শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:২৪ পিএম, ২০২২-১১-০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক ।। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর উভয়তীরে দুই সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন। সোমবার সকালে কর্নফুলী নদীর তীরবর্তী সদরঘাটে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী উচ্ছেদ বাস্তবায়নের দাবী জানান সংগঠনটির নেতারা। একই দাবীতে বুধবার (৯ নভেম্বর) দুই শতাধিক সাম্পান নিয়ে ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চাক্তাই খালের মোহনায় নদীতে অনশন ধর্মঘট করবে পাঁচটি পরিবেশবাদি সংগঠন।
নদী কমিশনের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্মিলিত ভাবে এ দাবি বাস্তবায়ন না করলে আগামীতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। বাংলাদেশ নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজর আহমেদ চৌধুরীর চট্টগ্রাম সফর উপলক্ষে সোমবার (৭ নভেম্বর) মানববন্ধনে এ সব ঘোষণা দেওয়া হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, ২০১৯ সালের মে মাসে কর্ণফুলী তীরের ২ হাজার ১৮১টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করার সাড়ে তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষ এ রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি। হালদার মোহনা থেকে বঙ্গোপসাগরের কর্ণফুলীর মোহনা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকায় তিন হাজারের বেশি অবৈধ দখলদার কর্ণফুলী নদী দখল করে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুবিদাভোগী ভূমিখেকোরা এই দখলের সঙ্গে জড়িত। এসব অসাধু চক্র প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করার কারণেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হচ্ছে না। কিন্তু এই অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই কর্ণফুলী তার স্বাভাবিক গতি প্রবাহ হারাবে।
নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান বলেন, কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের রাস্তায় আমাদের সঙ্গে আন্দোলন করার কথা ছিল। কিন্তু তারা কোথাও কর্ণফুলী রক্ষার কথা বলেন না। যে কারণে সর্বস্তরের সুশীল সমাজ কর্ণফুলীর সাম্পান মাঝিরা কর্ণফুলী রক্ষার আন্দোলন করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী জেলা প্রশাসন, বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নদীর উভয় তীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীকে ২০০০ সালের পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রশাসন চাইলে একাধিক ভবন নির্মাণ করতে পারবে। কিন্তু একটি কর্ণফুলী নদী একটি চাক্তাই খাল সৃষ্টি করার ক্ষমতা প্রকৃতি ছাড়া আর করো নেই। যে কারণে কর্ণফুলী নদীকে স্বমহিমায় রক্ষা করার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ২০২০ সালের মে মাসে উচ্ছেদ করা নদীর জমি পুনরায় দখল করে সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। নদীর সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট আড়াই শতাধিক বনজ ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করা না হলে এভাবেই বার বার নদী এবং নদীতীর দখল হতে থাকবে।
চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের উপদেষ্টা বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী বলেন, কর্ণফুলী জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বমহিমায় প্রবাহিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। দেশের প্রচলিত আইনও তাই বলে। কিন্তু প্রশাসনের দেখেও না দেখা নীতির কারণে ভূমিখেকোরা দখল করে কর্ণফুলীকে পঙ্গু করেছে। চট্টগ্রাম মহানগরের ৭০ লাখ মানুষের বর্জ্য ও পলিথিনের দূষণে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে কর্ণফুলীর। যে কারণে দেশের অন্যতম খরস্রোতা এই নদী এখন মাছ ও জলজপ্রাণী শূন্য হয়ে পড়েছে। দেশের ৯২ শতাংশ অর্থনীতি সচল রাখা নদীর এই অবস্থা জনগণ কিছুতেই মেনে নেবে না।
চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের নির্বাহী সদস্য দিলরুবা খানমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পরিবেশ সংগঠক, লেখক নেছার আহমেদ খান, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সিনিয়র সহ সভাপতি জাফর আহমদ, সহ সভাপতি লোকমান দয়াল, সদস্য মিজানুর রহমান, সংগঠক আরমান হায়দার, সদরঘাট সাম্পান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ প্রমুখ।
পিভি/জেএম/ডেস্ক
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত