শিরোনাম
News Desk | ০৭:৫৩ পিএম, ২০২০-০৪-০৮
করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিক সংকটের কারণে বগুড়ায় বাফার গুদামে রাসায়নিক সার খালাস করা যাচ্ছে না। এতে গুদাম চত্বরে দিনের পর দিন অপেক্ষমান ট্রাকের চালক ও হেলপাররা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। খাবারের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা প্রায় অর্ধশত মানুষের পক্ষে দু’বেলা খাবার যোগানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতির জন্য গুদাম কর্তৃপক্ষ পরিবহন ঠিকাদারদের দায়ী করেছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাফার গুদামে একেতো সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে তার পাশাপাশি বর্তমানে সৃষ্ট করোনা পরিস্থিতির কারণে কারখানা থেকে নতুন করে সার উত্তোলন না করার জন্য পরিবহন ঠিকাদাদের অনুরোধ করা হয়েছিল কিন্তু তারা তা মানেননি। এমনকি উত্তোলন করা সারগুলো গুদামে ঢোকানোর জন্য অপেক্ষা না করে সরাসরি ডিলারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বলা হলেও তারা তা শুনছেন না।
বগুড়া শহরে তিনমাথা রেলগেট এলাকায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) মালিকাধীন সারের বাফার গুদাম রয়েছে। ৬ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ওই গুদামে দেশের বিভিন্ন সারকারখানা থেকে উৎপদাতি সার মজুদ রাখা হয়। পরে চাহিদা অনুযায়ী উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ডিলারদের বরাদ্দ দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোরো মৌসুমের জন্য বগুড়া বাফার গুদাম থেকে প্রয়োজনীয় সার মার্চ মাসের মধ্যেই বরাদ্দ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। তারপরেও বিভিন্ন কারখানা থেকে সার এনে রাখায় ওই গুদামে বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার বেশি সাড়ে ৬ হাজার মেট্রিক টন সার মজুদ রয়েছে। সম্প্রতি পরিবহন ঠিকাদারররা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড থেকে সার উত্তোলন করে ট্রাক যোগে বগুড়া বাফার গুদামে আনতে শুরু করে। কিন্তু দেশব্যাপী সৃষ্ট করোনা পরিস্থিতির কারণে বাফার গুদামে নিয়োজিত শ্রমিকরা না আসায় সার বোঝাই ট্রাকগুলো খালাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।
বুধবার দুপুরে বাফার গুদাম চত্বরে গিয়ে দেখা গেছে, প্রধান ফটক থেকে গুদামে প্রবেশের চেক পয়েন্ট পর্যন্ত সার বোঝাই ২০টি ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। পাশেই গাছতলা এলাকায় চালক ও হেলপার মিলে কয়েকজন ভাত রান্নার আয়োজন করেছেন।
শেখ ফরিদ নামে সিলেটের এক চালক জানান, তিনি ১৪ মেট্রিক টন সার নিয়ে তিনদিন আগে এসেছেন। কিন্তু সারগুলো এখনও খালাস করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘অফিসের লোকজন বলছেন আনলোড করার শ্রমিক নেই। কবে আসবে সেটাও তারা বলছেন না।’
দিনাজপুরের চালক সোহেল রানা বলেন, প্রথম একদিন তো পানি আর বিস্কুট ছাড়া কোন খাবারই পাইনি। পরে বাজার থেকে চাল, যাল ও সবজি কিনে রান্না করে কোন রকমে দু’বেলা খাচ্ছি। গুদামে সার না ঢুকিয়ে বাইরের জেলার ডিলারদের কাছে না পৌঁছানোর কারণ জানতে চাইলে ইউসুফ আলী নামে অপর এক চালক বলেন, ‘ভাড়ায় পোষাবেনা বলে আমরা যেতে পারছি না।’

যোগাযোগ করা হলে বগুড়ায় বিসিআইসির বাফার গুদাম ইনচার্জ মোস্তফা কামাল বলেন, তাদের গুদামে সার উত্তোলন ও খালাসের জন্য ৬০ জন শ্রমিক রয়েছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে তারা নিয়মিত আসতে পারছেন না। সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল তারা এসেছিলেন এবং বেশ কয়েকটি ট্রাকের সার খালাস করেছিল। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে পরিবহন ঠিকাদারদর কারখানা থেকে নতুন করে আর সার উত্তোলন না করতে বলা হয়েছিল কিন্তু তারা শুনছেন না। এমনকি উত্তোলন করা এসব সার গুদামে না ঢুকিয়ে আশ-পাশের কয়েকটি জেলার ডিলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বলা হলেও তারা রাজি হচ্ছে না। ভাড়া কমের অজুহাতে তারা যেতে চাচ্ছে না। বর্তমানে খালাসের অপেক্ষায় ২০টি ট্রাকে ২৮০ মেট্রিক টন সার আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা তিন দিন পর পর আসছে। হয়তো কাল তারা আসবে। তখন হয়তো খালাস করা সম্ভব হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এসব সার খালাসে বিলম্ব হলেও কোন অসুবিধা নেই। কারণ বোরো মৌসুমের সার এরই মধ্যে বরাদ্দ ও বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে গুদামে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত সার মজুদ রয়েছে।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত