শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:৩৮ পিএম, ২০২২-১১-২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক ।। দোহাজারি কক্সবাজার রেললাইন চালু হলে দেশের পর্যটন খাত আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন পর্যটনখাত সংশ্লিষ্টরা। এই রেলপথের মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে । কক্সবাজারে নির্মাণ করা হচ্ছে ঝিনুকের আদলে করা দেশের প্রথম আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনে। এর ফলে দেশের পর্যটন খাত এগিয়ে যাবে আরেক ধাপ। কক্সবাজারের ঝিলংঝা ইউনিয়নের চান্দেরপাড়া এলাকায় তৈরি হচ্ছে ঝিনুক আকৃতির এ আইকনিক ভবন। ২৯ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা রেলস্টেশন ভবনটি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭ বর্গফুটের। ভবনটি হবে ছয়তলা।
মূল ভবনের সামনে খোলা মাঠে তৈরি হবে ঝিনুক আকৃতির দৃষ্টিনন্দন একটি ফোয়ারা। যাত্রীরা ঝিনুক ফোয়ারা দিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করবেন। এই স্টেশনটিতে পর্যটকেরা লাগেজ স্টেশনে রেখে সারা দিন সমুদ্রসৈকত বা দর্শনীয় স্থান ঘুরে রাতের ট্রেনে আবার ফিরতে পারবেন নিজ গন্তব্যে। এছাড়া ভবনটিতে থাকবে অভ্যর্থনাকক্ষ, শিশুদের বিনোদনের জায়গা, প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ, শপিংমল, রেস্তোরাঁ, তারকাকামানের হোটেল, কনফারেন্স হল।ফলে কক্সবাজার রেলপথ পর্যটন খাতের আমূল পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৩ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চালু করার আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটনখাতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, যদি কক্সবাজারে ট্রেন যায় এবং যাত্রীরা সহজেই টিকিট পায় তাহলে উপকৃত হবে পর্যটন খাত। চাহিদা অনুযায়ী যদি রেলসেবা ও বেশি সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করা যায় তাহলে দেশের পর্যটন খাতের আমূল পরিবর্তন হবে। বাসের চেয়ে ট্রেনে চলাচল আরামদায়ক হবে। বিশ্বের সব দেশেই পর্যটকদের জন্য আলাদা ট্রেন রয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। একদফা সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা। চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারের এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৭৬ শতাংশ। আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান। আগামী বছরের আগস্টের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে রেল চলাচল শুরুর আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ১৫০ কিলোমিটার আর দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। বর্তমানে দোহাজারী পর্যন্ত রেললাইন আছে। এজন্য দোহাজারী থেকে রামু হয়ে বন-পাহাড় নদী পাড়ি দিয়ে রেলপথটি যাচ্ছে কক্সবাজারে। নয়টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজরা, ইসলামাবাদ, রামু ও কক্সবাজার। কক্সবাজারের রামু, ঈদগাঁও, পেকুয়া ও চকরিয়া অংশে রেলট্র্যাক বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।
রেলপথের কাজের অগ্রগতির বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চালু করার আশা করছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২৩ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার। ওই সময়ে কিছু বৃষ্টিপাত থাকে। তবে আশা করছি ২৩ সালের আগস্টের মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু করতে পারবো।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণে হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর নির্বিঘ্নে চলাচল করার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এই রেলপথে হাতি চলাচলে একটি ৫০ মিটার দীর্ঘ ওভারপাস ও তিনটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে।
পাহাড় কেটে সমতল করে একটি ওভারপাস করে হাতি ও অন্যান্য প্রাণী চলাচলের পথটি স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ করতে ওভারপাস নির্মাণের কাজ চলছে বলেও জানান প্রকল্প পরিচালক। আর এই ওভারপাসের নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি আন্ডারপাসও। আন্ডারপাস দিয়ে চলবে ট্রেন। তিনটি আন্ডারপাসের কাজ শেষ বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের মূল্য বাড়ার কারণে সব ধরনের নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়লে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রকল্প পরিচালক।
রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, স্বপ্নপূরণের পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ। আইকনিক রেলস্টেশনের ছয়তলা ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন ফিনিশিং কাজ চলছে। প্রথম পর্যায়ে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে ১০০ কিলোমিটার রেলপথ। দ্বিতীয় পর্যায়ে রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮.৭২৫ কিলোমিটার নতুন সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মিত হবে। এতে দুটি (উখিয়া ও ঘুমধুম) নতুন স্টেশন নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এরজন্য ৩৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণও করা হবে।
প্রসঙ্গত, দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প ২০১০ সালের ৬ জুলাই একনেকে অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। পরে এক দফা বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ করা হয় ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রকল্পে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও ব্যয় বাড়েনি। ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল প্রকল্পটি ‘ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। রেলপথটি নির্মিত হলে মিয়ানমার, চীনসহ ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের করিডোরে যুক্ত হবে বাংলাদেশ।
পিভি/জেএম/ডেস্ক
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত