শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:২০ এএম, ২০২২-১০-১৪
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিলাসবহুল ১০টি গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (এনএসইউ)। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১৭ কোটি টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে গাড়িগুলো এরই মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব গাড়ির ক্রয়মূল্য ছিল ১ কোটি ১০ লাখ থেকে শুরু করে প্রায় ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পাঠানো একটি চিঠিতে এসব তথ্য জানিয়েছে এনএসইউ কর্তৃপক্ষ।
বিভিন্ন সময়ে কেনা ১০টি বিলাসবহুল গাড়ি বিক্রি করে দিয়ে প্রাপ্ত অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলে জমা দিতে গত মে মাসে এনএসইউ উপাচার্যকে একটি চিঠি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব ড. মো. ফরহাদ হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘জানুয়ারি ২০১৯ থেকে জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত সময়ে কেনা ১০টি বিলাসবহুল গাড়ি খোলা দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে বিক্রয়কৃত অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে ব্যয়ের লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৪৪ (১) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিলে জমা প্রদানপূর্বক এ বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে জরুরি ভিত্তিতে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
ওই চিঠির আলোকে গত ২৬ জুন উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০টি গাড়ি ১৭ কোটি ৩০ লাখ ৬২ হাজার ৭৪৫ টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। গাড়ি বিক্রিসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে এনএসইউ কর্তৃপক্ষ। ওই প্রতিবেদনে গাড়ির নম্বর ও বিক্রয়মূল্য উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০টি গাড়ির মধ্যে আটটি রেঞ্জ রোভার বিক্রি করা হয়েছে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার ২৪৫ টাকায়। এক্ষেত্রে রেঞ্জ রোভারগুলোর দাম উঠেছে ১ কোটি ৭১ লাখ থেকে ২ কোটি পর্যন্ত। আর বাকি দুটি গাড়ির মধ্যে মার্সিডিজ বেঞ্জ ১ কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার ও টয়োটা প্রাডো ৯০ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
আরো পড়ুন: সমালোচনার তোপে গাড়ি ফেরত দিচ্ছেন ট্রাস্টিরা
এনএসইউ উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে উন্মুক্ত দরপত্রের আলোকে গাড়িগুলো বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রি বাবদ প্রাপ্ত অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলে জমা হওয়ার পর গাড়িগুলো ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিক্রিসংক্রান্ত কমিটির মতামত অনুযায়ী, গাড়িগুলো পুরনো হওয়া সত্ত্বেও সন্তোষজনক মূল্য পাওয়া গিয়েছে। আমরা বিক্রিসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।
এনএসইউর গাড়ি বিক্রি বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় একজন নীতিনির্ধারক বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ ধরনের বিলাসবহুল গাড়ির কোনো প্রয়োজন নেই। এজন্য মন্ত্রণালয় থেকে গাড়িগুলো বিক্রি করে দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। সে আলোকে এনএসইউর গাড়িগুলো একটি আদর্শ মানদণ্ড অনুসরণ করে বিক্রি করা হয়েছে।
এনএসইউ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দ্য নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের মাধ্যমে। ট্রাস্টের ডিডে ট্রাস্টের প্রকৃতি বিষয়ে বলা হয়েছে, এ ট্রাস্ট মানবহিতৈষী, দানশীল, জনহিতকর, অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও অবাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হবে। যদিও বছর কয়েক আগে নিজেদের ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি কেনেন ট্রাস্টিরা। শুধু গাড়ি নয়; এর চালকের বেতন ও জ্বালানি বাবদ মাসপ্রতি বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীর দেয়া ফি-বেতনের টাকা থেকে এমন বিলাসিতার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচার হলে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়টির ধনাঢ্য ট্রাস্টিরা। এরপর বিলাসবহুল গাড়ি কেনাসহ ট্রাস্টিদের নানা আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানে নামে সরকারের নানা সংস্থা। তদন্তে বিভিন্ন ঘটনার প্রমাণ মিললে এসব অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ট্রাস্টিকে বাদ দিয়ে সম্প্রতি এনএসইউর বোর্ড পুনর্গঠন করে দেয় সরকার।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরো বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৪৪ (১) অনুযায়ী প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সাধারণ তহবিল থাকবে এবং ৪৪ (৭) ধারা অনুযায়ী সাধারণ তহবিলের অর্থ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় ব্যয় ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যয় করা যাবে না। বর্ণিত বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়ন খাতে প্রয়োজনীয় ব্যয় না করে জানুয়ারি ২০১৯ থেকে জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত মোট ১২টি গাড়ি কেনে, যার মধ্যে ১০টি বিলাসবহুল, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
প্যা.ভ/তা
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত