শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:০৭ পিএম, ২০২২-১১-১৯
ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের ১১ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ মামলাসহ নানা জটিলতার কারণে গত এক যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে পর্যটকসহ স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয় প্রতিদিন। তাই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলাপাড়া উপজেলার পাখিমাড়া বাজার থেকে মহিপুর পর্যন্ত সড়কটিতে বহু খানাখন্দে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা। সড়কে সব চেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে মোটরসাইকেল এবং তিন চাকার যানবাহন। বিভিন্ন স্থানে এসব গর্ত থাকায় যানবাহনগুলোকে তা এড়িয়ে চলতে হয়। ফলে মাঝে মধ্যেই উল্টে যায় অটোরিকশা, ছিটকে পড়েন যাত্রীরা।
পটুয়াখালী জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন মৃধা জানান, পাখিমাড়া থেকে মহিপুর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়কে দীর্ঘদিন ধরে রুটিন মেরামতে বিটুমিন ও ইট-পাথরের খোয়ার পট্টি দিয়ে চলাচলের উপযোগী রাখার কারণে পুরো রাস্তা দেবে গিয়ে উঁচু নিচু হয়ে আছে। এ পথে চলতে গিয়ে যাত্রীদের প্রচণ্ড ঝাঁকুনি সহ্য করতে হয়, যা পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে চরম পীড়াদায়ক।
তিনি আরও জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর কুয়াকাটায় বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। একইসঙ্গে বেড়েছে গাড়ির চাপ। আর এসব কিছুর প্রভাব পড়েছে রাস্তার ওপর। এদিকে সরু ও উঁচু-নিচু রাস্তা হওয়ায় প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। যা পর্যটন শিল্পের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটিয়ে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে আদালত নতুন রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য দাবি জানান তিনি।
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে কলাপাড়া পৌর শহর থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়ক নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সওজ কর্তৃপক্ষ। ২২ কিলোমিটার সড়কের ১১ কিলোমিটার অংশের নির্মাণকাজ করে দ্য রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নিম্নমানের কাজের কারণে বিল নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। আর তা পৌঁছায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে সওজ কর্তৃপক্ষ নতুন করে সড়কটির নির্মাণে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। শুধুমাত্র বছর বছর রুটিন মেরামতের মাধ্যমে জোড়া তালি দিয়ে সড়কটি সচল রাখার চেষ্টা করছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদ খান বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে কাজ করা হচ্ছে। দ্রুত ঠিকাদার ও অধিদফতরের মধ্যে বিরোধ আদালতের মাধ্যমে নিস্পত্তি হবে বলে মনে করি। বৃষ্টিতে সড়কে যেসব খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে তা শিগগিরই মেরামত করা হবে।’
উল্লেখ্য, পদ্মাসেতু চালুর পর ফেরি বিহীন যাত্রা পথের জন্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে কুয়াকাটা যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ঢাকা থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব ২৭০ কিলোমিটার, পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। রাজধানী থেকে ২৭০ কিলোমিটার সড়কে মাত্র ১১ কিলোমিটার ছাড়া বাকি সব পথটুকুই আরামদায়ক।
প্যা.ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত