দাবি আদায়ের নামে ধর্মঘট ডাকেন মালিক-শ্রমিকরা

Passenger Voice    |    ০১:০৮ পিএম, ২০২২-১১-০৪


দাবি আদায়ের নামে ধর্মঘট ডাকেন মালিক-শ্রমিকরা

যে কোনো দাবি আদায় করতে গিয়ে পরিবহন ধর্মঘট ডাকেন মালিক-শ্রমিকরা। ধর্মঘটের ১৫ দিন আগে ঘোষণা দেওয়ার বিধান থাকলেও তা মানা হয় না। আবার কর্মবিরতি নাম দিয়ে ধর্মঘট পালনের প্রবণতা শুরু হয়েছে কয়েক বছর ধরে। এ ধরনের কর্মবিরতিতে খেসারত দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। ‘আচমকা’ ধর্মঘটের কারণে সবচেয়ে বেশি বেকায়দা পড়েন দূরের গন্তব্যের যাত্রীরা।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করতে হবে। হঠাৎ করে যান চলাচল বন্ধ করে দিলে কিংবা কর্মবিরতিতে গেলে গাড়ির রুট পারমিট বাতিল করতে পারবে বিআরটিএ। আর এ ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা এলে আইন অনুযায়ী সরকার পরিবহন সমন্বয় কমিটির (ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন কমিটি) সভা করে অথবা অন্য কোনোভাবে ধর্মঘট নিরসনের ব্যবস্থা নিতে পারে। প্রয়োজনে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারে। কারণ অনেক সময় দাবি আদায়ের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

পরিবহনকর্মীরা ভাড়া বৃদ্ধি, সড়ক আইনের শর্ত শিথিলসহ নানা দাবিতে বিভিন্ন সময়ে কর্মবিরতি পালন করেছেন। চালকদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রহিত করার দাবিতেও গাড়ি বন্ধ রেখেছেন পরিবহনকর্মীরা। সরকারিভাবে বিকল্প বাহনের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবহনকর্মীদের দাবি মানার ঘটনা নতুন নয়।

তবে গত দুই মাসে আঞ্চলিক পর্যায়ে পরিবহনকর্মীরা ধর্মঘট ডাকলেও তা নিরসনে দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। যদিও এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল সচিবালয়ে বলেছেন, গাড়ি বন্ধের বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নেই। বরং গাড়ি চলাচল যেন অব্যাহত থাকে, সে জন্য সরকারের চেষ্টা থাকে। এর আগে সরকারের দুজন মন্ত্রী বলেছেন, পরিবহনকর্মীরা নিরাপদ মনে না করায় রাস্তায় হয়তো গাড়ি বের করার সাহস পাচ্ছেন না।

বরিশালে আজ ও কাল পরিবহন ধর্মঘট থাকবে। পাঁচ দফা দাবিতে এ ধর্মঘট ডেকেছে বরিশাল জেলা মিশুক, বেবিট্যাক্সি, ট্যাক্সিকার ও সিএনজিচালক শ্রমিক ইউনিয়ন। দাবিগুলো হলো- বরিশাল জেলা বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন কর্তৃক চালকদের হয়রানি বন্ধ করা, মেট্রোপলিটন এলাকায় নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা করা, মেট্রোপলিটন এলাকায় সব রুটে থ্রি-হুইলার গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করা, গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে ভাড়ার চার্ট প্রদান করা এবং সহজ শর্তে দ্রুত ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা। কেউ কেউ বলছেন, বরিশালে বিএনপির সমাবেশ লক্ষ্য করে সরকারের ইন্ধনে এ ধর্মঘট ডাকা হচ্ছে।

বুধবার সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ সমাবেশকে ঘিরে ধর্মঘট দিয়ে জনদুর্ভোগ না বাড়ানোর আহ্বান জানান। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাস ধর্মঘট কেন হয়েছে, তা শিমুল বিশ্বাসকে (বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান) জিজ্ঞেস করুন।

তবে শিমুল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, অধিকাংশ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা পরিবহন ধর্মঘটের বিপক্ষে। তাদের সিদ্ধান্তে এ ধর্মঘট হচ্ছে না। সরকার ও প্রশাসন চাপ দিয়ে এসব ধর্মঘট ডাকাচ্ছে।

ধর্মঘটের প্রসঙ্গে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ধর্মঘটে সরকারের কোনো হাত নেই। পরিবহনকর্মীরা তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের আন্দোলন করছে। পরিবহন সংগঠনে বিএনপির শিমুল বিশ্বাস, জাতীয় পার্টির মসিউর রহমান রাঙা, শাজাহান খানসহ নেতারা আছেন। তারা ভালো বলতে পারবেন।

অনেকেই বলছেন, ভাঙচুর-অগ্নি সংযোগের ভয়ে সমাবেশের সময় পরিবহন বন্ধ রাখছেন মালিক-শ্রমিকরা। তবে এ ধর্মঘটের সঙ্গে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন বা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতারা সহমত পোষণ করেননি। উল্টো অনেকেই অভিযোগ করছেন, বিএনপির সমাবেশে জনসমাগম ঠেকাতে সরকার এ ধর্মঘটের কৌশল নিয়েছে।

চলতি সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায় ‘অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা আইন-২০২২’। এতে অত্যাবশ্যকীয় সেবা খাতে ধর্মঘট ডাকলে বা সমর্থন দিলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আইনটিতে ১৪টি ধারা আছে। কোন বিষয়গুলো অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা গণ্য হবে, তা ৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে। ৫ ধারায় বলা হয়েছে ধর্মঘট, লকডাউন বা লে-অফ নিষিদ্ধ করার কথা। স্থল, জল, রেল ও আকাশপথের যাত্রী বা পণ্য সেবাও অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বলে পরিচিত হবে। স্বশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠানও এর মধ্যে পড়বে। এর বাইরে সরকার মনে করলে যে কোনো সেবাকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা ঘোষণা করতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘যদি কেউ এ জাতীয় অপরাধ করে, তা হলে সাধারণভাবে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা হবে। আবার বেআইনি ধর্মঘট চলমান রাখার জন্য যদি সমর্থন দেয়, তা হলে ১ বছরের কারাদণ্ড ও অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।’

 

প্যা.ভ/ত