেতারা তাঁদের কিছু দাবি আদায়ের কথা তুলে ধরে ধর্মঘট ডেকেছিলেন। আমাদের তো কোনো দাবি নেই; থাকলে অবশ্যই ধর্মঘট দেওয়া হতো।' তিনি আরও বলেন, 'ধর্মঘট দিতে সরকারের পক্ষ থেকে যদি চাপ থাকত কিংবা সমিতির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত থাকত, তাহলে আমাদের ওপরও তো চাপ থাকত। কই, এমন তো চাপ ছিল না।' তিনি বলেন, 'পরিবহন সমিতি একটি ব্যবসায়ী সংগঠন, এখানে বিএনপি সমাবেশ করতে চায় করুক, আমরা বেহুদা ধর্মঘট দেব কেন?'

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমিতির একাধিক নেতা বলেন, 'ধর্মঘট দিতে কেউ কেউ মতামত দিলেও তা সফল করা নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জিংয়ের বিষয়টি উঠে আসে। কুমিল্লার ওপর দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম, কুমিল্লা-সিলেট, কুমিল্লা-চাঁদপুর-নোয়াখালী, কুমিল্লা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রেল সড়ক গেছে। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। তাই এসব এলাকার পরিবহন-সংশ্নিষ্টরাও ধর্মঘট দিতে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি।'