৮ বছর ধরে অফিস করেন সাইকেল চালিয়েেই

প্রভাতের ১০০০ কিলোমিটার ক্যাশলেস সাইকেল যাত্রা

Passenger Voice    |    ১২:০২ পিএম, ২০২২-১১-০৬


প্রভাতের ১০০০ কিলোমিটার ক্যাশলেস সাইকেল যাত্রা

সুস্থ জীবন ধারণের জন্য ৮ বছর আগে সাইক্লিং শুরু করেছিলেন প্রভাত চৌধুরী। ৮ বছর পরে তার সাইক্লিংয়ের দূরত্ব পূর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার কিলোমিটার। প্রভাতের এ অর্জন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে রেকর্ড করেছে প্রফেশনাল অ্যাথলেট অ্যাপ স্ট্রাভা।

সম্প্রতি প্রভাত চৌধুরী শেষ করেছেন নতুন চ্যালেঞ্জ। পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়ে ক্যাশলেস অবস্থায় সাইক্লিং করে পাড়ি দিয়েছেন তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত। ৯ দিনে এক হাজার কিলোমিটার সাইকেল চালানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতনতা তৈরির প্রচারণা চালানো ছিল এ যাত্রার লক্ষ্য। ক্যাশলেস অবস্থায় এই সাইক্লিং করেছেন তিনি এবং সকল খরচ করেছেন বিকাশের মাধ্যমে।

হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ রাইডে প্রভাত কথা বলেছেন সাধারণ জনগণের সঙ্গে, ছড়িয়েছেন পরিবেশ রক্ষা করার বার্তা। এ ছাড়া তিনি স্কুল ও মাদরাসার শিশুদের মাঝেও ছড়িয়ে দিয়েছেন পরিবেশ রক্ষার প্রত্যয়। যাত্রার চতুর্থ ও ষষ্ঠ দিনে পরিবেশের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। প্রভাত বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করার এখনি সময়।

সাইক্লিংয়ের শেষদিন শনিবার প্রভাত কক্সবাজার থেকে যাত্রা শুরু করে দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভে সাইকেল চালিয়ে টেকনাফ জিরো পয়েন্টে পৌঁছান। একপাশে সমুদ্র সৈকত আর অন্যপাশে পাহাড় ঘেরা রাস্তা পার করে পূর্ণ করেন এক হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব। এ সময় তাকে স্বাগত জানান কক্সবাজারের সাইক্লিস্টরা।

এ সময় প্রভাত আগত পর্যটকদের উদ্দেশ্যে প্রভাত বার্তা দেন, সৈকতে যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলার। প্রতিবছর কক্সবাজারে লাখ লাখ পর্যটক আসেন। কিন্তু কক্সবাজারে বেড়াতে এসে পরিবেশ নষ্ট করছেন অনেকেই। প্লাস্টিকের বোতল, প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম কাপ এবং চিপসের মোড়ক বালিয়াড়িতে ফেলে দিচ্ছি। এতে পরিবেশ হুমকিতে পড়ছে। পরিবেশ হুমকিতে পড়লে আমরা ভালো থাকতে পারবো না। তাই পর্যটকদের সচেতন হতে হবে।

প্রভাতের শখ সাইক্লিং, ঢাকা শহরে যেখানেই যান না কেন প্রিয় সাইকেলটা সঙ্গে রাখেন তিনি। নিজে সুস্থ থাকতে এবং অন্যদের সাইক্লিংয়ে আকৃষ্ট করতেই সাইকেল চালিয়ে অফিসেও যান প্রভাত। তবে সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা লেন বা পার্কিংয়ের সুযোগ করে দেয়ার দাবি প্রভাতের।

প্রভাত বলেন, ‘মূলত আমি নিজেকে সুস্থ রাখতে সাইক্লিং শুরু করি। খুব ছোটবেলায় সাইকেল চালানো শিখি কিন্তু আসতে আসতে যখন বড় হই তখন বুঝতে পারি ঢাকা শহরে সুস্থ থাকতে হলে সাইক্লিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরপরে যখন চাকরি জীবন শুরু হয় তখন থেকে সাইকেল নিয়ে অফিসে যেতে শুরু করি।’

রাজধানী মহাখালীর বাসিন্দা প্রভাত চৌধুরী চাকরি করেন ঢাকার একটি কর্পোরেট হাউজে। আর গেল ৮ বছর ধরে সাইকেল চালিয়ে অফিস করছেন তিনি।

 

 

প্যা.ভ/ম