শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:০৪ এএম, ২০২২-১১-০৮
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অধীনে দুটি সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। একটি সড়ক হচ্ছে ‘বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ’ প্রকল্পের অধীনে। ‘ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের অধীনে হচ্ছে আরেকটি সড়ক। এ জন্য প্রকল্প দুটির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। একটিতে বাড়ছে খরচও। আজ সোমবার প্রকল্প দুটি একনেকে ওঠার কথা।
সওজের প্রধান প্রকৌশলী একেএম মনির হোসেন পাঠান বলেন, ‘এ দুটি প্রকল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর একটি চট্টগ্রাম ও রামগড় স্থলবন্দরকে যুক্ত করবে। আরেকটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে সংযুক্ত করেছে।’
জানা গেছে, বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়কের ৩৮ কিলোমিটার প্রশস্ত করা হবে। ৫ দশমিক ৫ মিটার থেকে বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১১ দশমিক ৩ মিটার। ৮৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে খরচ বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ১১০৭ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকাল ধরা হচ্ছে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভারতীয় ঋণের এ প্রকল্পে ৬৮ দশমিক ৬১ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। আরসিসি বক্সকালভার্ট নির্মাণ করতে হবে ২৩টি। এ প্রকল্পের আওতায় দরপত্র আহ্বান করা হলে প্রাক্কলিত দরের বেশি প্রস্তাব করেছে ঠিকাদাররা। পূর্তকাজের প্যাকেজ নম্বর পিডব্লিউ ১-২-এর ক্রয়প্রস্তাবে সর্বনিম্ন দরদাতার দর ‘অফিসিয়াল কস্ট এস্টিমেট’-এর চেয়ে ২৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি। এ কারণে প্রাক্কলিত দর বাড়াতে হচ্ছে। এ ছাড়া ঋণচুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ‘ম্যাচিং ফান্ড’ হিসেবে প্রকল্পের ভ্যাট/আইটি বাবদ বরাদ্দ যোগ করতে হবে। মূল অনুমোদিত ডিপিপিতে সিডি ভ্যাট প্রাক্কলিত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তা যুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সওজ।
জানা গেছে, ১১০৬ কোটি প্রাক্কলিত ব্যয়ে পাঠানো প্রকল্প প্রস্তাবের ওপর ২০২০ সালে পিইসি সভা হয়। ওই সভার সুপারিশ অনুযায়ী আরডিপিপি পুনর্গঠন করেছে সওজ। মূল প্রকল্প প্রণয়নকালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মেশা অ্যাসোসিয়েটসের মাধ্যমে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চট্টগ্রাম ও রামগড় স্থলবন্দরের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সমীক্ষা অনুযায়ী, সড়কটির বিদ্যমান এভারেজ ডেইলি ট্রাফিক ৩১২৯। প্রতিবছর ২০ শতাংশ হারে বাড়বে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দিনে গড়ে ৮ দশমিক ৭০ লাখ টাকা যানবাহন পরিচালন ব্যয় কমবে।
আজকের একনেক বৈঠকে উত্থাপিত হবে সওজের নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পও। ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এটি এখন ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হয়েছে। ৪২১ কোটি টাকার প্রকল্প করা হয়েছে ৬০৪ কোটি। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সঙ্গে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সংযুক্ত হবে সড়কটি।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে ৬০৬ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পের সংশোধনের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। এ নিয়ে গত ১৬ জুন পিইসি সভা হয়। সে অনুযায়ী ৬০৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে আরডিপিপি পুনর্গঠন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দেখা গেছে সড়কটির বিদ্যমান অ্যানুয়াল এভারেজ ডেইলি ট্রাফিক (এএডিটি) ৪৯৬৭। প্রতিবছর ৭ শতাংশ হারে সড়কটির এএডিটি বাড়বে। এ সড়কটির উন্নয়ন হলে যানবাহন পরিচালন ব্যয়ে প্রতিবছর প্রায় ২৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে।
প্যা.ভ/ত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত