কুলাউড়ায় ধসে গেছে ৬টি সেতু,নেই মেরামতের অগ্রগতি

Passenger Voice    |    ০১:১০ পিএম, ২০২২-১০-১০


কুলাউড়ায় ধসে গেছে ৬টি সেতু,নেই মেরামতের অগ্রগতি

ফানাই নদী পুনঃখননের পর মৌলভীবাজার কুলাউড়া উপজেলার চার ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কের ছয়টি স্থানের সেতু দেবে ভেঙে গেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে এসব সেতু দিয়ে চার ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ চলাচল করছেন।

এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড একে অপরকে দোষারোপ করে প্রায় দেড় বছর সময় পার করেছেন। তারপরও সেতু মেরামতে কোনো অগ্রগতি নেই।

তবে দীর্ঘদিন পর এ ফানাই নদীতে নতুন করে চারটি সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের কথা বললেন এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের কুলাউড়া সদর, রাউৎগাঁও, কর্মধা ও পৃথ্বিমপাশা--এ চার ইউনিয়নের মানুষ পাহাড়ি খরস্রোতা ফানাই নদীর একাধিক স্থানে নিজেদের তৈরি বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলা শহরে যাতায়াত করতেন। এতে এখানে দুর্ঘটনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।

১৯৯৭-৯৮ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে গ্রামের অবকাঠামো উন্নয়ন ও এসব লোকের দুর্দশা লাগবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ফানাই নদীতে ৮৫ ফুট গেন্দুয়া সেতু, ৯০ ফুট ভবানীপুর সেতু, ৬৩ ফুট গুটগুটি সেতু ও ৭০ ফুট কুমিয়া সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে।

অপরদিকে, ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরের সেতু কালভার্ট নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় ৪০ ফুট পালগাঁও-মুকুন্দপুর সেতু ও ভবানীপুর-হেলাপুর নামে দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এতে কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক সুফল ভোগ করেন।

এদিকে, এ ফানাই নদী উজানের পলি-বালিতে ভরাট হওয়াতে ডেল্টা প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২২ অর্থবছরে প্রায় ১৭ কাটি টাকা ব্যয়ে একচল্লিশ কিলোমিটর এ নদী পুনঃখনন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিতভাবে এ নদী পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন করেছে। নদী পুনঃখনন সম্পন্ন হওয়ার আগে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সেতুর মধ্যবর্তী স্থান দেবে গিয়ে ভেঙে পড়ছে। এতে নতুন করে কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ আবারও চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হচ্ছেন। এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘ দেড় বছর ধরে একে অপরকে দোষারোপ করছে। তারপরও সেতু নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেই। অপরদিকে কুলাউড়া-রবিরবাজার সড়কের ফানাই সেতুর অবস্থাও নাজুক। পাটাতন ফাঁকা হয়ে পড়ায়- গাড়ির চাকা আটকে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে।

জনপ্রতিনিধি মোসাদ্দেক আহমদ নোমান এ চার ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ সবকটি সেতু নির্মাণের দাবি করলেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আখতারুজ্জামন বলেন, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে এ রকম অবস্থার সৃষ্টি হতো না।

আর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আজীম উদ্দিন সরদারও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়হীনতার কথা তুলে ধরে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।