আবারও পেছালো খুলনা শিপইয়ার্ড রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্প

Passenger Voice    |    ১১:৫৭ এএম, ২০২২-১১-২১


আবারও পেছালো খুলনা শিপইয়ার্ড রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্প

চতুর্থবারের মতো পিছিয়েছে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের কাজ। ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা থাকলেও তা আবারও এক বছর ৬ মাস সময় বাড়িয়ে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১৩ সালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া ‘খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু ৯৮ কোটি ৯০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে তারা প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।

কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূলত তিন কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বারবার প্রস্তাবটি সংশোধন করতে হয়েছে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে— ভূমি অধিগ্রহণ কাজে বিলম্ব। প্রকল্পের আওতায় ৬টির মধ্যে ৫টি প্যাকেজের কাজ সম্পন্ন হলেও বাকি ১টির স্থাপনা অপসারণ কাজ স্থানীয় জনসাধারণের আপত্তির কারণে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে প্রকল্পের মেয়াদ আরও ১ বছর ৬ মাস বাড়ানোর জন্যই মূলত প্রকল্পটিতে সংশোধনী আনা হয়েছে, যা গত ৮ নভেম্বর একনেক সভায় অনুমোদন করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিশেষ সংশোধিত ব্যয় বাড়িয়ে ১২৬ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় বাস্তবায়নাধীন ‘খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটির মেয়াদ চতুর্থবারের মতো ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিদ্যমান অপ্রশস্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন, বিদ্যমান ৭ দশমিক ১২ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১৮ দশমিক ৩০ মিটার প্রস্থে উন্নীতকরণ, রূপসা ব্রিজ সংযোগ সড়ক থেকে খুলনা শহরে প্রবেশের জন্য স্বল্পতম দূরত্বের সড়ক নির্মাণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও যানজট কমানোর উদ্দেশ্যেই সরকার এই প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে।

জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ৯৫৭ হেক্টর জমি অর্থাৎ ৭ দশমিক ৩০৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ১৩ হাজার ৭০ দশমিক ১০ বর্গমিটার স্থাপনার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৩ হাজার ৭৭৮ মিটার ইউটিলিটি শিফটিং (বিদ্যুৎ ও টেলিফোন লাইন) করতে হবে। ২ লাখ ৫ হাজার ৩৮৯ দশমিক ৩২ ঘনমিটার জমির উন্নয়ন করা হবে। পেভমেন্ট নির্মাণ করা হবে ৩ হাজার ৭৭৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ ১৮.৩০ মিটার, ৪ লেন ও ফুটপাতসহ মোট ৬৪৯৪৫.৫০ বর্গমিটার। ৩টি ব্রিজ কালভার্ট ও স্লুইসগেট নির্মাণ করা হবে। ৭২০০ মিটার ড্রেন ও ফুটপাত ও ৭২০০ মিটার রিটেইনিং ওয়াল এবং ৩১০৭ মিটার রোড ডিভাইডার নির্মাণ করা হবে। ৩৭৭৮ মিটার বৈদ্যুতিক কাজ করা হবে। ২টি মনুমেন্ট স্থাপন করা হবে এবং ৪২০টি বৃক্ষরোপণ করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের এডিপিতে ১২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত আছে।

একনেকে উপস্থাপনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের মতামতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের ফলে খুলনা শহরের অভ্যন্তরে নিরাপদ ও যানজটমুক্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। এ কারণে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় এবং আইএমইডির সুপারিশ বা মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবটি একনেকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, বিভিন্ন কারণে দেড় বছর বাড়িয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সংশোধনী আনা হয়েছে। এটি খুলনা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে খুলনা শহরের অভ্যন্তরে নিরাপদ ও যানজটমুক্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে।

 

প্যা.ভ/ত