শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:২৪ এএম, ২০২২-১১-১৯
সিলেটে একদিকে বিএনপির গণসমাবেশ, অন্যদিকে বিভাগজুড়ে পরিবহন ধর্মঘট। তাই আগেই সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থান নিয়েছেন সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যেই কানায় কানায় ভরে গিয়েছে মাঠটি, যেখানে আজ অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ। এতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
সিলেট বিভাগের তিন জেলার পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ গতকাল সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়। বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সমাবেশের ঠিক আগের দিন মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে এ ধর্মঘট পালন করায় কিছুটা বিপাকেই পড়তে হয় দলটির নেতাকর্মীদের। পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি বাড়ে সাধারণ মানুষেরও। আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের ইজতেমা চলায় শুধু সিলেট জেলায় গতকাল ধর্মঘট ছিল না। তবে আজ ঠিকই ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এদিকে ধর্মঘট থাকায় রাতেই সিলেটে চলে এসেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। কোনো কোনো এলাকা থেকে নৌপথেও সমাবেশস্থলে পৌঁছেছেন অনেকে। দলটির নেতারা বলছেন, সব বাধা উপেক্ষা করেই জনসভা রূপ নেবে জনসমুদ্রে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও এরই মধ্যে সিলেটে পৌঁছে গিয়েছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ কেন্দ্রীয় নেতারা গতকাল মাঠও পরিদর্শন করেছেন।
সরজমিনে গতকাল ঘুরে দেখা যায়, বিএনপি নেতাকর্মীদের পদচারণায় উৎসবমুখর সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ। জেলাওয়ারি ক্যাম্প খোলা হয়েছে সেখানে। রয়েছে খাবারের ব্যবস্থা। পরিবহন ধর্মঘটের ভোগান্তি এড়াতে অনেকে দুদিন আগেই চলে এসেছেন বলে জানান। এছাড়া মাঠের বাইরেও সিলেট নগরীর ২২টি কমিউনিটি সেন্টার বুক করেছে বিএনপি, যেখানে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির অভিযোগ করেন, বিএনপির সমাবেশে জনসমাগম ঠেকাতেই ধর্মঘট দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই সমাবেশে উপস্থিতি কমাতে পারবে না। যত বাধাই আসুক, সমাবেশ সফল হবে। সিলেটের এ সমাবেশ ইতিহাস সৃষ্টি করবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিএনপির গণসমাবেশ শনিবার হলেও শুক্রবার রাতের মধ্যেই সিলেট নগরী জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে বিএনপির সমাবেশকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগজুড়ে ধর্মঘট ডাকায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন পরিবহন নেতারা। তবে ধর্মঘটের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসূত্র নেই বলে দাবি তাদের। সিলেট জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা এ ধর্মঘট ডেকেছেন। ধর্মঘটের সঙ্গে বিএনপির সমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই। ইজতেমার কারণে সিলেট জেলায় গতকাল পরিবহন ধর্মঘট না থাকলেও আজ থেকে তাদের ধর্মঘট চলবে বলেও জানান।
সরজমিনে দেখা গিয়েছে, সিলেটে গতকাল পরিবহন ধর্মঘট না থাকলেও জেলার বাস টার্মিনালগুলো থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা। সিলেটের অভ্যন্তরীণ রুটেও বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তাই কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে বাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বাড়ি।
সুনামগঞ্জ জেলা শহরের নতুন বাস টার্মিনালসহ অন্যান্য স্টেশন এলাকায় গিয়েও দেখা যায়, কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। বন্ধ রয়েছে টিকিট কাউন্টারও। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারেও পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অসুস্থ আত্মীয়কে নিয়ে বড়লেখা উপজেলা থেকে সিলেট আসা ৭৫ বছরের বৃদ্ধ হাসনা বেগম বলেন, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তি রয়েছেন অসুস্থ বোন। বাস বন্ধ থাকায় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ভোরে দুই আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে কুলাউড়া বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছি। পরে সেখান থেকে ট্রেনে সিলেটে আসি।
এদিকে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বিকল্প পথে সমাবেশস্থলে এসে উপস্থিত হয়েছেন। গতকাল তারা নগরীতে বিশাল শোডাউনও দেন। আওয়ামী লীগ নেতারা অবশ্য বলছেন, কর্মসূচির নামে বিশৃঙ্খলা হলে শক্ত হাতে দমন করা হবে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিএনপির গণসমাবেশে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। তবে সমাবেশের নামে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে আমাদের নেতাকর্মীরা তা শক্ত হাতে দমন করবে।
বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয় সেজন্য সিলেট নগরীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতা বাড়ানো হয়েছে। পুরো শহরেই চলছে পুলিশের টহল। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও বিভিন্ন মোড়ে সিলেট মহানগর পুলিশের বিশেষ মহড়া দেখা গিয়েছে। আপত্তিকর ঘটনা প্রতিরোধে এ টহল বলে জানিয়েছে পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার নিশারুল আরিফ জানান, বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে সিলেটে যেন অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তত্পর রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বরাবরের মতোই পদক্ষেপ নেবে।
প্যা.ভ/ত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত