শিরোনাম
বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে পণ্য জট
Passenger Voice | ০৩:২৯ পিএম, ২০২২-১১-০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক ।। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ৭৫০ আমদানিকারকের পণ্য পড়ে আছে চট্টগ্রাম বন্দরে। ২০১৩ থেকে ২০২১ পর্যন্ত এসব পণ্য আমদানি করে খালাস নেয়নি প্রায় ৭৫০ আমদানিকারক। এতে করে বন্দরে কনটেইনারের পণ্য জটের পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণে রাজস্ব। কাস্টমস আইন অনুযায়ী সমুদ্রবন্দরে পণ্য আমদানির ৩০ দিনের মধ্যে আর বিমানবন্দরে অবতরণের ২১ দিনের মধ্যে শুল্ককর পরিশোধ করে খালাস নিতে হয়।
কাস্টম হাউসের তালিকায় দেখা গেছে, খালাস না নেয়া বেশিরভাগ পণ্য ২০১৪, ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালে আমদানি করা হয়েছে। আবার কিছু চালানের পণ্য ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালে আমদানি করা হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পণ্য খালাস না নেয়া এসব আমদানিকারকদের তালিকা তৈরি করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। ইতোমধ্যে এ তালিকা এনবিআরেও পাঠানো হয়েছে। যদিও ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানিকারকরা সমস্যায় না পড়লে কখনোই পণ্য বন্দরে ফেলে রাখে না। আর কাস্টমস বলছে, ব্যবসায়ীদের তাগিদ দেয়ার পরও অনেক সময় পণ্য নেয় না।
এনবিআর সূত্রমতে, চলতি বছরের গত ২৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি সভা হয়েছে। সভায় আমদানিকৃত পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডেলিভারি গ্রহণ করেন-এমন আমদানিকারকের তালিকা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস একটি তালিকা তৈরি করে। যার একটি কপি গত ১৫ সেপ্টেম্বর এনবিআরে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, পণ্য খালাস না নেয়ার পেছনে মূল কারণ হলো কাস্টমস। কাস্টমসের জটিলতার কারণে বেশিরভাগ পণ্য খালাস হয় না। এসব আমদানিকারকের পণ্য কেন খালাস হয়নি তা তদন্ত করতে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কমিটি করা উচিত।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কিত সভায় বন্দরে আমদানি করা পণ্য সময়মতো গ্রহণ না করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কতিপয় আমদানিকারক সময়মতো আমদানি করা পণ্য গ্রহণ না করায় বন্দরে পণ্য বা কনটেইনার জট তৈরি হয়।
আমদানি করা পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডেলিভারি গ্রহণ করেনি এ রূপ আমদানিকারকের তালিকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী কাস্টম হাউস ৮৪৬ প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে এনবিআরকে দিয়েছে। তবে খালাস না নেয়া পণ্যগুলো কোন ধরনের পণ্য, তা তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি।
এই নিয়ে কাস্টম হাউস গণবিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে। এছাড়া ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের তাগাদা দেয়া হয়। কিন্তু বেশিরভাগ সময় পণ্য খালাস নেয়া হয় না। নিলামও করা হয়। তবে বিতর্কিত পণ্য নিলাম করা হয় না। তালিকায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, বিল অব এন্ট্রি নাম্বার ও তারিখ দেয়া হয়েছে। তালিকায় গ্রুপ অব কোম্পানি, বহুজাতিক কোম্পানি, দেশি-বিদেশি কোম্পানিও রয়েছে।
পিভি/জেএম/ডেস্ক
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত